উত্তর কলকাতার নিমতলা ঘাট যেন মুত্যুফাঁদ! পাড় ভাঙছে বেরিয়ে রয়েছে লোহার রড ঘোষণাই সার, সংস্কারে হাত দেয়নি বন্দর কর্তৃপক্ষ
বর্তমান | ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: কংক্রিটের আস্তরণ ভেঙে গিয়েছে। বেরিয়ে এসেছে লোহালক্কড়ের কঙ্কাল। কোথাও কোথাও বিপজ্জনকভাবে উঁচু হয়ে রয়েছে রড। সামান্য অন্যমনস্ক হলেই বিপদ অনিবার্য। বাঁধানো ঘাটের একাংশ গঙ্গাবক্ষে তলিয়ে গিয়েছে। উত্তর কলকাতার নিমতলা বিসর্জন ঘাটের এমনই বেহাল দশা। অথচ এখানে মানুষের আনাগোনা লেগেই রয়েছে। গঙ্গাপাড়ে যেমন অনেকে ঘুরতে আসেন, তেমনই পার্শ্ববর্তী মন্দিরে পুজো দিতে আসেন বহু মানুষ। গঙ্গা থেকে জল তুলতে গিয়ে কিংবা স্নানের জন্য তাঁরা এই ঘাট ব্যবহার করেন। তাই বিপদের আশঙ্কা আরও বেশি। কিন্তু গত দু’বছরেরও বেশি সময় ধরে নিমতলা ঘাটের কোনো সংস্কার হয়নি। ঘোষণা রয়ে গিয়েছে কেবল খাতায়কলমে। কলকাতা বন্দর কর্তৃপক্ষ অবশ্য জানাচ্ছে, পরিকল্পনা বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া চলছে।
নিমতলা বিসর্জন ঘাটের পাশেই রয়েছে প্রসিদ্ধ শিবমন্দির ভূতনাথ। রয়েছে কালী মন্দির, বজরংবলী মন্দিরও। রোজ বহু ভক্ত আসেন। তাছাড়া সারা বছরই কমবেশি প্রতিমা বিসর্জন লেগে থাকে এই ঘাটে। এরকম একটি জনপ্রিয় ও গুরুত্বপূর্ণ ঘাট মাসের পর মাস বেহাল অবস্থায় পড়ে থাকলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কেন কোনো মাথাব্যথা নেই, সেই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। বিপজ্জনক ঘাট হিসেবে আলাদা করে কোনো সতর্কবাণী পর্যন্ত দেওয়া নেই এখানে। স্থানীয় দোকানদার ঘনশ্যাম সাউ বলেন, ‘কয়েক বছর ধরে ঘাটের অবস্থা খারাপ। পুজোর সময় ভাঙা জায়গাটা ঘিরে দিয়েছিল। এখন আবার আগের মতো। যাঁরা নিয়মিত স্নান করেন, তাঁরা অভ্যস্ত। কিন্তু বিপদ তো আর বলে আসে না! এই ঘাটের দ্রুত সংস্কার জরুরি।’ নিয়মিত ভূতনাথ মন্দিরে পুজো দিতে আসেন সবিতা দাস, রাহুল পান্ডে, রঞ্জন কর্মকাররা। ঘাটে জল তুলতে গিয়ে আরেকটু পড়েই যাচ্ছিলেন রাহুল। তিনি বলেন, ‘এমন একটা ঘাটের এই অবস্থা! আগেও একদিন একজন জখম হয়েছে। অবিলম্বে এই ঘাট সারানো উচিত।’
নিমতলা সহ শহরের বিভিন্ন গঙ্গার ঘাট কলকাতা বন্দর কর্তৃপক্ষের আওতাভুক্ত। সেখানে যে কোনো কাজ বন্দর কর্তৃপক্ষ করে। গত কয়েক বছর ধরে এই ঘাটের সংস্কার নিয়ে কলকাতা পুরসভা ও বন্দরের মধ্যে চিঠি চালাচালি হয়েছে। মেয়র ফিরহাদ হাকিম এবং কলকাতা বন্দরের চেয়ারম্যানের মধ্যে বৈঠকও হয়। বন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছিল, ঘাটগুলি সংস্কারের বিষয়ে তারা নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে দিয়ে সার্ভে করাচ্ছে। পরবর্তী সময়ে বন্দর কর্তৃপক্ষ জানায়, বেসরকারি সংস্থার সিএসআর ফান্ডে নিমতলা ঘাট সংস্কারের পরিকল্পনা হয়েছে। সেই ঘোষণার পর বেশ কয়েক মাস কেটে গেলেও কাজ শুরুই হয়নি। কলকাতা পুরসভার এক কর্তা বলেন, ‘দফায় দফায় বৈঠক ও যৌথ পরিদর্শন হলেও বন্দরের ঘোষণা খাতায়কলমেই থেকে গিয়েছে।’ যদিও শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জি পোর্ট অথরিটির মুখ্য জনসংযোগ আধিকারিক সঞ্জয়কুমার মুখোপাধ্যায় বলেন, ‘কলকাতায় হুগলি নদীর ঐতিহাসিক ঘাটগুলির সংস্কার, সংরক্ষণ এবং সৌন্দর্যায়নে বন্দর কর্তৃপক্ষ বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে। বিভিন্ন কর্পোরেট সংস্থার সিএসআর ফান্ড থেকে কাজ হবে। কুমোরটুলি ঘাট, ছোটেলাল কি ঘাট, নিমতলা নিরঞ্জন ঘাট, মায়ের ঘাট, সুরিনাম ঘাট এবং দইঘাটের পুনরুদ্ধার এবং পুনর্জীবন জরুরি প্রয়োজন। কাজের প্রস্তাবগুলি অনুমোদনের বিভিন্ন পর্যায়ে রয়েছে।’