• দুবরাজপুরে বিজেপির যুব আড্ডায় ‘জেল খাটা’ সাইবার প্রতারকরা! বিধায়ক অনুপ সাহার কর্মসূচি ঘিরে এলাকায় প্রশ্ন
    বর্তমান | ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, সিউড়ি: কেউ জেল খেটেছে সাইবার প্রতারণায়। কেউ বা অস্ত্র-শস্ত্র নিয়ে ডাকাতির উদ্দেশ্যে জড়ো হওয়ার অভিযোগে শ্রীঘরে গিয়েছিল। সেইসব ‘দাগী’দের নিয়েই দলীয় বৈঠক সারলেন দুবরাজপুরের বিধায়ক বিজেপির অনুপ সাহা। মঙ্গলবার দুবরাজপুরের ‘মিনি জামতাড়া’ হিসেবে খ্যাত বনহরি গ্রামে বিজেপি যুব মোর্চার উদ্যোগে আয়োজিত ‘যুব আড্ডা’র আয়োজন করা হয়েছিল। সেই বৈঠকের ছবি প্রকাশ্যে আসতেই জেলাজুড়ে রাজনৈতিক শোরগোল শুরু হয়েছে। ছবিতে দেখা যাচ্ছে, দুবরাজপুরের বিজেপি বিধায়ক অনুপবাবুর অতি ঘনিষ্ঠ ঘেরাটোপে বসে রয়েছেন এমন কয়েকজন যুবক, যাঁদের নাম শুনলে স্থানীয় পুলিশেরও কপালে ভাঁজ পড়ে। জেল খাটা সাইবার প্রতারক থেকে শুরু করে ডাকাতির অভিযোগে অভিযুক্তদের পাশে নিয়ে বিধায়কের এই ‘তত্ত্বাবধান’ ঘিরে সরাসরি তোপ দেগেছে তৃণমূল।

    মঙ্গলবার দুবরাজপুর শহর তৃণমূল কংগ্রেসের ফেসবুক পেজ থেকে ওই বৈঠকের ছবি পোস্ট করা হয়েছে। তিন যুবকের ছবি চিহ্নিত করে দাবি করা হয়েছে, তারা সাইবার অপরাধী। একাধিক মামলায় অভিযুক্ত। ওটিপি জালিয়াতি থেকে শুরু করে ব্যাঙ্কের কেওয়াইসি আপডেট করার নাম করে লক্ষ লক্ষ টাকা প্রতারণার কারবার সামলানো এই যুবকদেরই কি তবে ভোটের আগে ‘সম্পদ’ মনে করে কাছে টানছে গেরুয়া শিবির?

    পুলিশ অফিসারদের দাবি, ছবিতে থাকা ওই যুবকদের মধ্যে দু’জনকে গত বছরই ডাকাতির উদ্দেশ্যে জড়ো হওয়ার অভিযোগে পাকড়াও করা হয়েছিল। একজনের বিরুদ্ধে ভিনজেলায় প্রতারণার অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয়দের টিপ্পনী, বিধানসভায় যে বিধায়ক সাইবার অপরাধ নিয়ে সরব হন, নিজের এলাকায় সেই অপরাধীদের সঙ্গেই তাঁর এমন ‘মাখোমাখো’ সম্পর্ক কিসের ইঙ্গিত? বিজেপির নিচুতলার কর্মীদেরই অনেকের প্রশ্ন, জেনেশুনে অপরাধীদের আশ্রয় দেওয়া হচ্ছে না তো?

    স্থানীয় সূত্রের খবর, বনহরি ছাড়াও আশপাশের মেটেলা, খয়েরবন গ্রামগুলিতে প্রচুর সাইবার অপরাধী রয়েছে। শুধু বীরভুমেই নয়, সারা রাজ্য ও ভিনরাজ্যে তাদের অপরাধের জাল বিস্তৃত। কখনও গ্যাসের ভর্তুকি দেওয়ার নাম করে, কখনও ব্যাঙ্কের কেওয়াইসি জমা দেওয়ার নাম করে, কিংবা অন্য কোনও কৌশলে সাধারণ মানুষকে ফাঁদে ফেলে ওটিপি হাতিয়ে লক্ষ লক্ষ টাকা প্রতারণার করে এইসব অপরাধীরা। বিজেপি নেতাদেরই একাংশের প্রশ্ন, এসব ব্যাপারে কিছু না জেনেই কী ওই গ্রামে সভা করতে গিয়েছিলেন বিধায়ক? ‘যুব আড্ডা’র ছবি কার্যত গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
    এনিয়ে শোরগোল শুরু হতেই অস্বস্তিতে পড়েন বিধায়ক। বিধায়কের গায়ে যাতে কোনও কাদা না লাগে তাই আগেভাগেই বিধায়কেরহয়ে দুবরাজপুর ৪ মণ্ডলের সভাপতি শম্ভুনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় নিজের প্যাডে একটি অভিযোগপত্র জমা দেন থানায়। বিধায়ক বলেন, আমি যুব আড্ডায় উপস্থিত ছিলাম। সেখানে অনেকেই উপস্থিত ছিলেন। কে কী করে তা আমার পক্ষে জানা সম্ভব নয়। যদি কেউ সাইবার প্রতারণার সঙ্গে যুক্ত হয় প্রশাসন তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিক। দুবরাজপুর শহর তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি স্বরূপ আচার্য অবশ্য এই সাফাই মানতে নারাজ। তিনি বলেন, বিজেপির আসল চেহারা এই ছবির মাধ্যমেই স্পষ্ট হয়ে গিয়েছে। যে গ্রাম মিনি জামতাড়া বলে কুখ্যাত সেখানে সাইবার ঠগ আর ডাকাতদের পাশে বসিয়ে বিধায়ক কীসের আড্ডা দিচ্ছিলেন? আসলে পায়ের তলার মাটি হারিয়ে এখন সমাজবিরোধী আর দাগী অপরাধীদেরই ভরসা করছে বিজেপি।
  • Link to this news (বর্তমান)