ফুলবাড়িতে উদ্ধার বিপুল ক্রিস্টাল মেথ, ‘টেরর ফান্ডিং’ কি না, ভাবাচ্ছে গোয়েন্দাদের
বর্তমান | ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
তারক চক্রবর্তী, শিলিগুড়ি: উত্তর-পুর্ব ভারতের ‘টেরর ফান্ডিং’ বা জঙ্গি কার্যকলাপের টাকা জোগাচ্ছে মাদক! সম্প্রতি রাজ্য পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্স বা এসটিএফের অভিযানের পর এমন প্রশ্নই ঘুরপাক খাচ্ছে পুলিশের শীর্ষ কর্তাদের মাথায়। রবিবার শিলিগুড়ির উপকণ্ঠে ফুলবাড়ি থেকে উদ্ধার হয় এক কেজির বেশি ক্রিস্টাল মেথ। এই মাদকের বিজ্ঞানসম্মত নাম ক্রিস্টাল মেথামফেটামাইন। এই ধরনের মাদক তৈরি করতে রীতিমতো ল্যাবরেটরির প্রয়োজন হয়।
উত্তরবঙ্গে একাধিক জেলা পুলিশের র্যাডারে ধরা পড়া মাদক যেমন গাঁজা, ব্রাউন সুগারের থেকেও ভয়ঙ্কর এই ক্রিস্টাল মেথ। এই ধরনের মাদক সচরাচর পুলিশের হাতে না ধরা পড়লেও আচমকাই এমন মাদক ধরা পড়তেই চিন্তিত তদন্তকারী অফিসাররা। পুলিশের একটি সূত্রে জানা গিয়েছে, মণিপুর থেকে মালদহে এই মাদক নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। সেখান থেকে তা উত্তরবঙ্গজুড়ে ছড়িয়ে দেওয়ার ছক কষা হয়েছিল। অত্যন্ত মূল্যবান এই মাদক ‘সিন্থেটিক ড্রাগ’ হিসাবে পরিচিত।
উত্তর-পূর্ব ভারতে আলাদা করে জঙ্গি কার্যকলাপ চালু রাখার টাকা জোগাতে কোনো সংগঠন এই ধরনের ল্যাব তৈরি করে এমন মাদক তৈরি করছে, নাকি মায়ানমার, চীন থেকে এমন মাদক সীমান্ত পার করে এপারে পাঠানো হয়েছে, তা জানতেই ধৃত তিনজনকে জেরা করে পুঙ্খানুপুঙ্খ বিশ্লেষণ শুরু করেছেন তদন্তের দায়িত্ব পাওয়া পুলিশ অফিসাররা।
এই প্রসঙ্গে পুলিশের উত্তরবঙ্গের আইজি রাজেশ যাদব বলেন, জঙ্গি কার্যকলাপের সঙ্গে মাদক পাচারের সরাসরি কোনো সম্পর্ক রয়েছে কি না তা স্পষ্ট নয়। তবে আমরা ইয়াবা থেকে শুরু করে এই ধরনের মাদক পদার্থ ধরা পড়লে অবশ্যই সবদিক খতিয়ে দেখতে তদন্ত করে থাকি।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ক্রিস্টাল মেথ, ইয়াবা ট্যাবলেট জাতীয় মাদক পদার্থ মূলত ল্যাবরেটরিতেই তৈরি করা হয়ে থাকে। এরপর তা ছড়িয়ে দেওয়া হয়। পুলিশের তদন্তকারীদের একাংশের দাবি, বিগত কয়েক বছরের ঘটনা প্রবাহ দেখে জানা গিয়েছে, উত্তর-পূর্ব ভারতের বেশ কয়েকটি জঙ্গি সংগঠন এখনও মণিপুর, মিজোরাম, অরুণাচলপ্রদেশ সহ একাধিক এলাকায় নিজেদের সংগঠনকে বাঁচাতে চেষ্টা চালাচ্ছে। তাদের টাকা জোগাতে ভারতের প্রতিবেশী রাষ্ট্র মায়ানমার, চীন থেকে গোপনে সেখানকার কিছু সংগঠন মদত করে থাকে। সংগঠন বাঁচাতে প্রয়োজনীয় টাকা জোগাতে সবচেয়ে সহজ উৎস হিসাবে মাদক পাচারকে কাজে লাগানো হয় বলে পুলিশের একটি সূত্রে জানা গিয়েছে। সেক্ষেত্রে সীমান্ত পার করে এপারে এসে কোনো মাদক পাচারকারী সংগঠনের সদস্যরা জঙ্গি সংগঠনকে টাকা দিয়ে ল্যাব তৈরি করে এই ধরনের ক্ষতিকারক মাদক তৈরি করছে কি না, সেই প্রশ্নের উত্তরই হাতড়াচ্ছেন গোয়েন্দারা।