• বেড়ার ও পারের জমি নিয়ে বিকল্প ব্যবস্থার আবেদন
    আনন্দবাজার | ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
  • বাংলাদেশের সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়ার ও পারের জমি এখন ওঁদের দুর্ভাবনার কারণ। ওঁরা সেই কৃষিজাবী, যাঁরা বেড়ার ও পারে নিজের জমিতে চাষ করতে গিয়ে বাংলাদেশি দুষ্কৃতীদের হামলার শিকার হয়েছেন। সীমান্তে বেড়া দেওয়া নিয়ে কেন্দ্র এবং রাজ্য সরকারের চাপান-উতোরের মধ্যে ওঁদের আর্জি, সরকার বেড়ার ও পারের জমি অধিগ্রহণ করুক। বেড়ার এ পারে ভারতীয় ভূখণ্ডে সম পরিমাণ কৃষিজমি দিক।

    গত এপ্রিলে কোচবিহারের শীতলখুচির বাসিন্দা উকিল বর্মণ কাঁটাতারের ও পারে নিজের জমিতে কাজ করছিলেন। বাংলাদেশি দুষ্কৃতীরা তাঁকে অপহরণ করে। ২৮ দিন পরে উকিল বাংলাদেশ থেকে ফিরে আসেন। গত সেপ্টেম্বরে শীতলখুচির কৃষ্ণকান্ত বর্মণকে একই ভাবে নিজের জমি থেকে তুলে নিয়ে যায় বাংলাদেশের দুষ্কৃতীরা। সে বারে অবশ্য ১০ ঘণ্টার মধ্যে কৃষ্ণকান্তকে ফিরিয়ে এনেছিল সীমান্ত রক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। ২০২৫-এর ফেব্রুয়ারিতে জেলার মেখলিগঞ্জের ফুলকাডাবরির কৃষক সুশীল রায়ের কাঁটাতারের ও পারে থাকা এক বিঘের জমির ফসল নষ্ট করে দেয় বাংলাদেশের দুষ্কৃতী-দল।

    উকিল বর্মণের ছেলে পরিতোষ বলেন, ‘‘কাঁটাতারের ও পারে চার বিঘে জমি রয়েছে আমাদের। বাবার উপরে হামলার পরে সেখানে চাষ করা আর সম্ভব হচ্ছে না। সরকার ক্ষতিপূরণের মধ্যে দিয়ে ওই জমি অধিগ্রহণ করুক।’’ ফুলকাডাবরির কৃষক সুশীল রায়ের আবেদন, ‘‘কাঁটাতারের ও পারের জমিতে নিরাপত্তা ও অনিশ্চয়তার কারণে চাষাবাদ সম্ভব হয় না। ওই জমি সরকার কিনে নিক। বিকল্প হিসেবে কাঁটাতারের এ পারে সমপরিমাণজমি দিক।’’

    কোচবিহারে ‘সীমান্ত উন্নয়ন সংগ্রাম কমিটি’ গড়ে ওই দাবি তুলেছেন ফরওয়ার্ড ব্লকের অগ্রগামী কিসানসভার রাজ্য সম্পাদক আবদুর রউফ। তাঁর দাবি, ‘‘সীমান্ত লাগোয়া ১২টি জেলায় সাড়ে পাঁচ লক্ষ একরের মতো জমি রয়েছে কাঁটাতারের বেড়ার ও পাশে। কোচবিহারে সে জমির বড় অংশ রয়েছে। তা অধিগ্রহণ করে ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা করা উচিত।’’ স্মারকলিপি আকারে সে দাবি জেলা প্রশাসনের কাছে জমা দিয়েছেন তাঁরা।

    কোচবিহারের জেলাশাসক রাজু মিশ্র এ প্রসঙ্গে মন্তব্য করেননি। তবে জেলা প্রশাসনের এক কর্তা বলেন, ‘‘সরকারের তরফ থেকে যেমন নির্দেশ আসবে, তেমন ভাবে কাজ হবে। সবটাই উপর মহলেজানানো হয়েছে।’’

    রাজ্যের উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন মন্ত্রী উদয়ন গুহর মতে, ‘‘দুই দেশের সীমান্তে জ়িরো পয়েন্ট থেকে দেড়শো মিটার দূরে কাঁটাতারের বেড়ার সিদ্ধান্ত হয়েছিল। এ পারে তা দেওয়া হলেও, ও পারে হয়নি। তাতেই সমস্যা। কেন্দ্রীয় সরকারের মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে বিষয়টি দেখা উচিত।’’ প্রাক্তন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী তথা বিজেপি নেতা নিশীথ প্রামাণিক বলেন, ‘‘রাজ্য জমি অধিগ্রহণ করুক। কেন্দ্র স্বাগত জানাবে। তাতে কাঁটাতারের বেড়া দেওয়া থেকে শুরু করে সব সমস্যা মিটবে। বিএসএফেরও সুবিধে হবে।’’
  • Link to this news (আনন্দবাজার)