• যুব সাথীর জের, ব্যাঙ্কে অ্যাকাউন্ট খোলার হিড়িক
    আনন্দবাজার | ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
  • যুব সাথী প্রকল্পের আবেদন পত্র জমা নেওয়া শুরু হতেই নতুন ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট খোলার হিড়িক পড়েছে জেলা সদরে। ব্যাঙ্কগুলিতে নতুন অ্যাকাউন্ট খুলতে চেয়ে অন্য সময়ের থেকে কয়েক গুণ বেশি আবেদন জমা পড়ছে। ব্যাঙ্কের পাশাপাশি স্থানীয় গ্রাহক পরিষেবা কেন্দ্রগুলিতেও নতুন অ্যাকাউন্ট খোলার ভিড় হচ্ছে।

    ব্যাঙ্কের কর্মীরা জানাচ্ছেন, যে সব যুবকেরা মাধ্যমিক বা উচ্চ-মাধ্যমিক পরীক্ষা দিয়ে পড়াশোনা ছেড়ে ছোটখাটো কোনও কাজের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছেন, তাঁদের মধ্যেই নতুন অ্যাকাউন্ট খোলার প্রবণতা সবচেয়ে বেশি। জানা যাচ্ছে, শহরের অসংগঠিত ক্ষেত্রের শ্রমিক, অতি ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী বা ছোট-বড় দোকানের কর্মচারীদের একটা বড় অংশ মাধ্যমিক উত্তীর্ণ। কিন্তু এই কাজের ক্ষেত্রগুলিতে যে হেতু নগদ টাকাতেই কারবার চলে বা কর্মীদের মাইনেও নগদেই দেওয়া হয়, তাই অনেকেরই নিজস্ব ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ছিল না। নতুন অ্যাকাউন্ট খোলার বিশেষ তাগিদও ছিল না।

    রাজ্য সরকার যুব সাথী প্রকল্পের ঘোষণা করার পর থেকেই ছবিটা বদলেছে। ২১-৪০ বছরের মধ্যে থাকা মাধ্যমিক উত্তীর্ণ যুবকেরা যে হেতু যুবসাথীর টাকা পাওয়ার ক্ষেত্রে যোগ্য, তাই এখন হঠাৎই তাঁরা নিজেদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট খোলার জন্য তৎপর হয়ে উঠেছেন। ব্যাঙ্কের আধিকারিকরা জানান, রিজার্ভ ব্যাঙ্কও চায় প্রতিটি নাগরিকের নিজস্ব ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট থাকুক। সে দিক থেকে এই প্রবণতা সার্বিক ভাবে খুব ভাল বলে ব্যাঙ্ক কর্তাদের মত।

    সিউড়ির সোনাতোড় পাড়ায় একটি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কের গ্রাহক পরিষেবা কেন্দ্র চালান রুদ্রদীপ মুখোপাধ্যায়। তিনি বলেন, ‘‘যে দিন থেকে যুব সাথীর ফর্ম পূরণের কথা ঘোষণা করা হয়, সে দিন থেকেই বহু মানুষ নতুন অ্যাকাউন্ট খোলার জন্য কেন্দ্রে আসতে শুরু করেন। রাজমিস্ত্রির জোগানদার থেকে শুরু করে মোটর গ্যারাজের কর্মী, শপিং মলের কর্মী থেকে শুরু করে সদ্য কলেজ উত্তীর্ণ যুবক—অনেকেই আসছেন।’’ তিনি জানাচ্ছেন, আগে যেখানে তিনি দৈনিক গড়ে ১-২টি করে নতুন অ্যাকাউন্ট খুলতেন, সেখানে গত কয়েক দিনে দৈনিক গড়ে ১০-১২টি করে অ্যাকাউন্ট খুলেছেন তিনি।

    সিউড়ির রক্ষাকালীতলায় অপর এক গ্রাহক পরিষেবা কেন্দ্রের আধিকারিক বিপ্লব কুণ্ডু বলেন, “সমাজের একটা অংশের মানুষ মাধ্যমিক বা উচ্চ মাধ্যমিকের পর আর পড়াশোনা করেননি। সেই কর্মীরা নগদে টাকা পেতেন, সেই টাকা নগদে খরচও হয়ে যেত। ব্যাঙ্কে সঞ্চয়ের ভাবনা বা প্রয়োজনীয়তা তাঁরা বোধ করেননি। কিন্তু যুব সাথী প্রকল্পের ঘোষণার পর তাঁরাই প্রচুর সংখ্যায় অ্যাকাউন্ট খোলার আবেদন নিয়ে হাজির হচ্ছেন।’’ তিনি জানান, মাসে ২০-২৫টা অ্যাকাউন্টের জায়গায় এ মাসে প্রায় ১৫০ অ্যাকাউন্ট খোলা হয়েছে। তাঁর কথায়, ‘‘কাজের চাপ বেড়েছে, তবে প্রান্তিক মানুষের ব্যাঙ্কের সঙ্গে জড়িত হওয়ার প্রবণতা আমাদেরও কাজে উৎসাহ বাড়াচ্ছে।”
  • Link to this news (আনন্দবাজার)