• অভিমানীদের ফেরাতে বাড়ি বাড়ি যাচ্ছেন সিপিএমের জেলা নেতৃত্ব, জলপাইগুড়ির সব বুথে পোলিং এজেন্ট দেওয়াই চ্যালেঞ্জ
    বর্তমান | ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
  • ব্রতীন দাস, জলপাইগুড়ি: একেই বলে ঠেকে শেখা। প্রতীক উর রহমান দল ছাড়তেই জলপাইগুড়িতে ‘সতর্ক’ সিপিএম। ‘অভিমানী’দের ফেরাতে তাঁদের বাড়িতে যাচ্ছে দলের জেলা নেতৃত্ব। একবারে গোঁসা মেটানো সম্ভব না হলে অভিমানী কর্মী-সদস্যের বাড়িতে নেতৃত্বকে বারবার যেতে বলা হয়েছে। খোদ সিপিএমের জেলা সম্পাদক পীযূষ মিশ্রও অভিমানীদের মান ভাঙাতে নেমে পড়েছেন আসরে। বুথস্তরে হারানো শক্তি ফিরে পেতে জলপাইগুড়িতে পাড়া বৈঠকে সবচেয়ে বেশি জোর দিয়েছে সিপিএম।

    দলীয় সূত্রে খবর, যেভাবেই হোক নিষ্ক্রিয় ও অভিমানী কর্মীদের গোঁসা ভাঙিয়ে পাড়া বৈঠকে নিয়ে আসতে বলা হয়েছে। সেইমতো সিপিএমের জেলা কমিটির সদস্যদের পাশাপাশি দলের জেলা সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্যরা তাঁদের বাড়িতে ছুটছেন। একাজে নামানো হয়েছে সিপিএমের বিভিন্ন গণ সংগঠন ও শ্রেণি সংগঠনের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতাদেরও। যা নিয়ে ‘দেরিতে বোধোদয়’ বলে কটাক্ষ করতে ছাড়ছেন না অভিমানীদের অনেকে।

    একসময় যাঁরা দলের মিটিং-মিছিলে প্রথম সারিতে থাকতেন, কিন্তু নেতৃত্বের কারো প্রতি ক্ষোভে আচমকা বসে গিয়েছেন, এমনটা চিহ্নিত করে তাঁদের ফেরানোর আপ্রাণ চেষ্টা চলছে। এক্ষেত্রে ওইসব অভিমানী কর্মীদের বাড়িতে গিয়ে একসঙ্গে খাওয়াদাওয়া করা, গল্পগুজব করে মন পাওয়ার চেষ্টায় মরিয়া সিপিএমের জেলা নেতৃত্ব। কোথাও কোথাও অভিমানী কর্মীদের কাছে প্রকাশ্যেই নিজেদের ‘ভুলভ্রান্তি’ স্বীকার করে নিচ্ছেন সিপিএম নেতারা। দলীয় সূত্রে খবর, আগামী ৫ মার্চ জলপাইগুড়িতে আসবেন সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম। কর্মীদের সঙ্গে বৈঠক করার কথা রয়েছে তাঁর। দলের রাজ্য সম্পাদক আসার আগে অভিমানীদের ফেরাতে তৎপর সিপিএমের জেলা নেতারা।
    সিপিএম সূত্রে খবর, জলপাইগুড়ি জেলায় দু’হাজারের বেশি বুথে এবারের বিধানসভা নির্বাচনে পোলিং এজেন্ট দেওয়াই বড় চ্যালেঞ্জ তাদের। কারণ, এবার কংগ্রেস পাশে নেই। ফলে যা করার তাদেরই করতে হবে। জেলায় অন্য বাম শরিকদের প্রার্থী থাকলেও ভোটের দিন বুথে বসার মতো কর্মী আদৌও তারা জোগাতে পারবে কি না, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে সিপিএমের। একারণে তারা চাইছে, নিষ্ক্রিয় ও অভিমানী কর্মীদের ফিরিয়ে ভোটের মুখে কিছুটা হলেও দলের শক্তি বৃদ্ধি ঘটানো।

    এনিয়ে সিপিএমের জলপাইগুড়ি জেলা সম্পাদক পীযূষ মিশ্র বলেন, একসময় যাঁরা সক্রিয়ভাবে দল করতেন, অথচ কোনো কারণে বাড়িতে বসে গিয়েছেন কিংবা অভিমান করে কিছুটা দূরে সরে রয়েছেন, আমরা তাঁদের ফেরানোর চেষ্টা করছি। ওইসব কর্মীর বাড়িতে বারবার যাওয়া হচ্ছে। এতে কাজ হচ্ছে। অনেকেই ফিরে আসছেন। তবে যাঁরা ফিরছেন, তাঁদের আমরা দলের ঝান্ডা ধরাচ্ছি না। সব বুথে পোলিং এজেন্ট দেওয়ার প্রশ্নে সিপিএমের জেলা সম্পাদকের দাবি, আমাদের কাঠামো প্রস্তুত। আমরা পারব।

    তবে জেলা সম্পাদক যাই বলুন না কেন, সিপিএমের এক জেলা নেতার স্বীকারোক্তি, জলপাইগুড়ি সদরের বারোপেটিয়া, পাতকাটা পঞ্চায়েত এলাকায় সব বুথে পোলিং এজেন্ট দেওয়ার মতো জায়গায় দল এখনো নেই। তবে চেষ্টা চলছে।
  • Link to this news (বর্তমান)