পাকিস্তানি জঙ্গি সংগঠন লস্কর-ই-তইবার শাখার (মডিউল) সদস্য অভিযোগে কলকাতা থেকে দিল্লি পুলিশ ধরেছে তাকে। মালদহের মানিকচকের অশ্বিনটোলার বছর বত্রিশের যুবক উমর ফারুক গ্রেফতার হতেই তার রাজনৈতিক পরিচয় নিয়ে চর্চা শুরু হয়েছে। পরিবারের দাবি, উমরকেফাঁসানো হয়েছে।
উমরের মা রহিমা বিবি সোমবার দাবি করেন, ‘‘উমর পরিবারের একমাত্র রোজগেরে। আমরা তৃণমূলের সমর্থক, উমরও তৃণমূল করত। এখন ওকে আদালত থেকে ছাড়াব কী ভাবে, সংসারই বা চলবে কী ভাবে!’’ যদিও সংশ্লিষ্ট গোপালপুর পঞ্চায়েতের তৃণমূল সদস্য মনিরুল হকের দাবি, ‘‘উমর দলের কেউ নয়। গত লোকসভা ও পঞ্চায়েত ভোটে ও কংগ্রেসের বুথ-এজেন্ট ছিল।’’ আবার গোপালপুর অঞ্চল কংগ্রেস সভাপতি আসাদুল হক বলেন, ‘‘উমর দলের কেউ নয়। ওই পরিবার তৃণমূলের সমর্থক।’’ বিজেপির মালদহ দক্ষিণ সাংগঠনিক জেলার সভাপতি অজয় গঙ্গোপাধ্যায়ের কটাক্ষ, ‘‘তৃণমূল জঙ্গিদের মদত দিয়েই এ রাজ্যে ক্ষমতায় রয়েছে। কংগ্রেসও ধোয়া তুলসী পাতা নয়।’’
অশ্বিনটোলা জামে মসজিদের উল্টো দিকে ঢালাই রাস্তা ধরে কিছুটা এগোলে, সরু গলিতে উমরের বাড়ি। মাটির টালি ও পুরনো টিনের দু’টি ঘর। ঘরে উমরের বাবা আক্তার হোসেন বিষন্ন মুখে বসে চেয়ারে। কাঁদছিলেন উমরের স্ত্রী সেমি খাতুন। দম্পতির তিন মেয়ে। ১০ বছর আগে তাঁদের বিয়ে হয়। তার পর থেকে উমর কলকাতার বড়বাজারে দিনমজুরি কাজ করত। দু’মাস আগে শেষ বার বাড়িতে এসেছিল। কখনও মাসে পাঁচ হাজার, কখনও সাত হাজার টাকা পাঠাত। সেমি বলেন, ‘‘সপ্তাহখানেক আগেই স্বামী জানিয়েছিল, রবিবার বাড়ি ফিরবে। কিন্তু শনিবার রাতে দিল্লি পুলিশ ফোনে স্বামীকে গ্রেফতার করার কথা জানায়। ও নির্দোষ। ওকে চক্রান্ত করে ফাঁসানো হয়েছে।’’ এলাকার বাসিন্দা মোক্তার হোসেন, দিলওয়ার শেখরা বলেন, ‘‘উমর ভাল ছেলে বলেই এলাকায় পরিচিত।’’
তবে গোয়েন্দা সূত্রের দাবি, আদতে কাশ্মীরের বাসিন্দা লস্কর জঙ্গি-চক্রের মাথা সাবির আহমেদ লোনের পরিকল্পিত নাশকতার ছকের অংশ ছিল উমর এবং তার মতো আরও সাত জন। লস্কর প্রধান হাফিজ় সইদ ও সিনিয়র কমান্ডার জাকি-উর-রহমান লকভির সরাসরি যোগাযোগ ছিল সাবিরের। হাফিজ়কে ‘চাচাজি’ (কাকা) ও জাকি-উর-রহমানকে ‘তায়াজি’ (জ্যাঠা) বলে নিজস্ব বার্তায় উল্লেখ করত সে। লস্করের তৃতীয় শীর্ষ নেতা আবু আল কামার সঙ্গেও তার ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ ছিল বলে দাবি সূত্রের।
২০০৫ সালে আল কামা সাবিরকে জঙ্গি সংগঠনে নেয়। তাকে ভারতে অবৈধ ভাবে বসবাসকারীদের সংগঠনে টানার দায়িত্ব দেওয়া হয়। সে বেশ কয়েক বার দিল্লি এসেছে। তাকে শেষ বার শাহিন বাগে দেখা গিয়েছিল। ২০০৭-এ সালে সাবিরকে গ্রেফতার করে দিল্লি পুলিশ। দিল্লির তিহাড় জেল থেকে ২০১৮ সালে মুক্তি পেয়ে সে বাংলাদেশে পালায়। সেখান থেকে ভারতে লস্করের নেটওয়ার্ককে চাঙ্গা করতে শুরু করে। সম্প্রতি কলকাতা এবং দিল্লির একাধিক মেট্রো স্টেশনে ‘মুক্ত কাশ্মীর’-এর দাবিতে পোস্টার দেখে সক্রিয় হন গোয়েন্দারা। ধরা পড়ে উমর-সহ আট জন।