প্রার্থী ঘোষণার আগেই লাভলির নামে দেওয়াল লিখন, বিতর্ক
বর্তমান | ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, দক্ষিণ ২৪ পরগনা: বিধানসভা ভোট ঘোষণা কবে নিশ্চিত নয়। কোনো দলই প্রার্থী ঘোষণা করেনি এখনও। তারই মধ্যে সোনারপুর দক্ষিণে তৃণমূল কংগ্রেসের কিছু উৎসাহী কর্মী বর্তমান বিধায়ক অরুন্ধতী মৈত্রর (লাভলি) নামে দেওয়াল লিখন শুরু করে দেওয়ায় জলঘোলা শুরু হয়েছে। যদিও কিছুক্ষণ বাদে সেই নাম চুনকাম করে মুছে দেওয়া হয়। মুহূর্তের মধ্যে এই সংক্রান্ত ছবি ছড়িয়ে পড়ে বিভিন্ন মহলে। যা নিয়ে শোরগোল পড়ে যায়। যদিও এই ঘটনা অস্বীকার করেছেন বিধায়ক। তিনি বলেন, নতুন করে কিছু লেখা হয়নি। অনেক আগে নাম লেখা ছিল। সেগুলি চুন দিয়ে মুছে আসন্ন ভোটের জন্য দেওয়াল প্রস্তুত করে রাখা হচ্ছে। প্রার্থী ঘোষণা হওয়ার আগে কারো নাম এভাবে লেখার ধৃষ্টতা আমাদের নেই। জানা গিয়েছে, রাজপুর সোনারপুর পুরসভার ১১ নম্বর ওয়ার্ডে কয়েকটি দেওয়াল চুনকাম করার কাজ করছিলেন কিছু কর্মী-সমর্থক। ‘এই চিহ্নে ভোট দিন’ লিখে তৃণমূলের প্রতীক এঁকে প্রস্তুত করা হয় দেওয়াল। সেই কাজ করতে গিয়ে একটিতে বিধায়কের নাম লেখা হয় বলে অভিযোগ। নাগরিকদের প্রশ্ন, এখনো তো প্রার্থীর নাম ঘোষণা হয়নি, তাহলে কী করে নাম লিখে দেওয়া হল? আবার সেটা মুছেও দিলেন দলের কর্মীরা। যাঁরা বিধায়কের নাম লিখলেন, তাঁরা কি কারও নির্দেশে সেটা করেছেন, সেই প্রশ্নও কিন্তু উঠছে। এই কাণ্ড যে দলকে অস্বস্তিতে ফেলেছে সেটা এক প্রকার স্পষ্ট। যদিও এর দায় কর্মীদের একাংশের উপরেই চাপাচ্ছে নেতৃত্ব। তৃণমূলের যাদবপুর ডায়মন্ডহারবার সাংগঠনিক জেলার সভাপতি শুভাশিস চক্রবর্তী বলেন, কিছু অতি উৎসাহী কর্মী এই কাজ করে ফেলেছেন। কারণ এখনও দলের তরফে কোনো নির্দেশ দেওয়া হয়নি। বিজেপি অবশ্য এই ঘটনাকে দলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব হিসাবে দেখছে। যাদবপুর সাংগঠনিক জেলার সভাপতি মনোরঞ্জন জোদ্দার বলেন, নাম লিখে আবার মুছে দেওয়া হল, এটা হয়তো ওদের অভ্যন্তরীণ বিবাদ থেকেই হয়েছে। সিপিএম নেতা সুজন চক্রবর্তী কটাক্ষ করে বলেন, লাভলির নাম লিখে দেওয়ার পর সেটা সংবাদমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তেই বিড়ম্বনায় পড়েন তিনি। তাই পডরে সেটা মুছে ফেলতে হয়েছে।