• জেসপ কোম্পানি খুলতে রাষ্ট্রপতির হস্তক্ষেপ চেয়ে লোকভবনের চিঠি, ফের রাইসিনা হিলসে পাঠানো হল বিল সংক্রান্ত প্রস্তাব
    আনন্দবাজার | ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
  • ঐতিহ্যবাহী শিল্প সংস্থা জেসপ অ্যান্ড কোম্পানি লিমিটেডকে ফের খুলতে চেয়ে রাষ্ট্রপতির দ্বারস্থ হল পশ্চিমবঙ্গ লোকভবন (পূর্বের রাজভবন)। রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোসের তরফে রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর সচিবের কাছে একটি চিঠি পাঠানো হয়েছে, যেখানে ফের একবার ‘জেসপ এন্ড কোম্পানি লিমিটেড বিল ২০১৬’-কে আইনে রূপান্তরিত করার জন্য রাষ্ট্রপতির সম্মতি চাওয়া হয়েছে। এই উদ্যোগকে রাজ্যের শিল্প ভবিষ্যৎ এবং কর্মসংস্থান রক্ষার ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। যদিও, ২০১৬ সালে বিল পাশ হওয়ার পরেই তা রাজ্যপালের কাছে অনুমোদনের জন্য পাঠানো হয়েছিল। সেই বিলটি বিবেচনার জন্য তৎকালীন রাজভবন থেকে পাঠানো হয়েছিল রাষ্ট্রপতির দরবারে। প্রায় দশ বছর হয়ে গেলেও এখনও সেই বিলের অনুমোদন না আসায় খোলা সম্ভব হয়নি জেসপ কারখানা। বিলে জেসপ কারখানা রাজ্য সরকারের তরফে অধিগ্রহণ করে তা আবার চালু করা হবে বলে জানানো হয়েছিল।

    লোকভবনের নথি অনুযায়ী, ৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে পাঠানো ওই চিঠিতে স্পষ্ট ভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, জেসপ অ্যান্ড কোম্পানি লিমিটেডের বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনা করে রাষ্ট্রপতির হস্তক্ষেপ প্রয়োজন। চিঠিতে জানানো হয়েছে, জেসপ অ্যান্ড কোম্পানি বাঁচাও কমিটির পক্ষে শ্রীকুমার বন্দ্যোপাধ্যায় ৩ ফেব্রুয়ারি একটি আবেদন জমা দেন রাজ্যপালের কাছে। সেই আবেদনের ভিত্তিতেই বিষয়টি রাষ্ট্রপতির বিবেচনার জন্য পাঠানো হয়েছে। চিঠিতে লোকভবনের পক্ষ থেকে রাষ্ট্রপতির সচিবকে অনুরোধ করা হয়েছে, যাতে বিষয়টি রাষ্ট্রপতির কাছে পেশ করা হয়। পাশাপাশি, সংশ্লিষ্ট বিলটিকে আইনে পরিণত করার জন্য প্রয়োজনীয় সম্মতি প্রদানের আবেদনও জানানো হয়েছে।

    উল্লেখ্য, জেসপ অ্যান্ড কোম্পানি একসময় পশ্চিমবঙ্গের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শিল্পসংস্থা ছিল এবং হাজার হাজার কর্মীর জীবিকা এই সংস্থার সঙ্গে যুক্ত ছিল। এর আগে, ৪ ফেব্রুয়ারি লোকভবনের ডেপুটি সেক্রেটারি সুমন সালের তরফে জেসপ ইউনিয়নের নেতা শ্রীকুমারকে পাঠানো একটি পৃথক চিঠিতে জানানো হয়, তাঁর আবেদনে উত্থাপিত বিষয়গুলি যথাযথ পদক্ষেপের জন্য বিবেচনাধীন রয়েছে। সেই চিঠিতে বলা হয়েছিল, জেসপ অ্যান্ড কোম্পানি লিমিটেডকে বাঁচাতে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ও আইনি দিকগুলি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। জেসপ বাঁচাও কমিটির নেতা শ্রীকুমার বলেন, ‘‘লোকভবনের তরফে আমরা একটি চিঠি পেয়েছি, যেখানে জেসপ খোলা নিয়ে তাঁরা আবার উদ্যোগী হয়ে রাষ্ট্রপতির দ্বারস্থ হয়েছেন বলে জানিয়েছেন। আমরা আশা করছি দেরিতে হলেও রাষ্ট্রপতি একটি শিল্পসংস্থাকে বাঁচানোর জন্য আমাদের আবেদন মঞ্জুর করবেন।’’

    রাজ্য প্রশাসনের একটি অংশ মনে করছে, যদি বিলটি আইনে পরিণত হয়, তা হলে জেসপ অ্যান্ড কোম্পানির ভবিষ্যৎ নিয়ে দীর্ঘদিনের অনিশ্চয়তা অনেকটাই কাটবে। পাশাপাশি, সংস্থার সম্পদ ও কার্যক্রম পুনরুজ্জীবিত করার পথও খুলে যেতে পারে। শিল্পমহলের মতে, এই উদ্যোগ শুধু একটি সংস্থাকে রক্ষা করার বিষয় নয়, বরং রাজ্যে শিল্প বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করছে। এখন সব নজর রাষ্ট্রপতির সিদ্ধান্তের দিকে। লোকভবনের এই পদক্ষেপের পর জেসপ অ্যান্ড কোম্পানির ভবিষ্যৎ কোন পথে এগোয়, তা নিয়েই জল্পনা শুরু হয়েছে রাজনৈতিক ও শিল্পমহলে।
  • Link to this news (আনন্দবাজার)