• আগামী এক বছরের মধ্যে তিনটি ভোট, এখন থেকেই শিলিগুড়িতে ঘুঁটি সাজাচ্ছে শাসক দল
    বর্তমান | ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
  • সুব্রত ধর, শিলিগুড়ি: আগামী এক থেকে দেড় বছর। তাতেই শিলিগুড়ি মহকুমায় পরপর তিনটি নির্বাচন। বিধানসভা, পুরসভা ও পঞ্চায়েত। সংশ্লিষ্ট তিনটি ভোটকে পাখির চোখ করেই বুথস্তরে ‘ত্রিস্তরীও দেওয়াল’ তৈরি করছে জোড়াফুল শিবির। তারা এজন্য অঙ্ক কষে বুথস্তরে ঘরোয়া সভা, পাড়া বৈঠক, ওয়ার্ডে ও অঞ্চলে পথসভা করছে। এভাবেই তারা মহকুমায় নির্বাচনী প্রচারে ঝড় তোলার কৌশল নিয়েছে। তবে ময়দানে নামলেও এখন কিছুটা ‘স্লো ব্যাটিং’ করছে পদ্ম শিবির। তারা ২৮ ফেব্রুয়ারি চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশের পর খেলার ছক বদলের কথা ভাবছে। সমগ্র পরিস্থিতি নিয়ে সরগরম স্থানীয় রাজনীতি।

    রাজ্যের অন্যান্য প্রান্তের মতো শিলিগুড়ি মহকুমাতেও বিধানসভা ভোটের প্রশাসনিক প্রস্তুতি চলছে। এখানে শিলিগুড়ি, মাটিগাড়া-নকশালবাড়ি ও ফাঁসিদেওয়া এই তিনটি বিধানসভা কেন্দ্র। এখানে বিধানসভা ভোট মিটতে না মিটতেই শিলিগুড়ি পুরসভা ও ত্রিস্তর পঞ্চায়েত নির্বাচন হবে। সবকিছু ঠিক চললে চলতি বছরের নভেম্বর-ডিসেম্বর মাসে প্রশাসন পুরসভা ও পঞ্চায়েত নির্বাচনের প্রস্তুতি শুরু করতে পারে। ২০২৭ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে জুলাই মাসের মধ্যে ভোটগুলি হবে। অর্থাৎ এক থেকে দড়ে বছরের মধ্যে এখানে তিনটি ভোট।

    সংশ্লিষ্ট নির্বাচনগুলি নিয়ে বুথে বুথে ঘুঁটি সাজাচ্ছে জোড়াফুল শিবির। তারা সোমবার ১২-১৪ নম্বর ওয়ার্ডের ২৩টি বুথের সভাপতি, ওয়ার্ডের সভাপতিকে নিয়ে বৈঠক করে। একইভাবে মঙ্গলবার ১৬-২১ নম্বর ওয়ার্ডের ৩৩টি বুথ নিয়ে বৈঠক করা হয়। দলীয় সূত্রে খবর, গত বিধানসভা, লোকসভা ও পুরসভা ভোটের ফলাফল, ভোটার তালিকা এবং সামাজিক প্রকল্পের উপভোক্তা তালিকা সামনে রেখে আলোচনা করা হয়।

    তৃণমূলের শিলিগুড়ি বিধানসভা কেন্দ্রের কো-অর্ডিনেটর তথা কাউন্সিলার কুন্তল রায় বলেন, ঘরোয়া এই সভার পাশাপাশি পাড়া বৈঠক, ওয়ার্ডে সভা, পথসভা করছি। এর উদ্দেশ্য যুব, মহিলা এবং শ্রমিক সংগঠনের সদস্যদের মাধ্যমে ত্রিস্তরীও দেওয়াল তৈরি করা। বিধানসভা ও পুরসভা ভোটে এক ইঞ্চিও জমি ছাড়া হবে না পদ্ম শিবিরকে। পাল্টা, পুরসভার বিরোধী দলনেতা বিজেপির অমিত জৈন বলেন, তৃণমূল এবার রাজ্য থেকে ভোকাট্টা হবে। ২৮ তারিখের পর খেলায় জোর দেব আমরা।

    মহকুমার গ্রামীণ এলাকাতেও চলছে জোড়াফুলের কর্মসূচি। বুথে, পাড়ায়, অঞ্চলে এবং ব্লকস্তরে পদযাত্রা, মিছিল, সভা, খুলি বৈঠক করা হচ্ছে। ২২টি পঞ্চায়েত, চারটি পঞ্চায়েত সমিতি ও মহকুমা পরিষদ তৃণমূলের দখলে। পরিষদের সভাধিপতি তথা মাটিগাড়া-নকশালবাড়ি বিধানসভা কেন্দ্রের তৃণমূলের কো-অর্ডিনেটর অরুণ ঘোষ বলেন, আমরা সর্বদা মানুষের পাশে রয়েছি। কিন্তু ভোটের সময় হাজির হয়ে বসন্তের ‘কোকিল’ বিজেপি ফায়দা তুলবে, ‘সেগুড়ে বালি’। মহকুমার তিনটি বিধানসভা কেন্দ্র মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে উপহার দেওয়া এবং পুরসভা ও ত্রিস্তর পঞ্চায়েত ফের দখল করার শপথ নিয়েছি।
  • Link to this news (বর্তমান)