• প্রচারে বেরিয়ে সাম্প্রদায়িক উস্কানি দেওয়ার অভিযোগ বিজেপির বিরুদ্ধে, থানায় অভিযোগ দায়ের দু’পক্ষের
    বর্তমান | ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
  • সংবাদদাতা, রামপুরহাট: দোরগোড়ায় ভোট। ‘গৃহসম্পর্ক যাত্রা’ নাম দিয়ে বাড়ি বাড়ি প্রচারে নেমেছে বিজেপি। সেখান থেকেই সাম্প্রদায়িক উস্কানি দেওয়ার অভিযোগ উঠল বিজেপির মহিলা নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে। এ নিয়ে হইচই শুরু হতেই প্রচারে বাধা দেন তৃণমূল কর্মীরা। সোমবার সন্ধ্যায় উত্তেজনা ছড়ি‌য়ে পড়ে রামপুরহাটের দাদপুর গ্রামে। যদিও বিজেপির দাবি, প্রচারে তাঁদের বাধা দেওয়ার পাশাপাশি নানাভাবে কটুক্তি ও প্রাণনাশের হুমকি দেয় তৃণমূল কর্মীরা। মারধর করা হয় বুথ সভাপতি ও তাঁর স্ত্রীকে। বিজেপির নেতাকর্মীরা রামপুরহাট থানায় এসে হামলাকারী তৃণমূল কর্মীদের গ্রেপ্তারের দাবি জানান। পুলিশ জানিয়েছে, দু’ পক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে অভিযোগ জানিয়েছেন। দু’টি অভিযোগই খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

    সোমবার সন্ধ্যায় রামপুরহাটের আয়াস অঞ্চলের দাদপুর গ্রামের ৫৪ নম্বর বুথে গৃহ সম্পর্ক অভিযানে আসেন মহিলারা। ছিলেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় নেত্রী মোনালিসা মুখোপাধ্যায় সহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ। এলাকার তৃণমূল নেতা লালবাবু শেখ বলেন, এই গ্রামে আমরা হিন্দু মুসলিম মিলেমিশে থাকি। ইফতার শেষে যখন মসজিদে নমাজ চলছে তখন তাঁরা জোরে জোরে জয় শ্রীরাম ধ্বনি দিয়ে মসজিদের পাশ দিয়ে যাচ্ছিল। বাড়ি বাড়ি গিয়ে বলতে থাকে, হিন্দুদের দল বিজেপি। মুসলিমদের সঙ্গে ওঠাবাস করবে না। বিজেপি ছাড়া কাউকে ভোট দেবে না। কারও প্রলোভনে যাবে না বলছিল। সেই সময়ে তৃণমূল কর্মীরা এসে বলে, আপনারা ভোটের প্রচার করতে এসে কেন ধর্মীয় উস্কানিমূলক কথা বলছেন। এই নিয়ে চলে বাগবিতন্ডা। পরে খবর পেয়ে পুলিশ এসে পরিস্থিতি শান্ত করে।

    যদিও মোনালিসা মুখোপাধ্যায় সংবাদ মাধ্যমে জানান, আমরা মহিলাদের জাগ্রত করতে প্রচারে গিয়েছিলাম। সুস্থ ভাবেই প্রচার চলছিল। কিন্তু আয়াসে যখন যাচ্ছি তখন জানতে পারি মহিলারা ভীষণ ভীত হয়ে আছেন। মহিলারা ঘর থেকে বেরতে চাইছেন না। দরজা বন্ধ করে দিচ্ছেন। এরই মধ্যে খবর আসে দাদপুর গ্রামে বাড়িতে ঢুকে বিজেপির বুথ সভাপতি সুভাষ লেট ও তাঁর স্ত্রীকে মারধর করছে তৃণমূলীরা। সেই সঙ্গে খুনের শাসানি দেয়। আমাদেরও নানা কটুক্তি করা হয়। সুভাষ লেট বলেন, মোনালিসাদিদি দাদপুর গ্রাম থেকে প্রচার করে বেরনোর পর তৃণমূলের লোকজন বাড়িতে এসে মোদিজিকে গালিগালাজ করতে থাকে। বলে, বিজেপি করলে বা ওই দলের হয়ে কেউ প্রচারে এলে খুন করা হবে। ২০২১ সাল থেকে ওরা আমার উপর অত্যাচার চালিয়ে আসছে। ঘটনার পরে পরেই থানায় এসে অভিযোগ জানায় বিজেপি। যদিও পুলিশ কাউকে গ্রেপ্তার না করায় রাতের দিকে থানায় এসে অবস্থান বিক্ষোভে বসেন দলের জেলা সভাপতি উদয়শংকর বন্দ্যোপাধ্যায় প্রমুখ। উদয়বাবু বলেন, বিজেপি কখনও সাম্প্রদায়িক উস্কানি দেয় না। সাম্প্রদায়িক উস্কানি দেয় তৃণমূলের এই ধরনের জেহাদিরা। এ ব্যাপারে তৃণমূল বিধায়ক আশিস বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, উস্কানিমূলক কথাবার্তা বলে মানুষকে বিভ্রান্ত করে সাম্প্রদায়িক সংঘর্ষ বাধানোর চেষ্টা করছে বিজেপি। মানুষ তার প্রতিবাদ করছে।
    উল্লেখ্য, আর কয়েকদিন পরই রাজ্যে ভোটের নির্ঘণ্ট ঘোষণা হবে। ময়দানে নেমে পড়েছে যুযুধান সব পক্ষ। আর সেই আবহে রাজনৈতিক হিংসার অভিযোগ উঠছে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে রাজনৈতিক উত্তেজনা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা।
  • Link to this news (বর্তমান)