• ভোট-প্রসঙ্গ এড়াচ্ছেন দিনহাটার বাসিন্দারা!
    বর্তমান | ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
  • সুকান্ত গঙ্গোপাধ্যায়, দিনহাটা: দিনহাটায় বিজেপির সংগঠন এখনও তলানিতেই রয়েছে। তবু দিনহাটা শহরে একটা চাপা ভয়ের আবহ যেন ছড়িয়ে আছে। যা আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে পথের কাঁটা হয়ে দাঁড়াতে পারে তৃণমূলে কংগ্রেসের কাছে। অন্যান্য আর পাঁচটা সকালের মতো মঙ্গলবারও সবে দোকানপাট খুলতে শুরু করে শহরে। গ্রামের মানুষ শহরে আসতে শুরু করেছে। ব্যস্ততা বাড়ছে দিনহাটা রোডে। সংহতি ময়দান থানা সংলগ্ন রাস্তার ধারের এক রুটির দোকানে দোকানি রুটি বানাতে ব্যস্ত। দুই-চারজন করে খদ্দের আসতে শুরু করেছেন। সেখানে নির্বাচনের কথা তুলতেই সকলের চোখ-মুখের ভাষা যেন আচমকাই বদলে গেল। শহরে কেমন উন্নয়ন হয়েছে, বিরোধীদের এখানে দেখা যায় কি না, মন্ত্রীর দেখা মেলে কি না ইত্যাদি প্রসঙ্গে কোনো কথাই বলতে নারাজ তাঁরা। সকলেই এসব প্রসঙ্গ এড়িয়ে যেতে চাইছেন। কারণ জিজ্ঞাসা করলে তাঁদের স্পষ্ট জবাব, আমরা সাধারণ মানুষ। রাজনীতির বিষয় নিয়ে মুখ খুলতে রাজি নই।

    কেন? সামনে নির্বাচন। উন্নয়ন, পাওয়া না পাওয়া, আপনাদের চাহিদা ইত্যাদি বিষয় নিয়ে কথা বলতে অসুবিধা কী? এর কোনো জবাব দিতে নারাজ তাঁরা। প্রশ্ন শুনে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব সেখান থেকে চলে যেতে পারলেই যেন বেঁচে যান!
    দিনহাটায় তৃণমূল-বিজেপির মধ্যে যুযুধান অবস্থান নতুন কিছু নয়। অতীতেও এখানে ভোটের আগে ব্যাপক গণ্ডগোল হয়েছে। সম্প্রতি দিনহাটা শহরের এক বিজেপি নেতাকে বাড়ি থেকে পুলিশ তুলে নিয়ে গিয়ে পরে মাদক মামলায় গ্রেপ্তার করে। প্রাক্তন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র রাষ্ট্রমন্ত্রী নিশীথ প্রামাণিক বনাম উদয়ন গুহর সংঘাত এখানে সর্বজনবিদিত। যাকে কেন্দ্র করে গত নির্বাচনের আগে উত্তাল হয়ে উঠেছিল দিনহাটা শহর। বিগত দিনে এখানে উত্তরবঙ্গ উন্নয়নমন্ত্রী উদয়ন গুহকে মেরে হাত ভেঙে দেওয়ার মতো ঘটনাও ঘটেছে। ফলে দিনহাটায় একটা ভয়ের পরিবেশ আছেই। আর নির্বাচন যতই এগিয়ে আসছে সেই ভয়ের পরিবেশ যেন চেপে বসছে দিনহাটা শহরের বুকে। জনগণ সহজে মুখ খুলতে চাইছে না। তার প্রভাব ভোটের বাক্সে পড়বে বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। বিরোধীরা অনেক দিন ধরেই দিনহাটায় সন্ত্রাসের বাতাবরণ রয়েছে বলে দাবি করে আসছে। যা নিয়ে সম্প্রতি দিনহাটা থানায় বিক্ষোভও দেখিয়েছিল বিজেপি।

    যদিও এসব বিষয়কে একেবারেই আমল দিতে নারাজ জোড়াফুল নেতৃত্ব। তাদের দাবি, দিনহাটায় বিজেপিই বারবার সন্ত্রাসের পরিবেশ সৃষ্টি করেছে। সেই সন্ত্রাস রুখে দেওয়া হয়েছে বলেই তাদের পায়ের তলা থেকে মাটি সরে গিয়েছে। বিজেপির সংগঠন এখানে একেবারে তলানিতে। তাই নির্বাচনে আগে নানা কুযুক্তি দাঁড় করে তারা পরিবেশ অশান্ত করার ফন্দি-ফিকির খুঁজছে। যদিও এবার বিজেপি সেই সুযোগ পাবে না।

    উত্তরবঙ্গ উন্নয়নমন্ত্রী উদয়ন গুহ বলেন, দিনহাটায় কোথাও ভয়ের পরিবেশ নেই। যদি ভয়ের পরিবেশ থাকত তাহলে তো মানুষ সামনাসামনি বলত আমাদেরই ভোট দেবে। অভিনয় করলে তৃণমূলের পক্ষেই অভিনয় করত। এসব ফালতু কথা। শহরের মানুষ কখনোই প্রকাশ্যে কিছু বলে না। অন্যদিকে, দিনহাটার বিজেপি নেতা অজয় রায় বলেন, দিনহাটায় মানুষ এবার চুপচাপ বড় ফুলে ছাপ দেবে। তাই চুপচাপ আছে। মুখ খুললেই টার্গেট হয়ে যায়। তাই সকলে চুপ করে আছে। ভোট আসলেই মানুষ বুঝিয়ে দেবে।
  • Link to this news (বর্তমান)