নিজস্ব প্রতিনিধি, জলপাইগুড়ি: টানা শুষ্ক আবহাওয়ার জেরে কয়েকদিন ধরে দাবানলে পুড়ছিল সিকিমের একাধিক জঙ্গল। এরইমাঝে পূর্ব সিকিমের ছাঙ্গু ও নাথু লা রেঞ্জে ভারী তুষারপাতের কারণে আটকে পড়লেন পর্যটকরা। রাস্তায় বরফের পুরু আস্তরণ ভেদ করে এগতে না পারায় সবমিলিয়ে আটকে পড়ে পর্যটকদের প্রায় সাড়ে তিনশো গাড়ি।
ছাঙ্গুর কাছে জওহরলাল নেহেরু রোডে শুধুমাত্র সিপসু ও ১৬ মাইলের মাঝে রবিবার আটকে যায় পর্যটকদের দেড়শো গাড়ি। আচমকা প্রবল তুষারপাতের কারণে তাপমাত্রা হিমাঙ্কে নেমে আসায় পরিস্থিতি হয়ে ওঠে ঘোরতর। এরপরই দ্রুত পর্যটকদের উদ্ধার অভিযানে নামে সেনাবাহিনী। তাদের সঙ্গে উদ্ধারকাজে হাত লাগায় পুলিশ ও জেনারেল রিজার্ভ ইঞ্জিনিয়ার ফোর্স (জিআরইএফ)। শেরথাং এলাকায় বন্ধ করে দেওয়া হয় যান চলাচল। ‘আইস কাটার’ মেশিন নামিয়ে রাস্তা পরিষ্কার করে আটকে পড়া গাড়িগুলিকে নিরাপদ স্থানে পাঠানোর চেষ্টা হয়। সোমবার সন্ধ্যা পর্যন্ত মহিলা ও শিশু সহ ৪৬ জন পর্যটককে উদ্ধার করে নিয়ে আসা হয়েছে ১৭ মাইলে সেনাবাহিনীর ট্রানজিট ক্যাম্পে। তাদের জন্য সেখানে ব্যবস্থা করা হয়েছে খাবার, পানীয়জল, গরম পোশাক এবং প্রয়োজনীয় ওষুধপত্রের। ধীরে ধীরে ফেরত পাঠানো হচ্ছে তাদের। আটকে পড়া পর্যটকদের মধ্যে অনেকেই বাঙালি রয়েছেন।
সেনাবাহিনীর জনসংযোগ আধিকারিক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মহেন্দ্র রাওয়াত বলেন, পর্যটকরা নিরাপদে আছেন। তাঁদের উদ্ধার করে ফেরত পাঠানো হচ্ছে। হিমালয়ান হসপিটালিটি অ্যান্ড ট্যুরিজম ডেভেলপমেন্ট নেটওয়ার্কের সম্পাদক সম্রাট সান্যাল জানিয়েছেন, ছাঙ্গু ও নাথু লা রেঞ্জে প্রবল তুষারপাতের জেরে হাজার খানেক পর্যটক আটকে পড়েন। তাঁদের মধ্যে এরাজ্যেরও অনেকে ছিলেন। পর্যটকরা প্রত্যেকে নিরাপদে আছেন। অনেকেই ফিরছেন। এদিন ছাঙ্গুর পথে পর্যটকদের যাওয়ার পারমিট দেওয়া হয়নি। সিকিমের আবহাওয়াবিদ গোপীনাথ রাহা বলেন, টানা শুষ্ক আবহাওয়ার জেরে দু’দিন আগেই মঙ্গন সহ বিভিন্ন বনাঞ্চলে দাবানলের ঘটনা ঘটে। এখন বৃষ্টি শুরু হলেও তা সর্বত্র হচ্ছে না। তবে পূর্ব ও উত্তর সিকিমের উঁচু এলাকায় আচমকা তুষারপাত শুরু হয়েছে।