• জলের সঙ্কটে মলানদিঘি, ভোটের মুখে প্রশ্নে প্রকল্প
    আনন্দবাজার | ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
  • শীতের আমেজ কমছে। দরজায় কড়া নাড়ছে গরম। এরই মধ্যে, পানীয় জলের সঙ্কট শুরু হয়েছে মলানদিঘি পঞ্চায়েত এলাকায়। অথচ, বেশ কয়েক বছর ধরে জল জীবন মিশন প্রকল্পের কাজ চলছে। এখনও সেই প্রকল্পের সুবিধা বাড়ি বাড়ি পৌঁছয়নি। আর এই ঘটনায় শুরু হয়েছে রাজনৈতিক তরজা। তৃণমূলের দাবি, কেন্দ্রীয় সরকার বরাদ্দ বন্ধ করে দেওয়ায় সেই কাজ শেষ হচ্ছে না। অন্য দিকে বিজেপির দাবি, কেন্দ্রীয় বিভিন্ন প্রকল্পের হিসাব দিচ্ছে না রাজ্য সরকার। তবে সাধারণ মানুষের যাতে অসুবিধা না হয় দেখা হবে।

    স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, মলানদিঘি পঞ্চায়েত এলাকায় পানীয় জলের সমস্যা দীর্ঘ দিনের। সেই সমস্যা মেটাতে ২০১৭ সালে মলানদিঘি এলাকায় জল জীবন মিশন প্রকল্পে বাড়ি বাড়ি পাইপ লাইনে পানীয় জল পৌঁছে দিতে একটি জল প্রকল্পের কাজ শুরু হয়। প্রতিশ্রুতি ছিল, বাড়ি বাড়ি পৌঁছবে পরিশ্রুত জল। মলানদিঘি এলাকায় এই প্রকল্পের আওতায় নির্মিত হয়েছে বিশাল পানীয় জলের ট্যাঙ্ক। পাইপলাইনের মাধ্যমে বহু বাড়িতে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে কলের সংযোগও। সরকারি নথি অনুযায়ী, প্রায় ১৭ হাজার মানুষ উপকৃত হওয়ার কথা এই প্রকল্পে। মোট ১২টি গ্রামে দূর হওয়ার কথা ছিল দীর্ঘ দিনের পানীয় জলের সমস্যা। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, প্রকল্পটি পুরোপুরি চালু হলে এলাকায় পানীয়ের সমস্যা মিটবে।

    স্থানীয়দের অভিযোগ, কোথাও পাইপ ফেটে জল নষ্ট হচ্ছে, কোথাও এখনও কলের সংযোগ পৌঁছয়নি। কোনও কোনও গ্রামে তিন দিন অন্তর একবার জল আসছে, তাও অনিয়মিত। ফলে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। মলানদিঘির বাসিন্দা মাধুরী বাগদি বলেন, ‘‘আমরা শুনেছিলাম, প্রতিদিন নিয়মিত সময়ে দিনে দু’বার করে জল সরবরাহ করা হবে। কিন্তু, জল এখনও মিলছে না।’’ ভুক্তভোগীদের দাবি, আর কয়েক দিন পরেই গরমের সময় শুরু হবে। তখন জলের আকাল পড়ে যায় এলাকায়। তার আগে যদি জল প্রকল্পের কাজ শেষ না হয়, তা হলে চরম সমস্যায় পড়তে হবে বাসিন্দাদের।

    বিষয়টি নিয়ে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক তরজা। তৃণমূলের মলানদিঘি অঞ্চল সভাপতি অনন্তরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের দাবি, প্রধানমন্ত্রী বলেছিলেন জল জীবন মিশন প্রকল্পে প্রতিটি পরিবারে পানীয় জল পৌঁছে যাবে। কিন্তু, কাজ শেষ হয়নি। তিনি বলেন, ‘‘পঞ্চায়েত ও রাজ্য সরকারের তরফে পাড়ায় পাড়ায় সোলার পাম্প বসানো হচ্ছে। তাতে জলের সমস্যা অনেকটাই মিটবে। পাশাপাশি রাজ্য সরকার এই প্রকল্পের কাজও নিজেদের টাকা থেকে শেষ করবে।’’ জেলা বিজেপির মুখপাত্র সুমন্ত মণ্ডলের পাল্টা দাবি, ‘‘কেন্দ্রীয় প্রকল্পের হিসাব দিচ্ছে না রাজ্য সরকার। কেন্দ্রের প্রকল্পের নাম পরিবর্তন করে দিচ্ছে ওরা। সেই জন্যই পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। কিন্তু, কোনও মানুষ যাতে বিপাকে না পরে সেই দিকেও নজরদারি চালায় ভারত সরকার।’’
  • Link to this news (আনন্দবাজার)