• ভোটের আগেই ‘গোলাপি বুথ’, মহিলাচালিত নজরদারি গাড়ি
    আনন্দবাজার | ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
  • আর জি কর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসক-পড়ুয়াকে খুন ও ধর্ষণের ঘটনা তো রয়েছেই। সেই সঙ্গে গত কয়েক মাসে দক্ষিণ কলকাতার আইন কলেজ থেকে শুরু করে শহরের একাধিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে গণধর্ষণ ও নারী নিগ্রহের ঘটনা ঘটেছে। রাত-পথে মহিলাকে গাড়িতে তুলে যৌন নিগ্রহের অভিযোগও গত কয়েক মাসে একাধিক বার সামনে এসেছে। এই পরিস্থিতিতে ভোটের আগে নারী-সুরক্ষায় শহরের রাস্তায় ‘গোলাপি বুথ’ চালু করার পথে কলকাতা পুলিশ।

    লালবাজার সূত্রের খবর, দিনকয়েকের মধ্যেই এই গোলাপি বুথের উদ্বোধন করা হবে। সেই সঙ্গে কয়েকটি গোলাপি গাড়িও চালু করা হচ্ছে। তাতে মহিলা চালক থেকে মহিলা পুলিশকর্মীরা থাকবেন। রাতের রাজপথে মহিলাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য এই গাড়ি ঘুরবে বলে লালবাজারের কর্তাদের দাবি।

    গত ডিসেম্বরের শুরুতেই এমন গোলাপি বুথ চালু করার কথা জানানো হয়েছিল কলকাতা পুলিশের তরফে। সেই সময়ে বলা হয়, কলকাতার ১০টি পুলিশ ডিভিশনের প্রতিটিতে দু’টি করে মোট ২০টি এমন বুথ তৈরি করা হবে। তবে, ৮ মার্চ আন্তর্জাতিক নারী দিবসে এই বুথের উদ্বোধন হওয়ার কথা থাকলেও এই মুহূর্তে নির্বাচনের আগেই বুথের উদ্বোধন করে দেওয়ার জোর তৎপরতা চলছে। পুলিশ সূত্রের খবর, ২০টির বদলে চার-পাঁচটি বুথ দিয়েই এই মুহূর্তে উদ্বোধন করে দেওয়ার নির্দেশ এসেছে উপর মহল থেকে। পুলিশের অন্দরেই অনেকে বিষয়টি নির্বাচনকে মাথায় রেখে করা পদক্ষেপ বলে মনে করছেন। কারণ হিসাবে তাঁরা জানাচ্ছেন, ২০২১ সালেও বিধানসভা নির্বাচনের আগে কলকাতা পুলিশের জন্য ‘নেতাজি ব্যাটালিয়ন’ নামে নতুন বাহিনী গঠনের কথা ঘোষণা করেছিলেন খোদ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সে বছর সুভাষচন্দ্র বসুর ১২৫তম জন্মবার্ষিকীর সূচনা চলছিল। ভোটের আগে তাঁকে হাতিয়ার করেই বিভিন্ন রাজনৈতিক দল নিজেদের পালে হাওয়া লাগাতে চাইছে বলে মনে করা হয়েছিল। বাস্তবে দেখা গিয়েছে, পাঁচ বছর পরেও এই বাহিনীর কাজ নাগরিকদের চোখে পড়েনি। একই রকম ভাবে রয়ে গিয়েছে সম্পূর্ণ মহিলা পুলিশ-নির্ভর কলকাতা পুলিশের ‘শক্তি বাহিনী’। ব্যতিক্রম শুধু কলকাতা পুলিশের বিশেষ মহিলা বাহিনী ‘উইনার্স’।

    রাজীব কুমার কলকাতার নগরপাল থাকাকালীন ২০১৮ সালের ১১ জুলাই আত্মপ্রকাশ ঘটে উইনার্স-এর। মূলত সন্ধ্যায় এবং রাত-পথে মহিলাদের নিরাপত্তা দিতেই এই বাহিনীর জন্ম। বাছাই করা মহিলা পুলিশকর্মীদের প্রশিক্ষণ দেওয়া শুরু হয় সেই বছরের মার্চ থেকে, পুলিশ ট্রেনিং স্কুলে (পিটিএস)। মোটরবাইকে সওয়ার এই বাহিনী মার্শাল আর্টসের পাশাপাশি, আধুনিক সব আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহারেও সিদ্ধহস্ত। এই মুহূর্তে এই বাহিনীতে রয়েছেন ৯৯ জন মহিলা পুলিশকর্মী। কসবা রাজডাঙা এলাকায় এই বাহিনীর ৩৯ জনকে রাখা হয়েছে দক্ষিণ কলকাতা ও দক্ষিণ শহরতলির জন্য, বাকি ৬০ জন কাজ করছেন বাকি কলকাতায়। রাতপথে মহিলাদের নিরাপত্তায় নজরদারি চালিয়ে প্রথম থেকেই সব মহলের প্রশংসা কুড়িয়েছে তারা।

    কলকাতা পুলিশের এক কর্তার মন্তব্য, ‘‘গোলাপি বুথ দ্রুত চালু হবে। অনেক সময়েই এমন হয়, যখন বিপদে পড়ে কোনও মহিলা বুঝে উঠতে পারেন না, কোথায় অভিযোগ করবেন। থানা পর্যন্ত যাওয়াও সম্ভব হয় না। গোলাপি বুথেই সব ধরনের সাহায্য মিলবে। সঙ্গে নামানো হচ্ছে গোলাপি রঙের গাড়ি। চালক থেকে শুরু করে সেই গাড়ির সকলেই হবেন মহিলা পুলিশকর্মী। তাঁরা টহলদারি চালাবেন। শক্তি বাহিনীর নাম বদল করে এই গাড়ি নামানো হবে কিনা, তা নিয়ে আলোচনা চলছে।’’ পুলিশ সূত্রের খবর, সম্প্রতি কয়েকশো জন মহিলা কনস্টেবল পদে যুক্ত হয়েছেন। তাঁদেরই গোলাপি বুথ ও গাড়ির কাজে লাগানো হতে পারে।
  • Link to this news (আনন্দবাজার)