SIR-এ ১ কোটি ২০ লক্ষ নাম বাদ যাবে, ভবানীপুরে দাঁড়িয়ে বড় আশঙ্কা মমতার
আজ তক | ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
বিধানসভা নির্বাচনের আগে রাজ্যে ভোটার তালিকা সংশোধন বা এসআইআর প্রক্রিয়া ঘিরে জোর বিতর্কের আবহে মুখ খুললেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বুধবার ভবানীপুরে একাধিক সরকারি প্রকল্পের উদ্বোধনী মঞ্চ থেকে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন, এসআইআর প্রক্রিয়ার জেরে বিপুল সংখ্যক বৈধ ভোটারের নাম চূড়ান্ত তালিকা থেকে বাদ পড়তে পারে।
মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, 'এসআইআর-এর জন্য অনেকের ভোটাধিকার চলে গেছে। আমি মানবিকতা দেখতে চাই, ধর্ম নয়। গণতন্ত্র যেন অক্ষুণ্ণ থাকে, সেটাই সবচেয়ে বড় কথা।' তিনি আরও বলেন, 'আদালতের নির্দেশের পরেও কয়েক দিন কেটে গেলেও বহু অভিযোগের নিষ্পত্তি হয়নি। যখন মানুষ দেখবেন তাঁদের নাম নেই, কত কষ্ট হবে তাঁদের। যাদের সব কাগজপত্র ঠিক আছে, তাঁদের নাম যেন কোনওভাবে বাদ না যায়, এই প্রার্থনাই করছি'।
রাজ্যে এসআইআর প্রক্রিয়ায় এখনও প্রায় ৬০ লক্ষ ভোটারের অভিযোগের নিষ্পত্তি হয়নি বলে জানা যাচ্ছে। প্রথমে ৫৮ লক্ষ নাম বাদ যাওয়ার আশঙ্কা শোনা গেলেও পরে তা ৮০ লক্ষে পৌঁছয়। মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, সব মিলিয়ে প্রায় ১ কোটি ২০ লক্ষ নাম বাদ যাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
এদিকে শীর্ষ আদালত নির্দেশ দিয়েছে, ২৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করতে হবে। যদিও অতিরিক্ত তালিকা পরে প্রকাশ করা যেতে পারে। কমিশনের বক্তব্য, ভোটের আগে সংশোধিত তালিকা প্রকাশ বাধ্যতামূলক নয়। ফলে যাঁদের নাম চূড়ান্ত তালিকায় থাকবে না, তাঁদের ভোটাধিকার আপাতত কার্যত স্থগিতই থাকবে।
মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট ভাষায় বলেন, 'কার নাম বাদ যাচ্ছে, হিন্দু, মুসলিম, শিখ না জৈন, তা আমি দেখি না। কিন্তু বৈধ ভোটারের নাম বাদ যাওয়া কোনওভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।' তিনি আরও জানান, তালিকা প্রকাশের পর বাদ পড়া ভোটারদের ভবিষ্যৎ নিয়েও অনিশ্চয়তা রয়েছে।
অভিযোগ নিষ্পত্তির প্রক্রিয়া নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী বিচারিক আধিকারিকদের দিয়ে আবেদন খতিয়ে দেখা হচ্ছে। হিসেব অনুযায়ী, যদি এক হাজারের বেশি বিচারিক আধিকারিক দায়িত্ব নেন এবং প্রত্যেকে দিনে গড়ে ২৫০টি আবেদন পরীক্ষা করেন, তবে প্রায় ২০ দিনের মধ্যে কাজ শেষ হতে পারে। তবে প্রাথমিক অনুমান বলছে, শেষ পর্যন্ত ৩০ থেকে ৪০ লক্ষ নাম চূড়ান্ত তালিকায় না থাকার আশঙ্কা থেকেই যাচ্ছে। কমিশন সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রায় ১ কোটি ২০ লক্ষ তথ্যে অসঙ্গতি এবং ৩২ লক্ষ ‘অচিহ্নিত’ নাম ঘিরে জটিলতা তৈরি হয়েছে।
এদিন ভবানীপুরে জৈন মানস্তম্ভ ও সন্ত কুঠিয়া গুরদ্বারের উদ্বোধন করেন মুখ্যমন্ত্রী। পাশাপাশি ‘সবুজ সাথী’ কর্মসূচির আওতায় প্রায় ১২ লক্ষ ৫৬ হাজার সাইকেল বিতরণ করা হয়, যার জন্য ব্যয় হয়েছে প্রায় ৫০৭ কোটি টাকা। এছাড়া পরিবহণ দফতরের ১০০টি এসি সিএনজি ও ২০টি নন-সিএনজি বাসেরও উদ্বোধন করেন তিনি।