লক্ষ্য বিধানসভার নির্বাচন। সে দিকে নজর রেখে মার্চ মাস থেকে সংগঠনের মণ্ডলে-মণ্ডলে যুব ও মহিলাদের নিয়ে সম্মেলনের পথে হাঁটছে সঙ্ঘ পরিবার। অধিকাংশ সম্মেলনে সঙ্ঘের রাজ্যস্তরের 'কার্যকর্তা'রা যোগ দেবেন। তা নিয়ে ইতিমধ্যেই পরিকল্পনা তৈরি করা হয়েছে। তৃণমূল প্রভাবিত এলাকায় যাতে কোনও ভাবেই সম্মেলন বাধার মুখে না পড়ে সে জন্য তা নিয়ে বেশি প্রচারও করতে চাইছে না সঙ্ঘ।
কোচবিহার-সহ উত্তরবঙ্গের একাধিক জেলায় ওই সম্মেলন হবে। যেখানে সরাসরি কোনও ঝান্ডা থাকবে না। সঙ্ঘের কার্যকর্তা'রা সরাসরি কোনও দলকে ভোট দিতেও বলবেন না। কিন্তু কেন্দ্রীয় সরকারের একাধিক জনকল্যাণমূলক প্রকল্পের কথা তাঁরা সম্মেলনে উল্লেখ করবেন।লক্ষ্মীর ভান্ডার ও যুবসাথী প্রকল্প চালু করে বিজেপিকে কার্যত টেক্কা দিয়েছে বিরোধী তৃণমূল। সে কথা মাথায় রেখেই কৌশলে বিজেপিকে এগিয়ে দিতে আসরে নেমে পড়েছে সঙ্ঘ।
রাষ্ট্রীয় স্বয়ং সেবক সঙ্ঘের উত্তরবঙ্গ প্রান্তের এক কার্যকর্তার কথায়, ‘‘আমরা কখনও সরাসরি ভোটের প্রচার করি না। তবে যে বিষয়গুলি আমাদের পছন্দের মধ্যে পড়ে, আমরা তা তুলে ধরি। বিজেপির একাধিক পদক্ষেপ আমরা সমর্থন করি। তাই সম্মেলনে নাম না করে সে প্রসঙ্গ উঠে আসবে।’’এ প্রসঙ্গে তৃণমূলের কোচবিহার জেলার চেয়ারম্যান গিরীন্দ্রনাথ বর্মণ বলেছেন, ‘‘বিভিন্ন ভাবে বিজেপির হয়ে প্রচার করার চেষ্টা হচ্ছে। এই প্রচারও কাজে লাগবে না। কারণ মানুষ তৃণমূলের সঙ্গে আছে।’’
সংগঠন সূত্রেই জানা গিয়েছে, গত এক মাসের বেশি সময় ধরে উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন প্রান্তে 'হিন্দু সম্মেলন' করেছে রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘ। সেখানেও রাজ্য তো বটেই, বাইরে থেকেও সঙ্ঘের দায়িত্বপ্রাপ্তরা উপস্থিত হয়েছিলেন। অভিযোগ রয়েছে, তা নিয়ে কিছু জায়গায় বাধার মুখেও পড়তে হয়েছিল সঙ্ঘকে। যদিও শেষ পর্যন্ত তারা সম্মেলন করতে সমর্থ হয়েছিলেন।
এ বার যুব ও মহিলাদের নিয়ে আলাদা করে সম্মেলনের আয়োজন করা হবে। কোচবিহার জেলায় ৫০টির মতো এমন সম্মেলনের নকশা তৈরি করা হয়েছে। কোন জায়গার পরে কোথায় সম্মেলন হবে তা নিয়ে তৈরি হয়েছে 'ম্যাপ'ও। বিজেপির কোচবিহার জেলার সহ সভাপতি বিরাজ বসু বলেছেন, ‘‘সঙ্ঘ কী নিয়ে প্রচার করবে বিষয় নিয়ে আমরা কিছু বলতে পারব না। বলতে পারি এবারে যুব ও মহিলারা বিজেপিকে ঢেলে ভোট দেবে।"