• জয়পুরে বাম ঐক্যে ফাটল, দেওয়াল দখলে ফব, সিপিএম
    বর্তমান | ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
  • দূর্বাদল চন্দ্র, ঝালদা: ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের নির্ঘণ্ট এখনো ঘোষণা হয়নি। কিন্তু, তার আগেই পুরুলিয়ার জয়পুর বিধানসভা কেন্দ্রে বামফ্রন্টের অন্দরে শুরু হয়েছে তীব্র স্নায়ুযুদ্ধ। দীর্ঘ দিনের শরিকি প্রথা ভেঙে এবার এই আসনে নিজেদের প্রার্থী দিতে মরিয়া সিপিএম। নিজেদের পুরনো গড় ছাড়তে নারাজ ফরওয়ার্ড ব্লকও। দুই দলেরই নীচুতলার কর্মীরা দেওয়াল লিখন করছে, যা ঘিরে বাম ঐক্যে ফাটল স্পষ্ট হয়েছে।

    বামফ্রন্টের আসন সমঝোতার অঙ্কে জয়পুর কেন্দ্রটি কয়েক দশক ধরে ফরওয়ার্ড ব্লকের দখলেই ছিল। সিপিএম কর্মীদের দাবি, বর্তমানে বুথস্তরে ফরওয়ার্ড ব্লকের সংগঠন ‘আইসিইউ’-তে চলে গিয়েছে। গত পঞ্চায়েত বা লোকসভা নির্বাচনেও তাদের সেভাবে ময়দানে দেখা যায়নি। অথচ, ধারাবাহিক আন্দোলনের মাধ্যমে সিপিএম তাদের হারানো জমি অনেকটাই পুনরুদ্ধার করেছে। এই কঠিন পরিস্থিতির মধ্যেও সম্প্রতি জয়পুরেই সিপিএমের পুরুলিয়া জেলা সম্মেলন হয়েছে। তাছাড়া গত লোকসভা নির্বাচনে বাম-কংগ্রেস জোটের প্রার্থী হিসাবে নেপাল মাহাত দাঁড়িয়েছিলেন। সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিমের প্রকাশ্য ঘোষণা সত্ত্বেও ফরওয়ার্ড ব্লক আলাদাভাবে ধীরেন্দ্রনাথ মাহাতকে প্রার্থী করেছিল। ফরওয়ার্ড ব্লক প্রার্থীর প্রাপ্ত ভোট নোটার চেয়েও কম ছিল।

    বর্তমানে দুই শরিকের বিবাদের সূত্রপাত দেওয়াল লিখনকে কেন্দ্র করে। সিপিএম কর্মীরা মাসখানেক আগে থেকেই নিজেদের প্রচারের জন্য এলাকার দেওয়াল চুনকাম করে রেখেছিল। অভিযোগ, ফ্রন্টের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসার আগেই ফরওয়ার্ড ব্লক একতরফাভাবে সেখানে তাদের ‘সিংহ’ চিহ্ন এঁকে দেয় এবং লিখছেন ‘ভাতা নয় স্থায়ী কাজ চায়, জয়পুর বিধানসভায় এই চিহ্নে ভোট দিন’। এর পাল্টা হিসাবে সিপিএম কর্মীরাও ময়দানে নেমে পড়েন। বিভিন্ন জায়গায় ‘কাস্তে-হাতুড়ি-তারা’ আঁকতে শুরু করেন। লেখেন, ‘বাঁচার মতো বাঁচতে জয়পুর বিধানসভায় তারা-হাতুড়ি-কাস্তে’। ফলে এখন জয়পুরে ‘লাল বনাম লাল’-এর সম্মুখ সমর সকলের নজরে।

    এই টানাপোড়েনে দু’পক্ষই নিজেদের যুক্তিতে অনড়। সিপিএম-এর নাম প্রকাশ্যে অনিচ্ছুক স্থানীয় এক এরিয়া কমিটির নেতার কথায়, ‘আবেগ দিয়ে তো আর ভোট হয় না, লড়াই করতে হয় বুথে। গত কয়েক বছর ধরে জয়পুরে ফরওয়ার্ড ব্লকের ঝান্ডা ধরার লোক খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। আমাদের কর্মীরা দাঁতে দাঁত চেপে লড়াই করে সংগঠন টিকিয়ে রেখেছে। তাই জয়ের গ্যারান্টি পেতে এখানে কাস্তে-হাতুড়ি চিহ্নেই লড়াই হওয়া উচিত।’

    ফরওয়ার্ড ব্লকের দাবি, জোট ধর্মের খাতিরেই বামফ্রন্ট এই আসন আমাদের ছেড়ে দেয়। দু’-একটা নির্বাচনে হার মানেই সংগঠনের অস্তিত্ব শেষ হয়ে যাওয়া নয়। যারা দেওয়াল দখল করছে, তারা ফ্রন্টের শৃঙ্খলা ভাঙছে। ফরওয়ার্ড ব্লকের রাজ্য সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য অসীম সিনহার দাবি, ‘রাজ্যস্তরে বামফ্রন্টের আলোচনায় ঠিক হয়েছে, পুরুলিয়া জেলায় আমরা জয়পুর ও বাঘমুণ্ডিতে লড়ব। বাকি আসনগুলিতে সিপিএম লড়বে।’

    সিপিএম-এর জেলা সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য হারাধন বন্দ্যোপাধ্যায় নীচুতলার এই কাজ প্রসঙ্গে বলেন, ‘যারা এই কাজ করেছে, তারা ভুল করেছে। এই আসনে কাদের প্রার্থী হবে, সেটা রাজ্যে বাম ফ্রন্টের পক্ষ থেকে ঘোষিত হবে। তাই আমার পক্ষে কোনো কথা বলা কঠিন। এই মুহূর্তে যেহেতু ঘোষিত হয়নি তাই যাঁরা সিম্বল দিয়ে পোস্টার করছেন তাঁরা ঠিক করছেন না।’
  • Link to this news (বর্তমান)