নিজস্ব প্রতিনিধি, মালদহ: আট ও নয়ের দশকের সাংগঠনিক পদাধিকারীদের এবার ভোটের ময়দানে নামাচ্ছে বিজেপি। বিধানসভা ভোটের আগে প্রবীণদের একত্রিত করতে ‘বরিষ্ঠ কার্যকর্তা সম্পর্ক’ কর্মসূচিও পালিত হল মালদহের দুই সাংগঠনিক জেলায়। যা থেকে স্পষ্ট, নব্যদের উপর ভরসা নেই, আদি কার্যকর্তাদের উপরই বাজি ধরছে গেরুয়া নেতৃত্ব।
পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির ৪৩টি সাংগঠনিক জেলা। মালদহ উত্তর এবং দক্ষিণ সাংগঠনিক জেলা তার মধ্যে অন্যতম। বিজেপি সূত্রে খবর, আটের দশক থেকে দলের প্রাক্তন জেলা সভাপতি, রাজ্য ও জেলার বিভিন্ন মোর্চার পদাধিকারীদের নিয়ে জেলাওয়ারি বরিষ্ঠ কার্যকর্তা সম্পর্ক কর্মসূচি চলবে। মঙ্গলবার এই কর্মসূচি হয় উত্তর ও দক্ষিণ মালদহ সাংগঠনিক জেলা কার্যালয়ে। ২৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে শেষ করা হবে জেলার কর্মসূচি। মার্চের প্রথম সপ্তাহ থেকে একই কর্মসূচি বিধানসভা কেন্দ্র ধরে ধরে চলবে। শেষ সপ্তাহে বরিষ্ঠ কার্যকর্তা সম্পর্ক কর্মসূচি হবে বুথভিত্তিক।
মালদহে এদিন এই কর্মসূচিতে রাজ্যের তরফে উপস্থিত ছিলেন বিজেপির প্রাক্তন রাজ্য সাধারণ সম্পাদক ও রাজ্য সহ সভাপতি বিশ্বপ্রিয় রায় চৌধুরী। তিনি বলেন, এই বিধানসভা নির্বাচন তৃণমূল কংগ্রেসের বিসর্জনের। তাই সবাইকে একত্রিত করে লড়তে হবে।
সীমান্তবর্তী মালদহ জেলায় বিজেপির একজন সাংসদ ও চারজন বিধায়ক রয়েছেন। দল ১২ বছর কেন্দ্রে ক্ষমতায় রয়েছে। কাজেই বর্তমান বিজেপি নেতাকর্মীরা অনুকূল পরিস্থিতির মধ্যেই দলের কাজ করছেন। অথচ আট, ও নয়ের দশকে একদিকে রাজ্যে কমিউনিস্ট শাসন, আরেকদিকে কেন্দ্রে কংগ্রেসের রাজত্বে কঠিন পরিস্থিতিতে এই সমস্ত প্রবীণ নেতৃত্ব বিজেপির সংগঠনের খুঁটি মজবুত করে গিয়েছেন। অথচ সব পেয়েও মালদহের সংগঠন এখনও কি মজবুত? দলের অন্দরেই এই প্রশ্ন বারবার ঘোরাফেরা করছে।
বিজেপির দক্ষিণ মালদহ সাংগঠনিক জেলা সভাপতি অজয় গঙ্গোপাধ্যায় বলেন, যাঁরা পুরনো দিনের কার্যকর্তা, তাঁদের ডাকা হয়েছে। গল্প, খাওয়াদাওয়া হয়। তাঁরা আমাদের আশীর্বাদ করেন, পথ নির্দেশ দেন। দুর্দিনে তাঁদের কঠিন পরিশ্রমের ফলেই আজকে এখানে দাঁড়িয়ে আছি। তাই তাঁদের যথাসম্ভব শ্রদ্ধা জানাচ্ছি।
এদিন দীনদয়াল উপাধ্যায় ও শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের ছবিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানিয়ে কর্মসূচি শুরু হয়। আট ও নয়ের দশকে কঠিন সময়ে জেলা সভাপতি সহ দলে বিভিন্ন সাংগঠনিক পদে থাকা তিরিশ থেকে পঁয়ত্রিশ জন প্রবীন নেতৃত্ব উপস্থিত ছিলেন এদিন। মালদহ জেলার প্রাক্তন সভাপতিদের মধ্যে এদিন ছিলেন দীনেশ বসাক, শ্যামচাঁদ ঘোষ, শিবেন্দুশেখর রায়, সুব্রত কুণ্ডু, সঞ্জিত মিশ্র, গোবিন্দচন্দ্র মণ্ডলের মত প্রাক্তন ও প্রবীণরা।