সমৃদ্ধ দত্ত, নয়াদিল্লি: জল। বিদ্যুৎ। বন্দর। রেল। স্বাস্থ্য। খাদ্যপণ্য। ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে চলা দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য আবার আলোর মুখ দেখতে চলেছে। ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনের জেরে ধাক্কা খেতে শুরু করেছিল দু’দেশের ব্যবসায়িক সম্পর্ক। তা সত্ত্বেও ওই আর্থিক বছরে ১৪০০ কোটি ডলারের দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য হয়েছে নয়াদিল্লি ও ঢাকার মধ্যে। দক্ষিণ এশিয়ায় এখনও বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ বাণিজ্য অংশীদার ভারতই। একঝাঁক চুক্তি দুই দেশের মধ্যে হয়ে রয়েছে। বেশ কিছু চুক্তির পুনর্নবীকরণ হওয়ার কথা এই বছরেই। সেই সময়সীমা অতিক্রান্ত হওয়ার আগেই উভয় দেশ চাইছে দ্রুত সম্পর্ক আবার যথাসম্ভব স্বাভাবিক করে ফেলতে। সব মিলিয়ে ওপার বাংলায় ভোটের পর নোবেলজয়ী মহম্মদ ইউনুসের অন্তর্বর্তী সরকার সরে যেতেই আবার সুসম্পর্কের বন্ধনে আবদ্ধ হচ্ছে দিল্লি-ঢাকা।
বাংলাদেশ দুটি চুক্তি নিয়ে কিছু কিছু নতুন শর্তাবলি আরোপ করতে চাইছে। সরকারি সূত্রের খবর, ভারতের স্বার্থ অক্ষুণ্ণ রেখে ওই সব শর্ত নিয়ে আলোচনা করতে প্রস্তুত নয়াদিল্লি। ভারত থেকে ২৫ বছরের চুক্তিতে বিদ্যুৎ আমদানি করে বাংলাদেশ। ঢাকা চাইছে, বিদ্যুতের দামে কিছু সুরাহা পেতে। তা নিয়ে আলোচনা হবে। বেসরকারি সংস্থার থেকে বাংলাদেশ ১৬০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ ক্রয় করে। এই পরিমাণ আরও বৃদ্ধি করা হবে। সেই কারণে দাম নিয়ে দর কষাকষি চলবে। ফরাক্কার গঙ্গা জলবণ্টন চুক্তি সমাপ্ত হচ্ছে ডিসেম্বর মাসে। জুন মাসের মধ্যেই তা নিয়ে আলোচনা শুরু করে চুক্তি পুনর্নবীকরণ করা হবে বলে খবর। ভারত এবং বাংলাদেশ উভয় পক্ষেরই নতুন কিছু শর্ত অন্তর্ভুক্ত হবে তাতে। গ্রীষ্ম, বর্ষা, শীতে জল বণ্টনের যে ফরমুলা রয়েছে, সেটিতে কিছু বদল আসবে। এ নিয়ে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের সঙ্গেও কথা বলেছে কেন্দ্র। তিস্তা জলবণ্টন চুক্তি নিয়ে একটি স্থায়ী আশ্বাস তথা প্রতিশ্রুতি চাইবে ঢাকা। কিন্তু ভারত সরকার এখনই এককভাবে কোনো সিদ্ধান্ত নিতে নারাজ।
রেল, বন্দর এবং খাদ্যপণ্য সংক্রান্ত দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য যে আবার পুরোদমে শুরু করতে চাইছে দিল্লি-ঢাকা, সেই ইঙ্গিতও মিলেছে। রেলের একঝাঁক বকেয়া প্রকল্প ভারত যাতে ফের শুরু করে এবং কন্টেনার সার্ভিস পাঠানোর পথ প্রশস্ত হয়, তা নিয়ে শীঘ্রই আলোচনায় বসবে দুই দেশের রেলপরিবহণ মন্ত্রক। সরকারের থেকে সবুজ সংকেত পেয়ে সোমবার বাংলাদেশের বিদেশমন্ত্রী খলিলুর রহমান এবং বিদেশ মন্ত্রকের রাষ্ট্রমন্ত্রী শামা ওবায়েদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের রাষ্ট্রদূত প্রণয় ভার্মা। বৈঠকের পর তিনি বলেছেন, দুই দেশই পুনরায় ইতিবাচক, গঠনমূলক এবং ভবিষ্যৎমুখী বাণিজ্য ও দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক গড়ে তুলতে সহমত। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ব্যক্তিগতভাবে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে চিঠি লিখে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক অব্যাহত রাখার বার্তা দিয়েছেন। জানা যাচ্ছে, এব্যাপারে শেখ হাসিনার দিল্লিতে আশ্রয় নেওয়া কোনো অন্তরায় নয় বিএনপি সরকারের কাছে। আইনি-কূটনীতির পথে বঙ্গবন্ধু-কন্যাকে প্রত্যর্পণ করার দাবি তোলা হবে। কিন্তু উপমহাদেশের শান্তি ও সুস্থিতির লক্ষ্যেই ভারতের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য করতে চাইছে বিএনপি সরকার। দুই দেশের সরকারি ও বাণিজ্য প্রতিনিধিদের সফরের সম্ভাবনাও রয়েছে কয়েক মাসের মধ্যে।