• হাওড়ায় সাবওয়ের ১২টি কাউন্টার বন্ধ, টিকিট নিয়ে ভোগান্তি
    বর্তমান | ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া: বাসস্ট্যান্ডে নেমে যাত্রীরা সরাসরি ঢুকে যাচ্ছেন হাওড়া স্টেশনের সাবওয়েতে। টিকিট কাটা নিয়ে চিন্তা নেই! কারণ, সাবওয়েতেই রয়েছে পরপর ১২টি টিকিট কাউন্টার। সর্পিল গতিতে এগচ্ছে লম্বা লাইন। বছরের পর বছর এমন দৃশ্য দেখতেই অভ্যস্ত হাওড়া স্টেশনের লক্ষ লক্ষ যাত্রী। কিন্তু গত রবিবার থেকে আচমকাই বদলে গিয়েছে ছবিটা! যাত্রীদের চাপ বাড়লে দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে—এই যুক্তি দেখিয়ে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে সাবওয়ের ১২টি অসংরক্ষিত টিকিট কাউন্টার। সেই জায়গায় বসানো হয়েছে ৯টি অটোমেটিক টিকিট ভেন্ডিং মেশিন (এটিভিএম)। আর তাতে সুবিধার বদলে দুর্ভোগ বেড়েছে যাত্রীদের।

    স্টেশন সংলগ্ন কলকাতা ও হাওড়া বাসস্ট্যান্ড থেকে ১২টি গেট দিয়ে সাবওয়েতে প্রবেশ করা যায়। যাত্রীদের সুবিধার কথা মাথায় রেখেই সাবওয়েতে টিকিট কাউন্টারের ব্যবস্থা হয়েছিল। রেলের দাবি, সংকীর্ণ জায়গায় বাড়তে থাকা ভিড় বিপদ ঘটাতে পারে। তাই কাউন্টার বন্ধ করে মেশিন বসানো হয়েছে এবং একটি বেসরকারি সংস্থাকে পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। বাস্তবে কী দেখা যাচ্ছে? যাত্রীদের অভিযোগ, কাউন্টারের তুলনায় এটিভিএমে একটি টিকিট প্রিন্ট হতে বেশি সময় লাগছে। সাধারণ কাউন্টারে একটি টিকিট প্রিন্ট হতে যেখানে ১০ থেকে ১৫ সেকেন্ডে লাগত, সেখানে অত্যাধুনিক মেশিনে লেগে যাচ্ছে প্রায় ৪০ সেকেন্ড। ফলে লাইন দীর্ঘতর হচ্ছে। উপরন্তু ৯টি মেশিনের মধ্যে দু’টি অকেজো থাকায় ভোগান্তি হচ্ছে দ্বিগুণ। যাঁরা এভাবে টিকিট নিতে চাইছেন না, তাঁরা প্ল্যাটফর্মে টিকিট কাউন্টার খুঁজতে গিয়ে বিভ্রান্ত হচ্ছেন। ভুক্তভোগীরা বলছেন, সাবওয়েতে ভিড় কমার বদলে বেড়ে গিয়েছে। মঙ্গলবার দুপুরে পুরুলিয়াগামী ট্রেন ধরার টিকিট কাটতে এটিভিএমের সামনে দাঁড়িয়েছিলেন শংকর চৌরাশিয়া ও বিনোদ পাসওয়ান। তাঁদের কথায়, ‘কাউন্টার থাকলে এত ঝামেলা হত না। খুচরো নিয়েও সমস্যায় পড়তে হচ্ছে।’ হুগলির দেবোপম সাহার প্রশ্ন, ‘সাধারণ মানুষ কি এই আধুনিক পরিকাঠামোর সঙ্গে মানিয়ে নিতে পারবে?’ রেলের এক কর্তা বলেন, ‘বর্ধমান স্টেশনে ভিড়ের চাপে পদপিষ্ট হওয়ার ঘটনার প্রেক্ষিতে এই সিদ্ধান্ত। এতে সাবওয়েতে ভিড় নিয়ন্ত্রণ করা যাবে।’ যদিও সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, কাউন্টার বন্ধ করে আসলে টিকিট সংক্রান্ত পরিষেবার বেসরকারিকরণের পথ প্রশস্ত করা হচ্ছে।
  • Link to this news (বর্তমান)