• ১০ মার্চের আগে অতিরিক্ত তালিকা প্রকাশ নয়, নথির পাহাড়, কত ভোটারের তথ্য যাচাই? প্রতি ঘণ্টায় বাড়ছে জেলাওয়াড়ি হিসাব
    বর্তমান | ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ২৮ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত হচ্ছে চূড়ান্ত ভোটার তালিকার প্রথম পর্ব। রাজ্যের সবক’টি জেলা তালিকা প্রকাশের জন্য প্রস্তুত। কিন্তু কবে নাগাদ দ্বিতীয় তালিকা প্রকাশ হবে? প্রশ্ন সেখানেই। কারণ, নিষ্পত্তি না হওয়া নথির সংখ্যা লাফিয়ে বাড়ছে। ফলে ঠিক কবে নাগাদ কাজ শেষ করা যাবে, তা নিয়ে জটিলতা তৈরি হচ্ছে। সূত্রের খবর, কোনোভাবেই ১০ মার্চের আগে দ্বিতীয় তালিকা প্রকাশ সম্ভব নয়।

    সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশিকা মতো ইতিমধ্যেই চূড়ান্ত যাচাই প্রক্রিয়ার প্রস্তুতি হিসাবে বিচারকদের লগ ইন আইডি তৈরি হয়ে গিয়েছে। পাশাপাশি কীভাবে পোর্টালে নথি নিষ্পত্তির কাজ হবে, সেই সংক্রান্ত খুঁটিনাটি হাতেকলমে পরখ করেছেন হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি নিযুক্ত অন্তত ২৫০ জন বিচারক। দফায় দফায় মুখ্য নির্বাচনি আধিকারিক, মুখ্যসচিব সহ শীর্ষ আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠক সেরেছেন কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল। ভোটের বাহিনী মোতায়েন ও রাজ্যের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি যাচাই করতে রাজ্য পুলিশের শীর্ষ আধিকারিক ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর নোডাল অফিসারদের সঙ্গে পৃথক একটি বৈঠকও করে কমিশন। তবে কমিশনের সঙ্গে প্রধান বিচারপতির এদিনের বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন মুখ্য নির্বাচনি আধিকারিক মনোজ আগরওয়াল, মুখ্যসচিব সহ রাজ্য প্রশাসন ও কমিশনের একাধিক শীর্ষ কর্তা। সূত্রের খবর, প্রধান বিচারপতি তাঁদের স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, শীর্ষ আদালতের নির্দেশ মোতাবেকই কাজ করতে হবে। পাশাপাশি, কমিশনকে প্রতিদিন কাজের অগ্রগতির রিপোর্ট হাইকোর্টে জমা দিতে হবে। শুধু তাই নয়, এদিন কী কাজ হয়েছে এবং কোন নিয়ম মেনে আগামী দিনে এগতে হবে, সে ব্যাপারে একটি সুস্পষ্ট নির্দেশিকাও বৈঠকে চূড়ান্ত করা হয়েছে বলে খবর। নথি যাচাইয়ের জন্য যে পোর্টাল কমিশন তৈরি করেছে, তা দেখানো হয়েছে প্রধান বিচারপতিকে।

    তবে এদিন বিচারকদের প্রশিক্ষণ প্রক্রিয়ার শুরুতেই ওটিপি সহ বেশ কিছু প্রযুক্তিগত সমস্যা দেখা দেয়। বেলার দিকে তা মিটিয়ে ফেলা হয় বলে জানিয়েছেন মুখ্য নির্বাচনি আধিকারিক মনোজ আগরওয়াল। পোর্টালে কীভাবে নথি আপলোড, যাচাই ও নিষ্পত্তি করা হবে, সেই সংক্রান্ত গোটা প্রক্রিয়া বিস্তারিতভাবে দেখানো হয়। সূত্রের খবর, কমিশনের আইটি হেড সীমা খান্নার নেতৃত্বাধীন ওই প্রতিনিধি দলের তরফে বিচারকদের জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, স্বতন্ত্রভাবে বিচারকদের যাবতীয় নথি নিষ্পত্তি করতে হবে। এক্ষেত্রে তাঁরা সংশ্লিষ্ট ভোটারের জমা দেওয়া নথির প্রেক্ষিতে ইআরও বা মাইক্রো অবজার্ভারদের ‘মন্তব্য’ সংক্রান্ত অংশ দেখতে পাবেন না। জমা পড়া নথির ভিত্তিতেই তাঁদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে হবে।

    জানা যাচ্ছে, প্রশিক্ষণের পর আজ, মঙ্গলবার পুরোদমে নথি যাচাইয়ের কাজ শুরু করে দেবেন দায়িত্বপ্রাপ্ত বিচারকরা। কিন্তু প্রশ্ন উঠছে, যে বিপুল সংখ্যক নথি যাচাই করে তাঁদের নিষ্পত্তি করতে হবে, সেই কাজ কত দিনে শেষ হবে? কমিশনের হিসাব মতো, ইতিমধ্যেই এমন ৫০ লক্ষ নথির হিসাব রয়েছে। উপরন্তু একাধিক জেলা থেকে চূড়ান্ত হিসাব এসে পৌঁছানো বাকি। ফলে ঠিক কত সংখ্যক পাহাড়প্রমাণ নথি যাচাই করতে হবে, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। কমিশনের আধিকারিকদের একাংশের বক্তব্য, ১০ মার্চের আগে এই কাজ শেষ হওয়া মুশকিল। যাতে বিচারকরা দ্রুত এই কাজ শেষ করতে পারেন, সে ব্যাপারে কমিশনের তরফে সবরকম সাহায্য করা হবে বলেও জানাচ্ছেন তাঁরা।
  • Link to this news (বর্তমান)