নিজস্ব প্রতিনিধি, রানাঘাট: রানাঘাট শহরজুড়ে বিজেপি বিরোধী পোস্টার আর তাকে কেন্দ্র করে শুরু তীব্র রাজনৈতিক তরজা। সোমবার সকালে শহরের ১০, ৭, ৮ নম্বর ওয়ার্ড সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ মোড়, বাজার চত্বর এবং রেল স্টেশন সংলগ্ন এলাকায় বিজেপি বিরোধী পোস্টার নজরে আসে। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনকে লক্ষ্য রেখে বিজেপির স্লোগান ‘বাঁচতে চাই, বিজেপি তাই’-এর পাল্টা হিসেবেই এই পোস্টার বলে রাজনৈতিক মহলের একাংশের মত।
তৃণমূল ছাত্র পরিষদের নামে দেওয়া ওই পোস্টারগুলিতে লেখা হয়েছে, ‘বাঁচতে চাই, চলো বিজেপি তাড়াই’। পাশাপাশি বিজেপির পদ্ম প্রতীককে উল্টো করে তার উপর কাটা চিহ্ন দিয়ে গোল করে ছাপা হয়েছে স্লোগানটি। যার প্রতীকী অর্থ বিজেপিকে বর্জন। পোস্টারগুলির নকশা ও স্লোগান ঘিরেই শুরু হয়েছে বিতর্ক। সকাল থেকেই বিষয়টি নিয়ে চর্চা শুরু হয় রাজনৈতিক মহলে। পথচলতি সাধারণ মানুষের মধ্যেও কৌতূহল ও আলোচনা ছিল পোস্টারকে ঘিরে।
বিষয়টি নজরে আসার পর বিজেপির তরফে রানাঘাট থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। বিজেপি কাউন্সিলার কামনাশিস চট্টোপাধ্যায়ের দাবি, বিজেপির নির্বাচনী প্রতীক বিকৃত করা হয়েছে। এটা সম্পূর্ণ বেআইনি। এই ধরনের নোংরা রাজনৈতিক সংস্কৃতি রানাঘাটে আগে ছিল না। রানাঘাট পুরসভার চেয়ারম্যান তথা তৃণমূল নেতা কোশলদেব বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বেই তৃণমূল এই নোংরা খেলায় নেমেছে। পুলিশ ব্যবস্থা না নিলে আমরা আন্দোলনে নামব। তিনি আরও বলেন, এভাবে প্রতীক অবমাননা গণতান্ত্রিক শিষ্টাচারের পরিপন্থী এবং নির্বাচন কমিশনের দৃষ্টিতেও তা গুরুতর বিষয়। যদিও ব্যক্তি উদ্যোগে পোস্টার রাজনীতির অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছেন রানাঘাট পুরসভার চেয়ারম্যান তথা তৃণমূল নেতা কোশল দেব বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর বক্তব্য, দলগতভাবে সিদ্ধান্ত নিয়েই এই পদক্ষেপ। তৃণমূলের তরফেই পোস্টার লাগানো হয়েছে। এটা সম্পূর্ণ রাজনৈতিক পদক্ষেপ। সাধারণ মানুষ বিজেপির শাসন থেকে পরিত্রাণ চাইছেন। সেই বার্তাই তুলে ধরা হয়েছে।
প্রসঙ্গত, রানাঘাট উত্তর পশ্চিম বিধানসভায় ২০২১ সালে নির্বাচনে জয়লাভ করেছিল বিজেপি। ফলে তারা নিজেদের আসন ধরে রাখতে মরিয়া। অন্যদিকে ২০২২ সালের পুরভোটে রানাঘাট পুরসভার দখল নেয় তৃণমূল। ২০টি ওয়ার্ডের মধ্যে ১৯টিতে জেতে তারাই। ফলে আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে এই বিধানসভায় নিজেদের সেরা ফল করা দু’ পক্ষের কাছেই চ্যালেঞ্জ। কিছুদিন থেকেই রানাঘাটজুড়ে বিজেপি দেওয়াল লিখন শুরু করেছে। তাতে লেখা হচ্ছে, ‹বাঁচতে চাই, বিজেপি তাই’। কিন্তু ক্রমাগত দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি, ট্যাক্সের বোঝা, রান্নার গ্যাস সহ পেট্রল ও ডিজেলের ঊর্ধ্বমুখী দাম সহ একাধিক ইস্যুতে গরিব ও মধ্যবিত্ত জর্জরিত বলে দাবি। মানুষের আয়ের তুলনায় ব্যয়ের অসামঞ্জস্য আসায় সাধারণ মানুষের মনেই বিজেপি তাড়ানোর সিদ্ধান্ত এসেছে। তৃণমূল মানুষের দাবি কেই, ‹বাঁচতে চাই, চলো বিজেপি তারাই› পোস্টারের মাধ্যমে তুলে ধরেছে বলে দাবি তাদের। এই পোস্টার ঘিরে বিতর্ক।