BJP Parivartan Yatra West Bengal: বিধানসভা নির্বাচনের আগে সংগঠনকে চাঙ্গা করতে বড় কর্মসূচি বঙ্গ বিজেপির। আগামী ১ মার্চ থেকে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে বিজেপির 'পরিবর্তন যাত্রা' শুরু হচ্ছে। সূচনা করবেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি জে পি নাড্ডা, প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংহ সহ একাধিক কেন্দ্রীয় ও শীর্ষ নেতা। নির্বাচনের আগে রাজ্য রাজনীতির ময়দানে এই কর্মসূচিকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছে গেরুয়া শিবির।
বিজেপি সূত্রে জানা গিয়েছে, ১ মার্চ দক্ষিণ ২৪ পরগনার রাইদিঘি বিধানসভা কেন্দ্র থেকে 'পরিবর্তন যাত্রা'র সূচনা করবেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। একই দিনে নদিয়া জেলা থেকেও এই যাত্রার সূচনা করবেন বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি জে পি নাড্ডা। রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে একযোগে এই কর্মসূচি শুরু করে সংগঠনের শক্তি প্রদর্শনই বিজেপির লক্ষ্য বলে দলীয় সূত্রে খবর।
শুধু অমিত শাহ বা নাড্ডা নন, একাধিক কেন্দ্রীয় নেতা এই কর্মসূচিতে অংশ নেবেন। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী নিতিন নবীন ১ মার্চ কোচবিহার থেকে এবং ২ মার্চ উত্তর দিনাজপুর থেকে পরিবর্তন যাত্রা শুরু করবেন। একই দিনে পশ্চিম মেদিনীপুরের খড়গপুর থেকে যাত্রা শুরু করবেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান। শিল্পাঞ্চল আসানসোল থেকেও পরিবর্তন যাত্রার সূচনা করবেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী অন্নপূর্ণা দেবী।
রাজ্যের আরও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক কেন্দ্র থেকেও এই কর্মসূচি শুরু হবে। ১ মার্চ বীরভূম জেলা থেকে পরিবর্তন যাত্রার সূচনা করবেন দেবেন্দ্র ফড়নবিশ। অন্য দিকে, ২ মার্চ সন্দেশখালি থেকে যাত্রার সূচনা করবেন কেন্দ্রীয় প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংহ। সন্দেশখালি সাম্প্রতিক অতীতে রাজ্যের অন্যতম রাজনৈতিক আলোচিত এলাকা হয়ে উঠেছে। ফলে এই স্থান থেকে যাত্রার সূচনা রাজনৈতিক ভাবে তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
বিজেপির দাবি, এই পরিবর্তন যাত্রার মাধ্যমে রাজ্যের প্রতিটি বিধানসভা এলাকায় পৌঁছে সাধারণ মানুষের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ স্থাপন করা হবে। রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, দুর্নীতি, বেকারত্ব সহ বিভিন্ন ইস্যু তুলে ধরে রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে জনমত গড়ে তোলাই এই যাত্রার মূল উদ্দেশ্য। একই সঙ্গে দলের সংগঠনকে বুথ স্তর পর্যন্ত আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্য নিয়েও এই কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিধানসভা নির্বাচনের আগে পরিবর্তন যাত্রা বিজেপির অন্যতম বড় সংগঠনমূলক কর্মসূচি হতে চলেছে। এর মাধ্যমে বিজেপি রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় নিজেদের উপস্থিতি জোরদার করতে চাইছে। বিশেষ করে দক্ষিণবঙ্গ এবং উত্তরবঙ্গ; দুই ক্ষেত্রেই সমান গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলে দলীয় সূত্রে ইঙ্গিত।
অন্য দিকে, রাজ্যের রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই কর্মসূচির মাধ্যমে নির্বাচনের আগে বিজেপি সরাসরি জনসংযোগ বাড়ানোর চেষ্টা করছে। কেন্দ্রীয় নেতাদের উপস্থিতি দলের কর্মীদের মনোবল বাড়াবে বলেও মনে করছে রাজনৈতিক মহল। নির্বাচনের আগে এই পরিবর্তন যাত্রা রাজ্যের রাজনৈতিক সমীকরণে কতটা প্রভাব ফেলে, এখন সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।