কেন্দ্রীয় সংস্থাকে জমি দিতে মন্ত্রিগোষ্ঠী গড়লেন মুখ্যমন্ত্রী
বর্তমান | ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
প্রীতেশ বসু, কলকাতা: কেন্দ্রীয় সরকারের বিভিন্ন সংস্থাকে সরকারি বা বেসরকারি জমি হস্তান্তরের প্রস্তাবগুলি দ্রুত পর্যালোচনা করতে মন্ত্রিগোষ্ঠী (গ্রুপ অব মিনিস্টার্স) গঠন করে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। পুরমন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম, বিদ্যুৎমন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস এবং ভূমিসংস্কার দপ্তরের প্রতিমন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যকে নিয়ে এই তিন সদস্যের মন্ত্রিগোষ্ঠী গঠিত হয়েছে।
সীমান্তে কাঁটাতার দিতে জমি দেওয়া হচ্ছে না বলেও কয়েক সপ্তাহ আগেও পশ্চিমবঙ্গে এসে অভিযোগ করে গিয়েছেন অমিত শাহ। তবে বাস্তব ছিল অন্য! প্রশাসনিক রিপোর্টে দাবি করা হয়, রাজ্য মন্ত্রিসভায় অনুমোদিত প্রায় ২০০ একর জমি কেনার টাকাই এখনও বরাদ্দ করেনি কেন্দ্র। সেই সঙ্গে প্রায় ১৭০ কিমি অসুরক্ষিত সীমান্ত বরাবর কাঁটাতারের বেড়া দেওয়ার ‘ফর্মাল প্রপোজাল’ দেওয়াই হয়নি রাজ্যকে। যদিও সীমান্তে কাঁটাতার দেওয়ার জন্য জমি কিনতে কেন্দ্র ইতিমধ্যে যে টাকা দিয়েছে, রাজ্যকে তা ৩১ মার্চের মধ্যে শেষ করতে হবে বলে নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট। একইভাবে রেল সহ অন্যান্য কেন্দ্রীয় সংস্থার প্রকল্পের জন্য জমি বরাদ্দের অভিযোগও নস্যাৎ করেছে নবান্ন। এখানেই শেষ নয়! ইন্ডিয়ান কোস্ট গার্ডের মতো সংস্থার জন্য জমি দেওয়ার অনুমোদন থাকলেও চার বছর পর অর্থ বরাদ্দ করে কেন্দ্র। বিএসএফ, রেল, জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষ ছাড়াও রাজ্যের থেকে মাঝেমধ্যেই জমি চেয়ে থাকে এসএসবি, সেনা, নবোদয় বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এবং বিভিন্ন মন্ত্রক।
এই পরিস্থিতিতে মন্ত্রিসভা গঠন বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ পদক্ষেপ বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। কারণ, কেন্দ্রের তরফে দেওয়া সমস্ত প্রস্তাব খতিয়ে দেখবে এই মন্ত্রিগোষ্ঠী। রাজ্য কেন্দ্রের প্রয়োজনে জমি দিতে যে প্রস্তুত, এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে সেই বার্তাই দেওয়া হয়েছে বলে জানাচ্ছেন অভিজ্ঞ আমলারা। চালু নিয়ম হল, কেন্দ্র জমি চাইলে সেই প্রস্তাব খতিয়ে দেখা হয় আধিকারিক স্তরে। ভ্যালুয়েশন সহ জমি হস্তান্তরের বিভিন্ন দিক খতিয়ে দেখে ভূমিসংস্কার এবং অর্থদপ্তর। তারপর ছাড়পত্র দেয় মন্ত্রিসভা। এই নিয়ম থাকছেই। তবে এবার থেকে এই প্রশাসনিক প্রক্রিয়া শুরুর আগেই বিষয়টি খতিয়ে দেখবে মন্ত্রিগোষ্ঠী।
১৬ ফেব্রুয়ারি এই মন্ত্রিগোষ্ঠী গঠনের বিজ্ঞপ্তি জারি করে নবান্ন। তাতে বলা হয়েছে, ‘কেন্দ্রীয় সরকারের বিভিন্ন সংস্থাকে জমি প্রদান সংক্রান্ত যে প্রস্তাবগুলি রয়েছে, সেগুলি দ্রুত পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় সুপারিশ পেশ করবে এই কমিটি।’ জমি সংক্রান্ত বিষয়ে রাজ্যের অবস্থান ও নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সিদ্ধান্ত গ্রহণের লক্ষ্যেই এই পদক্ষেপ বলে প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে। ভূমি ও ভূমিসংস্কার দপ্তরের সচিব এই মন্ত্রিগোষ্ঠীকে সহায়তা করবেন। পাশাপাশি স্বরাষ্ট্র, শিল্প এবং পরিবহণ দপ্তরের শীর্ষ আধিকারিকরাও বৈঠকে অংশ নেবেন। আগামী ২৭ ফেব্রুয়ারি মন্ত্রিগোষ্ঠীর বৈঠকের সম্ভাবনা আছে বলে সূত্রের খবর।