রাজ্য সরকারি প্রকল্পের রেশন গ্রাহকদের জন্য প্রয়োজনীয় ধান কেনার প্রক্রিয়া শেষ
বর্তমান | ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: রাজ্য সরকারের নিজস্ব প্রকল্পের আওতাধীন রেশন গ্রাহকদের জন্য চলতি বছরে চালের জোগান নিশ্চিত হয়ে গেল ফেব্রুয়ারি মাসেই। খাদ্যদপ্তরের সাম্প্রতিক পর্যালোচনা রিপোর্টে বলা হয়েছে, স্টেট পুলের চালের জন্য যে পরিমাণ ধান চাষিদের কাছ থেকে কেনার প্রয়োজন ছিল, সেই লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হয়ে গিয়েছে। এখন থেকে শুধু সেন্ট্রাল পুলের চালের জন্য ধান কেনা হবে। রাজ্য সরকার নিজস্ব ভরতুকিতে তিন কোটির কাছাকাছি রেশন গ্রাহককে প্রতি মাসে মাথা পিছু ২ কেজি থেকে ৫ কেজি করে চাল দেয়। স্টেট পুলে এই চাল রাখা হয়।
সেন্ট্রাল পুলের জন্যও রাজ্য সরকার ধান সংগ্রহ করে। জাতীয় খাদ্য সুরক্ষা প্রকল্পের আওতাধীন প্রায় ৬ কোটি রেশন গ্রাহক আছেন রাজ্যে। তাঁদের সেন্ট্রাল পুল থেকে চাল দেওয়া হয়। কেন্দ্রীয় সরকার অবশ্য এই ধান কিনতে রাজ্য সরকারকে অগ্রিম কোনো টাকা দেয় না। রাজ্য নিজস্ব তহবিল থেকে টাকা খরচ করে এই ধান কেন। পরবর্তীকালে ধান থেকে চাল উৎপাদন হলে দফায় দফায় টাকা পাঠানো হয়। কিন্তু এই টাকা পেতে অনেক দেরি হয়ে যায়। অনেক সময় বকেয়ার পরিমাণ ৬-৭ হাজার কোটি টাকায় পৌঁছে যায়। তারপরও জাতীয় প্রকল্পের আওতাধীন গ্রাহকদের কাছে চাল পৌঁছে দিতে রাজ্য সরকারকে পরিবহণ, রাইস মিলে চাল উৎপাদন ও প্যাকেজিং বাবদ খরচ, রেশন ডিলার ও ডিস্ট্রিবিউটরদের কমিশনের একটা অংশ বহন করতে হয়। যদিও কেন্দ্র জোর গলায় দাবি করে, তারাই রেশনের খাদ্যসামগ্রী বিনা পয়সায় সরবরাহ করছে।
চলতি খরিফ মরশুমে রাজ্য সরকার মোট ৬৭ লক্ষ টন ধান কেনার লক্ষ্যমাত্রা নেয়। এর মধ্যে ৪১.১৫ লক্ষ টন ধান সেন্ট্রাল পুল ও ২৫.৮৫ লক্ষ টন ধান স্টেট পুলের জন্য। এই ধান থেকে মোট ৪৫ .৫৬ লক্ষ টন চাল পাওয়া যাবে। এর মধ্যে ২৭.৯৮ লক্ষ টন চাল যাবে সেন্ট্রাল পুলে। ১৭.৪৬ লক্ষ টন চাল যাবে স্টেট পুলে। খাদ্যদপ্তরের সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এখনো পর্যন্ত প্রায় ৪৩ লক্ষ টন ধান কেনা হয়েছে। ২৪ লক্ষ ছোটো ও প্রান্তিক চাষি সরকারের কাছে ধান বিক্রি করেছেন। এবারের খরিফ মরশুমে এখনো পর্যন্ত ৩২ লক্ষ চাষি সরকারের কাছে ধান বিক্রি করার জন্য নাম নথিভুক্ত করেছেন। রাজ্য খাদ্য দপ্তরের রিপোর্ট অনুযায়ী, এখন দিনে ৫০,০০০ টন ধান চাষিদের কাছ থেকে কেনা হচ্ছে। যেসব জেলা ধান কেনায় পিছিয়ে আছে, তাদের গতি বাড়ানোর জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কিন্তু রাইস মিলগুলিতে যে পরিমাণ ‘এফআরকে’ বা ‘ফর্টিফায়েড রাইস কারনেল’ আছে, সেই অনুযায়ী পুষ্টিকর চাল উৎপাদন হচ্ছে না বলেও রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে। তাই রাইস মিলগুলির উপর নজর রেখে সেই মতো ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে জেলার আধিকারিকদের।