দুশ্চিন্তা তাড়া করছে উত্তরবঙ্গ মেডিক্যালের রেডিওথেরাপি বিভাগের চিকিৎসকদের। তাঁদের উদ্বেগ চিকিৎসা করাতে এসে রোগীদের কাউকে না সাপের ছোবলে প্রাণ দিতে হয়! উদ্বেগে থাকেন নিজেরাও। তাঁদের তো অহরহ সেখানে যাতায়াত। রাতভর উদ্বেগে থাকেন সিক নিউ বর্ন কেয়ার ইউনিট (এসএনসিইউ)-এর নার্সরা। তাঁদের দুশ্চিন্তা আবার ইঁদুরের উপদ্রব ঘিরে। ওয়ার্ডের ভিতরে পর্যন্ত ইঁদুর ঢুকে পড়ছে। পাছে কোনও শিশুকে যদি কামড়ে দেয়, এই পরিস্থিতিতে দুশ্চিন্তায় ঘুম উড়েছে মায়েদেরও। অঙ্কোলজি বিভাগে ওয়ার্ডের ‘ফলস সিলিং’য়ের ভিতরে চাক বানিয়েছে মৌমাছি। বস্তুত, হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ডের আশপাশে সাপের আস্তানা, ওয়ার্ডের মধ্যে ইঁদুর, মৌমাছির উপদ্রবে আতঙ্কিত রোগীরাও।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, মাস কয়েক আগে রেডিওথেরাপি বিভাগ থেকে কয়েক ফুট লম্বা একটি গোখরো উদ্ধার হয়। করিডরের আশপাশে গোখরোর আস্তানা বলে অভিযোগ। ক্যাম্পাস এবং ওয়ার্ড লাগোয়া নানা জায়গা ঝোপ-জঙ্গলে ছেয়ে রয়েছে। তাতে বিভিন্ন ওয়ার্ডে সাপ ঢুকে পড়তে পারে বলে দাবি উদ্বিগ্ন চিকিৎসক, স্বাস্থ্যকর্মীরা। চিকিৎসকেরা বিভিন্ন সময় সমস্যার কথা কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছেন। অভিযোগ বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই কোনও সাড়া মেলেনি।
হাসপাতালের অতিরিক্ত সুপার নন্দন বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘‘সমস্যা গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। পেস্ট কন্ট্রোলের জন্য বলা হয়েছে। তারা শীঘ্রই কাজ করবে। আট-নয় মাস আগেও পেস্ট কন্ট্রোল এক বার করা হয়েছে।’’
হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, শুধু এসএনসিইউ-তে নয়। ইঁদুরের উপদ্রব ডায়ালিসিস বিভাগ, ফিমেল ক্যাজুয়ালটি, ট্রমা কেয়ার ইউনিট, চেষ্ট, মানসিক রোগ বিভাগের মতো অনেক বিভাগে রয়েছে। ডায়ালিসিস বিভাগে ডায়ালিসিস যন্ত্রের প্লাস্টিকের নল প্রায়ই কেটে নষ্ট করছে ইঁদুরের দল। মানসিক রোগ বিভাগের প্রধান নির্মল বেরা বলেন, ‘‘আমাদের বিভাগেও ইঁদুরের মারাত্মক উপদ্রব। কর্তৃপক্ষকে বলা হয়েছে।’’ অঙ্কোলজি বিভাগের প্রধান সম্রাট দত্তের কথায়, কয়েক মাস আগে তাঁদের বিভাগ থেকে গোখরো উদ্ধার করা হয়। তার উপর মৌমাছির উপদ্রবে অনেক সময় কাজ করা মুশকিল হয়। তিনি বলেন, ‘‘সাপ, মৌমাছি, ইঁদুরের উপদ্রব বেড়েছে। দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া দরকার।’’ এনএনসিইউতে থাকা শিশুর রোগীর পরিবার ওয়ার্ডে ইঁদুরের উৎপাতের কথা শুনে আতকে ওঠেন। কয়েকজন বলেন, ‘‘যা শুনছি তাতে হাসপাতালে এই পরিস্থিতি কেন হবে। কর্তৃপক্ষের তরফে দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে যে কোনও সময় অঘটন ঘটে যাবে।’’