• সাইবার জালিয়াতদের অ্যাকাউন্ট ভাড়া দেওয়ার অভিযোগ, ধৃত কাপড় ব্যবসায়ী
    বর্তমান | ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: কাপড়ের ব্যবসার আড়ালে সাইবার জালিয়াতদের সাহায্য করার অভিযোগ উঠল শান্তিপুরের এক ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে। তার থেকে অ্যাকাউন্ট ভাড়া নিয়ে জালিয়াতির টাকা জমা করেছিল প্রতারকরা। বিনিময়ে ওই ব্যবসায়ী মোটা টাকা কমিশন পেয়েছে বলে অভিযোগ। অভিযুক্ত ওই কাপড় ব্যবসায়ী গৌতম মহলদারকে শান্তিপুর থেকে গ্রেপ্তার করেছে কাশীপুর থানা। তাকে জেরা করে প্রতারণা চক্রের মূল মাথাদের ধরতে চাইছে পুলিশ।
    পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, জানুয়ারি মাসে কাশীপুরের এক বাসিন্দার কাছে ফোন আসে। বলা হয়, তাঁর বিপুল অংকের বিদ্যুতের বিল বকেয়া পড়ে রয়েছে। দ্রুত না মেটালে লাইন কেটে দেওয়া হবে। ওই ব্যক্তি জানতে চান, তাহলে কী করতে হবে? তাঁকে বলা হয়, মেসেজ পাঠানো হচ্ছে। সেই লিংকে ক্লিক করে টাকা মিটিয়ে দেওয়া যাবে। প্রতারকদের কথায় বিশ্বাস করে তিনি ওই লিংকে ক্লিক করে বসেন। কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই তাঁর অ্যাকাউন্ট থেকে ১ লক্ষ ২০ হাজার টাকা উধাও হয়ে যায়। ব্যাংকের মেসেজ পেয়ে তাঁর চোখ কপালে ওঠে। তিনি বুঝতে পারেন প্রতারণার শিকার হয়েছেন। এরপর তিনি কাশীপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। পুলিশ জালিয়াতি ও প্রতারণা সহ একাধিক ধারায় মামলা রুজু করে।

    যে অ্যাকাউন্টে টাকা গিয়েছে, তদন্তে নেমে পুলিশ সেটি চিহ্নিত করে। দেখা যায়, ওই অ্যাকাউন্টটি শান্তিপুরের বাসিন্দা গৌতম মহলদারের। সেখানে নিয়মিত প্রতারণার টাকা জমা পড়ত, আবার তুলেও নেওয়া হত। এরপর কাশীপুর থানার পুলিশ শান্তিপুরে গিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে। ধৃতকে জেরা করে তদন্তকারীরা জেনেছেন, সে পেশায় কাপড়ের ব্যবসায়ী। এই ব্যবসায় মন্দা চলছিল। এরমধ্যে সোশ্যাল নেটওয়ার্কিং সাইটের মাধ্যমে এক যুবকের সঙ্গে পরিচয় হয় তার। ওই যুবক জানায় অ্যাকাউন্টের নথি দিলে ভালো টাকা কমিশন মিলবে। টাকার লোভে বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে নথি জোগাড় করে তাঁদের নামে অ্যাকাউন্ট খোলে সে। সেইসব নয়া অ্যাকাউন্টের তথ্য সে পাঠিয়ে দিত জালিয়াত চক্রের মূল পান্ডার কাছে। এই অ্যাকাউন্টগুলিতে যে টাকা জমা হত, তা প্রতারকদের কথামতো বিভিন্ন অ্যাকাউন্টে ট্রান্সফার করে দিত গৌতম। বিনিময়ে মিলত ভালো কমিশন। ধৃতের মোবাইল ঘেঁটে বেশ কয়েকজন সাইবার প্রতারকের নাম পাওয়া গিয়েছে। তাদের সম্পর্কে খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে।
  • Link to this news (বর্তমান)