সামনেই পশ্চিমবঙ্গ-সহ পাঁচ রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচন। ওই ভোট ঘোষণার ঠিক আগে পশ্চিমবঙ্গ লাগোয়া বিহারের সীমাঞ্চল এলাকায় অনুপ্রবেশ, তার কারণে জনবিন্যাসের পরিবর্তন ও অবৈধ ধর্মস্থানের কাঠামো নির্মাণের মতো বিষয়গুলি নিয়ে একটি বৈঠকের আয়োজন করতে চলেছে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক। আগামিকাল তিন দিনের জন্য বিহারে যাচ্ছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। তিনি ওই বৈঠকে উপস্থিতি থাকায় ওই সম্মেলনটি আলাদা মাত্রা পেয়েছে।
পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনে এ বার বিজেপির প্রচারের অন্যতম হাতিয়ার হতে চলেছে বাংলাদেশি অনুপ্রবেশ। সীমান্ত পেরিয়ে এ দেশে প্রবেশ করা বাংলাদেশিরা কী ভাবে কেবল পশ্চিমবঙ্গেরই নয় পার্শ্ববর্তী ঝাড়খণ্ড ও বিহারের সীমাঞ্চল এলাকায় (কিষাণগঞ্জ, আরারিয়া, পূর্ণিয়া, কাটিহার, মাধেপুরা, সহর্ষা ও সুপৌল) ঘাঁটি গেড়ে এলাকাগুলির জনবিন্যাস থেকে স্থানীয় সংস্কৃতি পাল্টে দিয়েছে, তা নিয়েও আলোচনা হওয়ার কথা ওই বৈঠকে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক জানিয়েছে, ওই জেলাগুলি ভারত-বাংলাদেশ ও ভারত-নেপাল সীমান্তের কাছে অবস্থিত। দেশের সুরক্ষার ও আন্তঃসীমান্ত গতিবিধির প্রশ্নে ওই জেলাগুলি দীর্ঘ সময় ধরেই স্পর্শকাতর হয়ে রয়েছে। মনে করা হচ্ছে, ওই জেলাগুলির পরিস্থিতিকে তুলে ধরে সম্ভবত অনুপ্রবেশ প্রশ্নে পশ্চিমবঙ্গবাসীকে বার্তা দেওয়ার চেষ্টা করা হবে। অনুপ্রবেশের প্রশ্নে পশ্চিমবঙ্গের হাল যে খুব একটা ভাল নয়, সেই বিষয়টিও আলাদা করে তুলে ধরা হতে পারে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক সূত্রের মতে, বৈঠকে গত কয়েক বছরে সীমাঞ্চলের জনবিন্যাসের যে পরিবর্তন হয়ে চলেছে, সেই আলোচনা ছাড়াও অনুপ্রবেশ কী ভাবে হচ্ছে, কোন পথে হচ্ছে, কী ভাবে তা রোখা সম্ভব— তা নিয়েও কথা হবে ওই বৈঠকে। ওই সব এলাকায় যে অবৈধ ধর্মীয় কাঠামো বিনা অনুমতিতে গড়ে উঠছে, সেগুলিও নিয়েও বৈঠকে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের আধিকারিকদের মতে, বৈঠকে নজরদারি ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করা, বিভিন্ন এজেন্সির মধ্যে আরও দক্ষতার সঙ্গে সমন্বয়সাধন ও স্পর্শকাতর জেলাগুলিতে প্রশাসন যাতে আরও সতর্ক থাকে সেই বিষয়টির উপরেও জোর দেওয়া হবে।