• দশ মাসে স্বাস্থ্যসাথীতে ১ লক্ষ ১২ হাজার রোগীর চিকিৎসা, পূর্ব বর্ধমানে বরাদ্দ ১৯০ কোটি ৯ লক্ষ টাকা
    বর্তমান | ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, বর্ধমান: বিগত ১০ মাসে পূর্ব বর্ধমান জেলায় স্বাস্থ্যসাথী কার্ডের চিকিৎসার জন্য ১৯০ কোটি ৯ লক্ষ টাকা সরকার বরাদ্দ করেছে। ১ লক্ষ ১১হাজার ৯০৫জন রোগীর চিকিৎসার জন্য বিপুল পরিমাণ এই টাকা দেওয়া হয়েছে। বর্ধমান ছাড়াও কলকাতার বিভিন্ন নামী নার্সিংহোম বা বেসরকারি হাসপাতালে তাঁরা চিকিৎসা করিয়েছেন। পূর্ব বর্ধমান জেলা পরিষদের জনস্বাস্থ্য দপ্তরের কর্মাধ্যক্ষ বিশ্বনাথ রায় বলেন, এক সময় অনেকেই অর্থের অভাবে বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা করার কথা ভাবতে পারতেন না। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় স্বাস্থ্যসাথী কার্ডের মাধ্যমে সেরা নার্সিংহোম বা বেসরকারি হাসপাতালগুলিতে চিকিৎসার ব্যবস্থা করে দিয়েছেন। জটিল অপারেশনও একটি টাকাও খরচ করতে হচ্ছে না। এছাড়া সরকারি হাসপাতালগুলির ভোলও বদলে গিয়েছে। বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল বা অনাময় সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে বহু জটিল অপারেশন হচ্ছে।

    স্বাস্থ্যদপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, আগে স্বাস্থ্যসাথী কার্ড ব্যবহার করে এক শ্রেণির নার্সিংহোম মালিকরা অনিয়ম করেছেন। তাঁরা বিভিন্ন গ্রাম থেকে কার্ড সংগ্রহ করতেন। রোগী ভর্তি না করেই সরকারের টাকা আত্মসাৎ করতেন। তিন বছর আগে বর্ধমানের একটি নার্সিংহোম থেকে পুলিশ বহু স্বাস্থ্যসাথী কার্ড উদ্ধার করেছিল। তারা তদন্তে নেমে জানতে পারে কমিশনের বিনিময়ে তারা এজেন্টদের মাধ্যমে কার্ড সংগ্রহ করেছিলেন। তবে, এখন আর সেই দিন নেই। একাধিক অনিয়ম সামনে আসার পর স্বাস্থ্যদপ্তর স্বচ্ছতা রাখতে একাধিক পদক্ষেপ নিয়েছে। রোগীর অপারেশনের আগের এবং পরের ছবি নির্দিষ্ট পোর্টালে আপলোড করতে হয়। সবকিছু খতিয়ে দেখার পর স্বাস্থ্যদপ্তর অর্থ বরাদ্দ করে। তাতে রোগীদের সমস্যা হয় না।

    তবে, এক আধিকারিক বলেন, এখনো এক শ্রেণির নার্সিংহোমে মালিক কৌশলে অর্থ তছরুপের চেষ্টা করছে। তারা বিভিন্নভাবে বিল বাড়িয়ে স্বাস্থ্যদপ্তরে পাঠাচ্ছে। এই বিষয়টিও আধিকারিকদের নজরে রয়েছে। জেলার মুখ্যস্বাস্থ্য আধিকারিক জয়রাম হেমব্রম বলেন, স্বাস্থ্যসাথী কার্ড নিয়ে অভিযোগ পাওয়া গেলে তৎক্ষণাৎ আমরা পদক্ষেপ নিই। যেসব নার্সিংহোম বা বেসরকারি হাসপাতালগুলির সঙ্গে স্বাস্থ্যদপ্তরের চুক্তি রয়েছে, তারা স্বাস্থ্যসাথী কার্ড থাকলে রোগী ভর্তি করতে বাধ্য। অকারণে রোগীদের ভর্তি রেখে হেনস্তা করা যাবে না। একাধিকবার নার্সিংহোম মালিকদের সঙ্গে বৈঠক করে এই নির্দেশ দেওয়া হয়। জেলার অধিকাংশ বড়ো বেসরকারি হাসপাতালে স্বাস্থ্যসাথী কার্ডে চিকিৎসা হয়। প্যাকেজের বাইরে রোগীদের থেকে কেউ একটি টাকাও নিতে পারবেন না।
  • Link to this news (বর্তমান)