নিজস্ব প্রতিনিধি, চুঁচুড়া: দীর্ঘ টালবাহানার পরে পোর্ট ট্রাস্ট থেকে মিলল ছাড়পত্র। তাতেই হুগলি জেলায় পরিবেশবান্ধব ব্যবস্থায় প্রতিমা বিসর্জনের পথ সুগম হল। বস্তুত ছাড়পত্র মিলতেই কাজে নেমে পড়েছে কোন্নগর পুরসভা। কোন্নগরে গঙ্গার পাড়েই পরিবেশবান্ধব পদ্ধতিতে প্রতিমা বিসর্জনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। ২০২৪ সাল থেকে যন্ত্রের মাধ্যমে প্রতিমা বিসর্জনের চেষ্টা করেছিল পুরসভা। কিন্তু পোর্ট ট্রাস্টের নানা টালবাহানায় সেই কাজ শুরু করা যায়নি। অবশেষে কেন্দ্রীয় দপ্তরের সবুজ সংকেত পাওয়ায় খুশির হাওয়া পুর মহলে।
কোন্নগর পুরসভার চেয়ারম্যান স্বপন দাস বলেন, বহু টালবাহানার পরে পোর্ট ট্রাস্ট আমাদের পরিবেশবান্ধব পদ্ধতিতে প্রতিমা বিসর্জনের অনুমোদন দিয়েছে। কোন্নগরে গঙ্গাপাড়ে সাধুঘাটে এই ব্যবস্থা গড়ে তোলা হচ্ছে। কেন্দ্রের ছাড়পত্র চলে আসায় এখন আর কোনো সমস্যা থাকল না। এবার আমরা দ্রুত কাজে নেমে পড়ব। থাকবে স্থায়ী পাটাতন। ক্রেনে বাঁধা কপিকলের মাধ্যমে প্রতিমাকে গঙ্গায় একবার চুবিয়েই তুলে ওই পাটাতনের উপর রাখা হবে। তারপর তা মেশিন ঘরে পাঠানো হবে। সেখানে জলের তোড়ে গলিয়ে ফেলা হবে মাটি। আলাদা হবে বাঁশ, কাঠামো সহ বর্জ্যগুলি। মাটি ধোয়া জলকে পরিস্রুত করে ফের ব্যবহারযোগ্য করে তোলা যাবে। এভাবেই সম্পূর্ণ যন্ত্রচালিত পদ্ধতিতে বিসর্জনের ব্যবস্থা করা হবে। এর ফলে গঙ্গা দূষণকে যেমন রোধ করা যাবে, তেমনই গোটা বিষয়টি পরিবেশবান্ধব হবে। যেহেতু কাউকেই গঙ্গায় নামতে হবে না, তাই দুর্ঘটনার সংখ্যাকেও শূন্যে নামিয়ে আনা যাবে বলে মন্তব্য করেন স্বপনবাবু।
পুরসভা সূত্রে খবর, পোর্ট ট্রাস্ট্রের টালবাহানার জন্য কাজ শুরু করতে দেরি হয়ে গিয়েছে। ২০২৪ সালে প্রকল্পটি অনুমোদন করেছিল পুরসভা। সেই সময়ের হিসেবে ধরা হয়েছিল খরচ। এই দু’বছরে সেই খরচের পরিমাণ অনেকটাই বাড়বে। চেয়ারম্যান বলেন, পরিবেশ ও নাগরিকদের স্বার্থে প্রকল্পটি হাতে নেওয়া হয়েছে। এবার পুজো মরশুমে নিরঞ্জনপর্ব যন্ত্রচালিত ব্যবস্থার মাধ্যমে করার লক্ষ্য নিয়েছি আমরা। হুগলি জেলার পরিবেশকর্মী গৌতম সরকার বলেন, এই পদ্ধতিতে প্রতিমা নিরঞ্জনের উদ্যোগকে স্বাগত। এর ফলে গঙ্গা দূষণকে যেমন প্রতিহত করা যাবে, তেমনই বেশ কিছু সামাজিক সংকটের মোকাবিলা করা যাবে। আশা করি, দ্রুত এই প্রকল্প কার্যকর হবে।
কোন্নগর পুরসভাই হুগলিতে প্রথম দূষণমুক্ত বিসর্জনের ব্যবস্থা করেছিল। গঙ্গার পাড়ে বিরাট অস্থায়ী জলাধার তৈরি করে বছর চারেক আগে বিসর্জনের ব্যবস্থা করা হয়েছিল। তারপর ক্রেন দিয়ে গঙ্গায় প্রতিমা চুবিয়ে যন্ত্রচালিত পদ্ধতিতে তা গলিয়ে ফেলার কথা ভাবেন পুরকর্তারা। এখন মানুষের উপস্থিতি ছাড়াই সম্পূর্ণ যান্ত্রিকভাবে এবং দূষণ প্রতিরোধী প্রক্রিয়ায় বিসর্জনের ব্যবস্থা চালু হওয়া কেবল সময়ের অপেক্ষা।