মুলতুবি হয়ে গেল কসবা আইন কলেজে গণধর্ষণ মামলার শুনানি
বর্তমান | ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা, বারাসত ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা: এসআইআর সংক্রান্ত কাজে বিচারক যুক্ত থাকায় সোমবার মুলতুবি হয়ে গেল কসবা আইন কলেজ গণধর্ষণ মামলার শুনানি। মামলার শুনানি পিছিয়ে হল আগামী ২৩ মার্চ। আলিপুর আদালতে চলা এই মামলার বিশেষ সরকারি কৌঁসুলি বিভাস চট্টোপাধ্যায় বলেন, ‘সরকার পক্ষ থেকে এদিন আদালতে এক সাইবার বিশেষজ্ঞের সাক্ষ্য দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু মামলার শুনানি না হওয়ার কারণে তিনি ফিরে যেতে বাধ্য হন।’ অন্যদিকে, ধৃতদের তরফে আইনজীবী দিব্যেন্দু ভট্টাচার্য বলেন, ‘এসআইআর সংক্রান্ত কাজে বিচারক ব্যস্ত থাকায় মামলার শুনানি হল না।’ আদালত সূত্রে জানা গিয়েছে, শোরগোল পড়া এই মামলায় ইতিমধ্যে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে চার্জ গঠন প্রক্রিয়া শেষ হয়েছে। কিন্তু নানা আইনি গেরোয় মামলার শুনানি বার বার পিছিয়ে যায়। সরকারি কৌঁসুলি এদিন কিছুটা উষ্মা প্রকাশ করে বলেন, ‘একজন সাক্ষী তিনবার কোর্টে এসেও সাক্ষ্য দিতে না পেরে ফিরে গেলেন।’
দক্ষিণ ২৪ পরগনার ৩১টি বিধানসভার ভোটারদের নথি পরীক্ষা করে দেখার জন্য ২৫ জন বিচারককে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। সোমবার জেলাশাসকের অফিসে একপ্রস্থ আলোচনা হয়েছে। আজ, মঙ্গলবার থেকেই বিভিন্ন ব্লকে গিয়ে কাজ আরম্ভ করেন বিচারকরা। ভোটারদের তথ্যের অসঙ্গতি পরীক্ষা করে দেখবেন ২৫ জন বিচারক। যেসব বিধানসভায় এই তথ্যের অসঙ্গতি থাকা ভোটারের সংখ্যা কম সেখানে একজন বিচারককে একাধিক বিধানসভা দেওয়া হবে। বাকিরা একটি বিধানসভা নিয়েই কাজ করবেন।
একই কারণে উত্তর ২৪ পরগনা জেলাশাসকের দপ্তরে নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে ভার্চুয়াল বৈঠক করেন বিচারকরা। বৈঠকে উপস্থিত থেকে তাঁরা জেলার বর্তমান পরিস্থিতি এবং শুনানি প্রক্রিয়া নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। আজ, মঙ্গলবার থেকে পোর্টালের মাধ্যমে শুনানির রিপোর্ট জমা দেবেন বিচারকরা। সূত্রের খবর, সেই কাজ কীভাবে হবে তা নিয়েই ভার্চুয়াল বৈঠকে বিশেষ বার্তা দিয়েছে নির্বাচন কমিশন।
উত্তর ২৪ পরগনা জেলায় মোট ৩৩টি বিধানসভা কেন্দ্র রয়েছে। এত বিপুল সংখ্যক বিধানসভা কেন্দ্রে শুনানি পরিচালনার জন্য পর্যাপ্ত বিচারক না থাকায় প্রশাসনিক স্তরে কিছুটা সমস্যা তৈরি হতে পারে। বর্তমানে জেলায় বিচারকের সংখ্যা ১৬ জন। ফলে, প্রতিটি বিধানসভা কেন্দ্রের অভিযোগ ও নথি যথাযথভাবে যাচাই করে শুনানি সম্পন্ন করতে সময় ও লোকবলের ঘাটতি দেখা দিতে পারে বলে মনে করছে দপ্তর। এদিন বৈঠকে বিচারকরা নির্বাচন কমিশনের প্রতিনিধিদের কাছে বিষয়টি স্পষ্টভাবে তুলে ধরেন। এই পরিস্থিতিতে কলকাতা হাইকোর্টের বিচারকদেরও এই জেলায় শুনানির কাজে যুক্ত করা হতে পারে।