নিজস্ব প্রতিনিধি, শিলিগুড়ি ও সংবাদদাতা, দার্জিলিং: শীত বিদায় নেওয়ার মুখে তুষারপাত সান্দাকফুতে। মঙ্গলবার সকালে টানা দু’ঘণ্টা ধরে সেখানে তুষারপাত হয়। সেইসঙ্গে পাহাড়ে কিছু জায়গায় বিক্ষিপ্তভাবে হালকা বৃষ্টি হয়েছে। সবমিলিয়ে বিদায় লগ্নে পাহাড়ে শীতের আমেজ। এনিয়ে উচ্ছ্বসিত পর্যটকরা। তাঁদের একাংশ এদিন বরফের মধ্যে হুটোপুটি খান। সমতল থেকেও পর্যটকরা এখন পাহাড়মুখী। দোল উৎসবের ছুটিতে এবার পাহাড়ে পর্যটকদের ভিড় আরও বাড়বে বলে পর্যটন ব্যবসায়ীদের প্রত্যাশা। এমন প্রেক্ষাপটে সমগ্র পরিস্থিতির উপর নজর রাখছে প্রশাসন। জোড়বাংলো-সুখিয়াপোখরির বিডিও অর্ঘ্য গুহ বলেন, সান্দাকফুতে তুষারপাত হয়েছে। পরিস্থিতির উপর নজর রাখা হচ্ছে। পর্যটকদের সহায়তায় প্রস্তুত রয়েছে প্রশাসন।
দার্জিলিং শহর থেকে প্রায় ৬১ কিমি দূরে সান্দাকফু। দু’দিন আগেই সেখানে তুষারপাত হয়েছে। তা অবশ্য দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। এদিন সকাল সাড়ে ১০টা নাগাদ সেখানে ফের তুষারপাত হয়। তা চলে প্রায় দু’ঘণ্টা ধরে। সিঙ্গালিলা ল্যান্ড রোভার অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষে অনিল তামাং বলেন, গত ২২ ফেব্রুয়ারি তুষারপাত হয়েছিল। তা জমাট বাঁধার আগেই গলে যায়। এদিন দুই ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে তুষারপাত হয়েছে।
এখন শীতের মরশুম বিদায় নেওয়ার মুখে। সমতলে ঠান্ডার দাপট নেই বললেই চলে। দিনে রোদের তাপ ক্রমবর্ধমান। এই অবস্থায় এদিন সান্দাকফুতে তুষারপাত ঘিরে আলোড়ন পড়েছে। এরজেরে দার্জিলিংয়ে ঠান্ডা কিছুটা বেড়েছে। বিক্ষিপ্তভাবে কিছু জায়গায় বৃষ্টিও হয়েছে এদিন। চলতি শীতের মরশুমে এনিয়ে সান্দাকফুতে তিনবার তুষারপাত হল। পশুপতি ফটক ও সীমানা এলাকায় এর আগে তুষারপাত হয়েছিল। স্থানীয়দের বক্তব্য, সাধারণত ডিসেম্বর থেকে জানুয়ারির মধ্যে তুষারপাতের সম্ভাবনা বেশি। কিন্তু শীতের বিদায় লগ্নে তুষারপাত ভাবাই যায় না। সিকিম কেন্দ্রীয় আবহাওয়া দপ্তরের অধিকর্তা গোপীনাথ রাহা বলেন, পশ্চিমীঝঞ্ঝার জেরে এমন পরিস্থিতি হয়েছে। বুধবার থেকে উত্তরবঙ্গের সমতলভাগ ও পাহাড়ের পরিস্থিতি কিছুটা উন্নতি হবে। তবে সিকিমের উঁচু উপত্যকায় হালকা বৃষ্টি ও তুষারপাতের সম্ভাবনা রয়েছে।
বরফ পড়তেই পর্যটকদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ দেখা দিয়েছে। সিঙ্গালিলা ল্যান্ড রোভার অ্যাসোসিয়েশন সূত্রে জানা গিয়েছে, এখন সান্দাকফুতে ১০টির বেশি গাড়ি চলে। সেখানে প্রচুর পর্যটক ট্রেকিং করছেন। সান্দাকফু থেকে প্রায় ৬ কিমি নীচে কালপোখরি পর্যন্ত ওই এলাকায় তুষারপাত হয়েছে। সেখানেও কিছু পর্যটক আছেন। পুলিশ ও প্রশাসন জানিয়েছে, পর্যটকদের সহায়তায় এবং সবধরনের পরিস্থিতির মোকাবিলায় তারা প্রস্তুত রয়েছে।
ট্যুর অপারেটার সম্রাট সান্যাল বলেন, এখন পাহাড়ে কিছু পর্যটক আছেন। তুষারপাতের জন্য নতুন করে কিছু পর্যটক পাহাড়মুখী হচ্ছেন। দোল উৎসবের ছুটিতে পাহাড়ে পর্যটকদের ভিড় কিছুটা বাড়বে। প্রসঙ্গত, দার্জিলিংয়ের উপকণ্ঠে টাইগার হিলে সর্বশেষ ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারিতে তুষারপাত হয়েছিল। ২০১৯ সালে দার্জিলিং শহরে ২৯ জানুয়ারি অল্প সময়ের জন্য তুষারপাত হয়েছিল।