নিজস্ব প্রতিনিধি, বহরমপুর: সুপ্রিমকোর্টের নির্দেশে এসআইআর প্রক্রিয়ায় রাজ্যের বিচারকদের নিয়োগ করা হয়েছে। এবার তাঁদেরই হুমকি দিয়ে এল ইমেল। রাজ্যের অন্যান্য আদালতের পাশাপশি মঙ্গলবার সকালে বহরমপুরে মুর্শিদাবাদ জেলা জজকে হুমকি দিয়ে ইমেল করা হয়। তাতে উল্লেখ করা হয়, কোর্ট চত্বরে বিভিন্ন জায়গায় বোমা রাখা রয়েছে। এই খবরে আদালত চত্বরে ব্যাপক শোরগোল পড়ে যায়। পুলিশ তড়িঘড়ি সক্রিয় হয়ে আদালত চত্বরের নিরাপত্তা জোরদার করে। বোমার খোঁজে তল্লাশি শুরু করেন পুলিশ ও গোয়েন্দা দপ্তরের আধিকারিকরা। এই ঘটনায় আতঙ্কিত হয়ে পড়েন কোর্টে উপস্থিত আইনজীবী এবং বিচার প্রার্থীরা। বম্ব ডিসপোজাল স্কোয়াড, ডগ স্কোয়াড এবং পুলিশ প্রশাসনের শীর্ষকর্তারা বহরমপুরে জেলা আদালতে উপস্থিত হন। পুলিশ কুকুর দিয়ে জেলা আদালতের বিভিন্ন ঘরে এবং প্রত্যেক কোণে তল্লাশি চালানো হয়। তবে, লাগাতার তল্লাশি চালানোর পর কোনো বোমা খুঁজে পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে পুলিশ।
বহরমপুর বার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি আবু বাক্কার সিদ্দিকী বলেন, আমরা আশঙ্কা করছি যে, এসআইআরে নিযুক্ত জজরা যাতে সঠিকভাবে কাজটা করতে না পারেন, সেজন্য এই ধরনের আতঙ্কের পরিবেশ সৃষ্টি করা হয়েছে। ভারতবর্ষের একমাত্র নিরপেক্ষ জায়গা হচ্ছে বিচার ব্যবস্থা। সেই বিচার ব্যবস্থার উপর যদি কোনো রকম হুমকি আসে, সেই বিচারকরা কাজ করতে পারবেন না, তাহলে মানুষ বিচারটা কোথায় পাবে?
উল্লেখ্য, এদিন সকালে রাজ্যজুড়ে একাধিক জেলা জজ উড়ো মেল পান। কলকাতা থেকে পশ্চিম বর্ধমান জেলা ও দায়রা জজ আদালত, চুঁচুড়া থেকে ব্যাঙ্কশাল কোর্ট, সর্বত্র উড়ো মেল ঘিরে আতঙ্ক ছড়ায়। সর্বত্র পুলিশ কুকুর নিয়ে তল্লাশি চলে। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের পর বিচারকদের বড় অংশ এখন ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআরের কাজে ব্যস্ত। তার সঙ্গে এই উড়ো মেলের কোনো সম্পর্ক রয়েছে কি না, সেটা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
মুর্শিদাবাদ জেলা আদালতের সরকারি আইনজীবী কল্পতরু ঘোষ বলেন, কিছুদিন আগে মহামান্য সুপ্রিম কোর্টের আদেশে নির্বাচন কমিশনের এসআইআরের কাজ চলছে। ডিস্ট্রিক্ট জজ এবং অ্যাডিশনাল ডিস্ট্রিক্ট জজদের এসআইআরের ভেরিফিকেশন করার জন্য নিয়োগ করেছে। সেই জায়গায় দাঁড়িয়ে গত রবিবার সার্কিট হাউসে বিচারকদের বৈঠকও হয়েছে। ডিস্ট্রিক্ট জজের এজলাসের বিচারকদের এসআইআরের কাজে নিযুক্ত করা হয়েছে। আজ দেখলাম, একটা ভুয়ো ইমেল এসেছে। সেখানে বলা হচ্ছে, জজ কোর্টে প্রচুর বোমা রাখা আছে। যখন তখন বোমা মেরে উড়িয়ে দেওয়া হবে। পুলিশ সুপারকে জানানো হলে, পুলিশ-প্রশাসন তৎপরতার সঙ্গে জেলার ডগ স্কোয়াড টিম নিয়ে জজকোর্টে এসে বিভিন্ন জায়গায় তল্লাশি করেছে। এটা খুব আতঙ্কের বিষয়। এমনটা বাঞ্ছনীয় নয়।