সদ্য আবিষ্কৃত জলেশ্বর মন্দিরে মাটি খোঁড়া ও পুজোআচ্চায় নিষেধাজ্ঞা এএসআইয়ের
বর্তমান | ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
সংবাদদাতা, বিষ্ণুপুর: বিষ্ণুপুরের মল্লেশ্বরে ৫০ বছর ধরে চাপা পড়ে থাকা জলেশ্বর মহাদেবের মন্দির মাটি খুঁড়ে বের করলেও আর্কিওলজিক্যাল সার্ভে অব ইন্ডিয়ার নিষেধাজ্ঞায় হতাশ স্থানীয়রা। তাঁরা বিষ্ণুপুরের বিধায়ক এবং পুরসভার চেয়ারম্যানের দ্বারস্থ হয়েছেন। মঙ্গলবার বিকালে বিধায়ক এবং চেয়ারম্যান ঘটনাস্থলে যান। আইনি প্রক্রিয়া মেনে প্রশাসনিক আলোচনার মাধ্যমে বাবা জলেশ্বরকে যাতে পুজো করতে পারেন, তার সুষ্ঠু ব্যবস্থা করার আশ্বাস দেওয়ায় এলাকাবাসী খুশি হন।
বিষ্ণুপুরের বিধায়ক তন্ময় ঘোষ বলেন, বিষ্ণুপুরের মল্লেশ্বর মন্দিরের সামনে স্থানীয়রা মাটি খুঁড়ে জলেশ্বর মন্দির আবিষ্কার করেছেন। মল্লেশ্বর মন্দির অর্কিওলজিক্যাল সার্ভে অব ইন্ডিয়া অধিকৃত। ওই মন্দিরের সামনে মাটি খোঁড়ায় নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। সেই কারণে তারা আপত্তি জানিয়ে পুরসভা ও প্রশাসনের কাছে চিঠি দিয়েছে। বাবা মল্লেশ্বর মন্দিরকে ঘিরে এলাকাবাসীর আবেগ রয়েছে। তাই সবদিক বজায় রেখে ত্রিপাক্ষিক বৈঠকে বিষয়টি নিয়ে একটি সুষ্ঠু ব্যবস্থার মধ্যে নিয়ে আসার চেষ্টা করব। মন্দির কমিটির সদস্যদের এদিন সে কথাই বলে এসেছি। বাবা জলেশ্বর মন্দির কমিটির সম্পাদক চন্দন সাহা বলেন, দীর্ঘ ৫০ বছরেরও বেশি সময় ধরে বাবা জলেশ্বর মহাদেব সহ একটি আস্ত মন্দির মাটির তলায় চাপা পড়ে রয়েছে। প্রবীণদের থেকে সেকথা শোনার পর আমরা মাটি সরিয়ে মন্দির সহ বাবা জলেশ্বর শিবলিঙ্গ উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছি। এলাকার মানুষ ইতিমধ্যে পুজো করতে আরম্ভ করেছেন। কিন্তু অর্কিওলজিক্যাল সার্ভে অব ইন্ডিয়া আমাদের কাছে এনিয়ে নোটিস পাঠিয়েছে। তাকে মান্যতা দিয়ে আমরা দেবতার পরিচর্যাও বন্ধ রেখেছি। তার ফলে জল চুঁইয়ে ইতিমধ্যে বাবা জলেশ্বর আবার জলের তলায় চলে গিয়েছেন। এতে আমরা ভীষণ হতাশ। এলাকাবাসীর মন খারাপ। তাই বিধায়ক ও পুরসভার চেয়ারম্যানকে জানিয়েছিলাম। তাঁরা এদিন এসেছিলেন। একটা সুষ্ঠু সমাধানের পথ বের করার আশ্বাস দিয়েছেন। প্রসঙ্গত, বিষ্ণুপুর পুরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডে ঐতিহাসিক মল্লেশ্বর মন্দিরের বেড়ার ঠিক গায়েই বহু আগে থেকে জলেশ্বর মন্দির রয়েছে বলে প্রবীণরা জানান। তাঁরা ওই মন্দিরে একসময়ে পুজো করতেনও বলে জানান। স্থানীয় যুবকরা তাঁদের কথা শুনে বাবা জলেশ্বরকে মাটির তলা থেকে উদ্ধারের পরিকল্পনা করেন। সেই মতো রবিবার সকাল থেকে একটানা মাটি খুঁড়ে আস্ত একটি মন্দির বের করেন। একটি শিবলিঙ্গও উদ্ধার করেছিলেন। তা দেখে স্থানীয়দের মধ্যে উন্মাদনা তৈরি হয়। ওইদিনই তাঁরা পুজো করতে আরম্ভ করেন। এদিকে ঐতিহাসিক মল্লেশ্বর মন্দিরের ১০০ মিটারের মধ্যে খোঁড়াখুঁড়ি বেআইনি ঘোষিত থাকায় অর্কিওলজিক্যাল সার্ভে অব ইন্ডিয়া কর্তৃপক্ষ নড়েচড়ে বসে। তাঁরা নিষেধাজ্ঞা জানিয়ে নোটিস জারি করে।