দুর্গম পাহাড়ি পথে অসুস্থ রোগীকে হাসপাতালে নিয়ে যেতে হত কাঁধে বয়ে। সেই পথ পেরোতে গিয়ে কেউ মারা যেতেন, কেউ বা হতেন আরও অসুস্থ। এ বার বক্সা পাহাড়ের সেই বন্ধুর পথ পেরিয়ে চুনাভাটি গ্রামে একটি আস্ত গাড়ি কাঁধে করে তুলে আনলেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাঁদের চেষ্টায় এই প্ৰথম বক্সা পাহাড়ের কোনও গ্রামে চলবে গাড়ি। বুধবার সেই গাড়ি গ্রামে পৌঁছনোর পরে আনন্দে মেতে ওঠেন বাসিন্দারা।
কালচিনি ব্লক তথা আলিপুরদুয়ার জেলার অন্যতম প্রত্যন্ত পাহাড়ি গ্রাম এই বক্সা। এই বক্সা পাহাড়ের চুনাভাটি গ্রামে পৌঁছতে হলে সান্তালাবাড়ি থেকে গাড়ি করে মাশান খোলা পর্যন্ত যেতে হয়। সেখান থেকে পাঁচ কিলোমিটার বা তারও বেশি পাথুরে, দুর্গম, পাহাড়ি আঁকাবাঁকা পথ পেরিয়ে পায়ে হেঁটে পৌঁছতে হত চুনাভাটি গ্রামে। কেউ অসুস্থ হলে সেই পথেই কাঁধে করে রোগীকে নীচে নামাতে গিয়ে অনেকের মৃত্যু হত রাস্তায়। এক পর্বে গ্রামের বনাধিকার কমিটির সদস্য ও গ্রামবাসীদের মিলিতপ্রয়াসে শুরু হয় গাড়ি চলাচলের রাস্তা তৈরির কাজ। তবে গ্রামটি বক্সা ব্যাঘ্র প্রকল্পের অন্তর্গত হওয়ায় পাকা রাস্তা তৈরিতে বন দফতরের বাধার মুখে পড়তে হত তাঁদের। সেই বাধা এড়াতে কোদাল-বেলচা দিয়ে পাহাড়ি বন্ধুর পথকে কিছুটা সমান করে কিছু দিনের মধ্যেই গাড়ি চলাচলের মতো রাস্তা তৈরি ফেলেন বাসিন্দারা। এবং একটি গাড়িও কিনে ফেলেন তাঁরা।
তবে এর পরেও সমতল থেকে সরাসরি গাড়িতে চুনাভাটি গ্রামে পৌঁছনর উপায় নেই। সান্তালাবাড়ি থেকে মাশান খোলা গাড়ি করে গিয়ে সেখান থেকে প্রায় দেড় কিলোমিটারের হাঁটা পথের পরে ডোলেচেন থেকে চুনাভাটি পর্যন্ত পৌঁছনো যাবে গাড়িতে। ফলে গাড়িটিও পাহাড়ি গ্রামে কী ভাবে পৌঁছবে, তা নিয়ে ছিল সংশয়। এর পরে গাড়ির কিছু যন্ত্রাংশ খুলে, বাঁশের মাঁচা বানিয়ে কাঁধে করে পাহাড়ি গ্রামে এ দিন নিয়ে যাওয়া হয় গাড়িটিকে। স্থানীয় দাওয়া ডুকপা বলেন, "গ্রামের তিন কিলোমিটার রাস্তা আমরা নিজেদের চেষ্টায় বানিয়েছি। কিছু দিনের মধ্যেই আনুষ্ঠানিক ভাবে গাড়ির পরিষেবা চালু করা হবে।’’
এলাকার পঞ্চায়েত সদস্যা তথা ভাতখাওয়া গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধান সোনাম ডুকপা বলেন, ‘‘ডোলেচেন থেকে প্রায় তিন কিলোমিটার বা তারও বেশি পথ পেরিয়ে আমাদের যাতায়াত করতে হত। গাড়ি চলাচলের পরে অনেকটাই সুবিধা হবে। আগামী দিনে গাড়ির সংখ্যা বাড়বে এমনটাই আশা করছি।’’
বক্সা পাহাড়ের গাইড জেমস ভুটিয়ার বক্তব্য, ‘‘চুনাভাটির বাসিন্দাদের এই কর্মকাণ্ডে ওই গ্রামের পর্যটনে প্রসার ঘটতে পারে। দুর্গম পথে হেঁটে যাওয়ার ভয়ে অনেক পর্যটকই গ্রামমুখ হতেন না। এই গাড়ি চলাচল শুরু হলে পর্যটকদের আনাগোনা গ্রামে বাড়বে এমনটাই আশা।’’