• বাংলাতেই তিন-চারটি লস্কর মডিউল সক্রিয় করেছে উমর, জেরায় জেনেছে দিল্লি পুলিশ, গোটা দেশে তল্লাশি
    বর্তমান | ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: লস্কর সুপ্রিমো হাফিজ সইদের হুমকি ছিল, ভারত বিরোধী সন্ত্রাসের লঞ্চপ্যাড হিসাবে এবার ব্যবহার হবে বাংলাদেশের মাটি। সেটা যে ফাঁকা আওয়াজ নয়, তার প্রমাণ মিলছে। সীমান্তের এপারে বসেই প্ল্যান এগজিকিউট করার ব্লু-প্রিন্ট লস্কর সাজিয়ে ফেলেছে। তার হদিশ মিলল আট জঙ্গি গ্রেপ্তারের পর। সেই সন্ত্রাসবাদী চক্রের মাথা? উমর ফারুক। মালদহের বাসিন্দা। খাস নিউটাউনকে ‘লীলাক্ষেত্র’ বানিয়ে অত্যন্ত গোপনে চলছিল তার মডিউল তৈরির কাজ। জেরায় এই তথ্যই ফাঁস করেছে ধৃত ফারুক।

    গোটা দেশে শুরু হয়ে গিয়েছে তল্লাশি। জাল কতদূর ছড়িয়েছে লস্করের এই জঙ্গি? দিল্লি পুলিশ সূত্রে খবর, পুরো প্ল্যানিংটাই হয়েছে বাংলাদেশে। লস্কর হ্যান্ডলার সাবির লোনের নির্দেশ ছিল, জাল ছড়াতে হবে গোটা ভারতে। তার জন্য যত টাকা লাগবে, সে জোগাবে। ফারুকের ফোন অ্যানালাইজ করে পুলিশ জানতে পেরেছে, অস্ত্র জোগাড়ের কাজ শুরু করে দিয়েছিল সে। মূলত ছোটো আগ্নেয়াস্ত্র। স্থানীয় স্তরে যারা অস্ত্রের কারবার করে, তাদেরই টার্গেট করেছিল ফারুক। অস্ত্র কারবারিদের সঙ্গে হোয়াটসঅ্যাপে কথোপকথন হাতে এসে গিয়েছে দিল্লি পুলিশের স্পেশাল সেলের। আর বিস্ফোরক তৈরির কাঁচামাল কিনেছিল অনলাইনে। সঙ্গে চলছিল নতুন লস্কর মডিউল তৈরি এবং ছড়িয়ে ছিটিয়ে যাওয়া মডিউল ফের সক্রিয় করার কাজ। লোনের নির্দেশ মতো বাংলা এবং ভারতের অন্যান্য প্রান্তে ছড়িয়ে থাকা বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীদের খুঁজে বের করতে শুরু করে সে। বাংলাদেশি জঙ্গি সংগঠন জামাতের স্লিপার সেল অ্যাকটিভ করার প্ল্যানও তাদের ছিল বলে জানতে পেরেছেন গোয়েন্দারা।

    দিল্লি পুলিশ সূত্রে খবর, দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে অনুপ্রবেশকারী বাংলাদেশিদের খুঁজে বের করে তাদের বড়ো অঙ্কের টোপ দেয় ফারুক। নিয়ে আসে সংগঠনে। কলকাতার ঠিকানায় তৈরি হয় তাদের ভুয়ো আধার, প্যান কার্ড। পুরো কর্মকাণ্ডেই তার সহযোগী রবিউল। ইতিমধ্যে নদীয়া, মুর্শিদাবাদ, উত্তরবঙ্গের করণদিঘি সহ বাংলারই মোট চারটি জায়গায় লস্কর মডিউল তারা তৈরি করেছে বলে খবর গোয়েন্দাদের কাছে। মডিউলই আপাতদৃষ্টিতে ফারুক নিয়ন্ত্রণ করত কলকাতায় বসে। যদিও সুতো বাঁধা বাংলাদেশ এবং পাকিস্তানে। ফারুকের মোবাইলে লস্করের ট্রেনিংয়ের ভিডিয়ো পর্যন্ত মিলেছে। সেই ছবির পাশাপাশি, রাজ্যের যে সব জায়গায় সে ও রবিউল রেকি করেছিল, তার ভিডিয়ো পর্যন্ত লোনকে পাঠানো হয়েছে। ফারুক জানিয়েছে, গত বছর মার্চ মাসে সে সংস্পর্শে আসে লোনের। মালদহ সীমান্ত পেরিয়ে গিয়েছিল বাংলাদেশ। ঘুঁটি সাজিয়ে ফেলা হয় তখনই। কিন্তু বড়ো নির্দেশ আসে ডিসেম্বরে। দিল্লি যাওয়ার নির্দেশ। তার জন্য যাবতীয় খরচ, এমনকি প্লেনভাড়া পর্যন্ত এসেছিল বাংলাদেশ থেকে। মূলত অবৈধ মানি এক্সচেঞ্জ, এমনকি ইউপিআই মারফতও টাকা এসেছে ফারুকের অ্যাকাউন্টে। ৬ ফেব্রুয়ারি তারা দিল্লি যায়। ফেরে দু’দিন পর। দিল্লিতে কাশ্মীরি গেট মেট্রো স্টেশনের সামনে পোস্টার সাঁটার ফুটেজ দেখেই টনক নড়ে পুলিশের।
  • Link to this news (বর্তমান)