বাম জমানায় অবিরাম রক্তক্ষরণে অবিভক্ত বর্ধমানে কংগ্রেস কার্যত সাইনবোর্ড সর্বস্ব দলে পরিণত হয়েছিল। বিচ্ছিন্ন দ্বীপের মতো শতাব্দীপ্রাচীন দল জেগে ছিল শুধু কাটোয়ায়। এখন সেই আসনটিও তৃণমূলের দখলে। গোটা পূর্ব বর্ধমানে কংগ্রেস কার্যত শক্তিহীন। কিন্তু দলের এই সঙ্কটেও প্রার্থী হওয়ার ইচ্ছাপ্রকাশ করছেন অনেক কংগ্রেস নেতা-কর্মী। প্রার্থী হওয়ার জন্য প্রদেশ কংগ্রেসের দেওয়া ফর্ম পূরণ করে জমা দিয়েছেন তাঁরা।
কংগ্রেস সূত্রের দাবি, জেলার প্রতিটি বিধানসভা কেন্দ্র থেকে তিন-চার জন প্রার্থী হওয়ার ইচ্ছাপ্রকাশ করে প্রদেশ নেতৃত্বের কাছে আবেদন জানিয়েছেন। দলের রাজ্য পর্যবেক্ষক গুলাম মহম্মদ মীর, প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকারেরা সম্প্রতি কাটোয়ার একটি বৈঠকে এসে জানিয়েছিলেন, শিক্ষিত-তরুণ ও তফসিলি জনজাতিদের প্রার্থী করার উপরে দল জোর দিতে চাইছেন।
পশ্চিমবঙ্গের ২৯৪টি কেন্দ্রকে পাঁচটি ‘জ়োনে’ (অঞ্চল) ভাগ করে প্রার্থীবাছাই প্রক্রিয়া শুরুর সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রদেশ নির্বাচন কমিটি (পিইসি)। তাতে সিলমোহর দিয়েছে এআইসিসির স্ক্রিনিং কমিটি। সূত্রের খবর, জেলার ১৬টি বিধানসভার মধ্যে অন্তত ছ’টিতে তরুণ-যুব প্রজন্মের প্রতিনিধিকে প্রার্থী করতে আগ্রহী প্রদেশ নেতৃত্ব। সে কথা জানিয়ে দেওয়া হয়েছে জেলা নেতৃত্বকে। কয়েক দিন আগে বর্ধমানে এসেছিলেন দলের প্রাক্তন প্রদেশ সভাপতি প্রদীপ ভট্টাচার্য। তিনি বলেছিলেন, “কংগ্রেস একা লড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তৃণমূলের বিরুদ্ধে মানুষ ক্ষুব্ধ। বিজেপির রাজনীতিতে মানুষ বীতশ্রদ্ধ। কংগ্রেসের ছোট সভাতেও ভিড় উপচে পড়ছে। প্রতিটি বুথে যাতে এজেন্ট দেওয়া যায়, সেই চেষ্টা করতে হবে।”
কংগ্রেস সূত্রে জানা যায়, গত শুক্রবার ছিল নির্দিষ্ট ‘ফর্ম্যাটে’ প্রার্থী হওয়ার জন্য আবেদন জানানোর শেষ দিন। গত বৃহস্পতিবার পর্যন্ত জেলা থেকে ১৬টি বিধানসভায় প্রাক্থী হওয়ার জন্য প্রদেশ কংগ্রেস দফতরে ৫৪ জন আবেদন জানিয়েছেন। তাঁদের মধ্যে ৪৮ জন জেলা বা সংশ্লিষ্ট বিধানসভা কেন্দ্র এলাকার বাসিন্দা। কংগ্রেস সূত্রের খবর, কাটোয়া, পূর্বস্থলী দক্ষিণ, কালনা, মেমারি, গলসি, ভাতার ও বর্ধমান দক্ষিণ বিধানসভায় প্রার্থী হওয়ার জন্য কংগ্রেসের জেলা সভাপতি, প্রাক্তন সভাপতি, প্রদেশ কমিটির সদস্য, শ্রমিক ইউনিয়নের নেতা, যুবনেতারা আবেদন করেছেন।
কাটোয়ায় কংগ্রেসের এক পুরপ্রতিনিধি, জেলার এক প্রবীণ নেতাও প্রার্থী হওয়ার আবেদন করেছেন। জেলা কংগ্রেসের সভাপতি ধূর্জটিবিজয় মাজি বলেন, “অনেক বছর পরে কংগ্রেস একা লড়বে। কর্মীদের মনে উৎসাহ দেখা যাচ্ছে। এই ইচ্ছাকে আমাদের এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে।”
কংগ্রেসের দাবি, বর্ধমান উত্তর, রায়না, খণ্ডঘোষ, জামালপুরের মতো সংরক্ষিত আসনগুলি থেকে প্রার্থী হওয়ার আবেদন এসেছে তুলনায় কম। আবার মন্তেশ্বর, মঙ্গলকোট, কেতুগ্রাম, পূর্বস্থলী উত্তর থেকেও প্রার্থী হওয়ার একাধিক আবেদন আসেনি। কংগ্রেসের নেতা গৌরব সমাদ্দার বলেন, “দীর্ঘ সময়ের পরে বুথে গিয়ে মানুষ হাত চিহ্ন দেখতে পাবেন। এটা আনন্দের বিষয়। তৃণমূল-বিজেপির রাজনীতির সঙ্গে যুঝে দলীয় প্রার্থী হওয়ার জন্য মানুষ এগিয়ে আসছেল। এটা ভাল লক্ষণ।”