• প্রকাশ্যে মাছ ও মাংস বিক্রি নয়, বিহারে জারি নিষেধাজ্ঞা, বাংলার ইস্তাহারে লিখুন, বিজেপিকে চ্যালেঞ্জ মহুয়ার
    বর্তমান | ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
  • পাটনা: গত সপ্তাহেই ঠিক হয়ে গিয়েছিল যে, বিহারে প্রকাশ্যে আর মাংস বিক্রি করা যাবে না। শীঘ্রই আইন আনতে চলেছে রাজ্য সরকার। সোমবার রাজ্য সরকারের তরফে সেই সিদ্ধান্তেই সিলমোহর পড়ল। এদিন রাজ্যের উপ মুখ্যমন্ত্রী তথা নগরোন্নয়নমন্ত্রী বিজয় কুমার সিনহা জানিয়েছেন, কোনও শিক্ষামূলক প্রতিষ্ঠান, ধমীয় এলাকা এবং জনবহুল চত্বরে প্রকাশ্যে মাছ আর মাংস বিক্রি করা যাবে না। অবিলম্বে এই নির্দেশ কার্যকর করার জন্য নগরায়ন দপ্তরের সচিব নির্দেশিকাও জারি করেছেন। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কাছে মাংস বিক্রিতে নিষেধাজ্ঞা কেন? উত্তরে উপ মুখ্যমন্ত্রী বলেন, খোলা বাজারে মাছ, মাংস বিক্রি হতে দেখলে শিশুদের মনে বিরূপ প্রভাব পড়তে পারে। তারা হিংসাত্মক হয়ে উঠতে পারে। এছাড়া কোনও ধর্মীয় জায়গা বা একইভাবে জনবহুল এলাকায় রাস্তার পাশে কাটা মাংস-মাছ দেখলে পথচলতি মানুষের কাছেও তা শোভনীয় নয়। সেই কারণেই এই নিষেধাজ্ঞা।

    উপ মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, স্বাস্থ্য সচেতনতার পাশাপাশি দৃষ্টিকটু বিষয়টিও মাথায় রাখা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি কী ধরনের খাবার পছন্দ করবেন, তা নিয়ে সরকারের কোনো নিষেধাজ্ঞা নেই। তবে বিক্রির ব্যাপারে যে নির্দেশ জারি করা হয়েছে, তা যেন মেনে চলা হয়। এই মর্মে সরকারের তরফে বিবৃতিও জারি করা হয়েছে।

    সোমবার বিহারের উপ মুখ্যমন্ত্রীর এই ঘোষণার পরই রাজনৈতিক চাপানউতোর তুঙ্গে। তৃণমূলের তরফে এই সিদ্ধান্তের সমালোচনা করা হয়েছে। সাংসদ মহুয়া মৈত্র বলেন, ‘বিজেপি শাসিত বিহারের উপমুখ্যমন্ত্রী বলেছেন যে, স্কুল ও মন্দিরের ধারে-কাছে এবং খোলা জায়গায় মাছ ও মাংস বিক্রি নিষেধ। বিহারের ৯৪ শতাংশ মানুষ কিন্তু আমিষ খান। ফলে উপমুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য অবৈজ্ঞানিক। আর এখানেই আমি পশ্চিমবঙ্গে বিজেপিকে চ্যালেঞ্জ জানাচ্ছি। আপনারা বাংলায় আসবেন বলছেন! তাহলে আপনাদের নিজেদের নির্বাচনী ইস্তাহারে মাছ, মাংস নিষেধ করার বার্তা পরিষ্কারভাবে লিখুন। তারপর দেখি কত ভোট পান আপনারা।’
  • Link to this news (বর্তমান)