• বঙ্গে ভোটারদের খোলা চিঠিতে ‘জয় মা কালী’, অনুপ্রবেশ-নাগরিকত্বেই মরিয়া মোদি
    বর্তমান | ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: বঙ্গে বিধানসভা ভোট! ক্ষমতা দখলে মরিয়া হয়ে ‘বাঙালি সাজার’ প্রাণপাত চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে গেরুয়া শিবির। সেই পর্বে কখনও ‘বঙ্কিমদা’, কখনও ‘মাস্টার সূর্য সেন’, আবার কখনও রামকৃষ্ণ পরমহংসদেবের নামের সঙ্গে ‘স্বামী’ জুড়ে বিতর্ক বাড়িয়েছেন বিজেপির পোস্টার বয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি স্বয়ং। এবার অবশ্য কোনো ভুল করেননি। ‘জয় শ্রীরাম’ ধ্বনি দিতে অভ্যস্ত প্রধানমন্ত্রী খোলা চিঠিতে ‘আমার প্রিয় পশ্চিমবঙ্গবাসী’ সম্বোধন করার সঙ্গেই লিখছেন ‘জয় মা কালী’ও।

    এসআইআরের মাধ্যমে স্বচ্ছ ভোটার তালিকা তৈরির কাজ শুরু হয়েছে বাংলায়। খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশের পর শুনানি পর্বেও হাতড়ে বেড়াতে হয়েছে, বিজেপি নেতাদের বর্ণিত সেই এক কোটি অনুপ্রবেশকারী বাংলাদেশি কোথায়? কোথায় গেল এ রাজ্যে আশ্রয় নেওয়া মায়ানমারের রোহিঙ্গারা? বরং বাংলাদেশ থেকে আসা হিন্দু উদ্বাস্তু-শরণার্থীদের একটা বড়ো যে অংশের (বিশেষ করে মতুয়া জনগোষ্ঠী) নাম ভোটার তালিকায় বাদ যাওয়ার সম্ভাবনা আরও প্রবল হয়েছে। তা সত্ত্বেও খোলা চিঠিতে প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট বুঝিয়ে দিয়েছেন, অনুপ্রবেশ আর নাগরিকত্ব ইস্যুকে অস্ত্র বানাতেই মরিয়া তিনি। গত কয়েকটি নির্বাচনের মতো এবারও পশ্চিমবঙ্গের ভোট প্রচারে ‘ব্যবহার’ করা হবে এই দুই ‘তাস’।
    রাজনৈতিক মহলের বক্তব্য, এরাজ্যের ‘মতুয়া গড়’ বলে পরিচিত উত্তর ২৪ পরগনার বনগাঁ এবং নদীয়ার রানাঘাট মহকুমার বিভিন্ন বিধানসভা কেন্দ্র ধরলে তিন লক্ষেরও বেশি মানুষের নাম বাদ পড়তে চলেছে ভোটার তালিকা থেকে। তাদের সিংহভাগই মতুয়া। গত ১০ বছর ধরে ভারতীয় নাগরিকত্বের ‘খুড়োর কল’ ঝুলিয়ে রেখে এই জনগোষ্ঠীকে কার্যত ভোটব্যাংক হিসেবেই ব্যবহার করেছে পদ্মপার্টি। কিন্তু এসআইআর বুঝিয়ে দিয়েছে, নাগরিকত্ব দূরঅস্ত! ভোটার তালিকায় ওই জনগোষ্ঠীর একটা বড়ো অংশের নাম থাকাই এখন সংশয়ে। আর তাই মতুয়া জনগোষ্ঠীর ক্ষোভের ক্ষতে ফের প্রলেপ দেওয়ার চেষ্টা চালানো হয়েছে প্রধানমন্ত্রী খোলা চিঠিতে। সেখানে লেখা হয়েছে— ‘ধর্মীয় হিংসার শিকার আমাদের শরণার্থী ভাই-বোনেরা সিএএ-র মাধ্যমে নাগরিকত্ব পাবেন এবং অবৈধ অনুপ্রবেশমুক্ত এক সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হবে আমার পশ্চিমবঙ্গে।’ চিঠিতে ‘বিকশিত পশ্চিমবঙ্গ’ গড়ার শপথ গ্রহণ করার কথা শুনিয়েছেন মোদি। সেই প্রেক্ষিতে বঙ্গে ভোটারদের কাছে তাঁর আকুতি— ‘আপনাদের সেবা করার একটি সুযোগের জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছি। এমন একটা সুযোগ, যেখানে কবিগুরুর ভাষায় ‘চিত্ত যেথা ভয়শূন্য, উচ্চ যেথা শির,’ সেখানে দুর্নীতি ও অপশাসন থেকে মিলবে মুক্তি।’

    খোলা চিঠিতে রাজ্যের মা-বোনেদের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। এমন একটা রাজ্যের জন্য তাঁর এই প্রতিশ্রুতি, যার রাজধানী কলকাতা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের আওতাধীন ন্যাশনাল ক্রাইম রেকর্ড ব্যুরোর (এনসিআরবি) শেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী মহিলাদের জন্য সবচেয়ে নিরাপদ মহানগরী। ধর্ষণ-খুনে এগিয়ে রয়েছে জয়পুর, দিল্লি, ইন্দোর, নাগপুর, জয়পুর ও পাটনার মতো শহরগুলি। সবক’টিই ডবল ইঞ্জিন রাজ্যের। চিঠিতে ‘উজ্জ্বলা যোজনা’র মাধ্যমে এক কোটিরও বেশি পরিবারে রান্নার গ্যাসের সংযোগ দেওয়ার দাবি করা হয়েছে। অথচ এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের সমীক্ষা রিপোর্ট বলছে, গ্যাস কেনার সামর্থ্য নেই ৮১ শতাংশ দেশবাসীর। রাজ্যে ৫ কোটি মানুষ জন-ধন-যোজনার মাধ্যমে ব্যাংকিং পরিষেবায় যুক্ত, এমনটা চিঠিতে লিখেছেন প্রধানমন্ত্রী। কিন্তু গত বছরের নভেম্বরে কেন্দ্রেরই পরিসংখ্যান জানিয়েছে, লেনদেন বন্ধ থাকায় বাংলার প্রায় এক কোটি জন-ধন অ্যাকাউন্ট নিষ্ক্রিয় হয়ে রয়েছে।
  • Link to this news (বর্তমান)