‘লক্ষ্মীর ভান্ডার’ হাতিয়ার করে দেওয়াল-লিখন শুরু করেছে তৃণমূল। রাজ্যে ‘বদল’ চেয়ে পাল্টা দেওয়াল লিখন চলছে বিজেপিরও। প্রার্থী ঘোষণার আগেই দেওয়াল ‘দখলে’ মালদহে জোর টক্কর শুরু হয়েছে তৃণমূল, বিজেপির। এমনকি, নির্দল প্রার্থীর সমর্থনেও শুরু হয়েছে দেওয়াল লিখন। অথচ এখনও দেওয়াল লিখন তো দূরের কথা, দেওয়াল দখলই শুরু করতে পারেনি বাম, কংগ্রেস।
এখনও ভোট ঘোষণা না হলেও জেলায় প্রতীক এঁকে তৃণমূল, বিজেপি দেওয়াল লিখন শুরু করেছে। জেলার ১২টি বিধানসভাতেই বুথ-ভিত্তিক দেওয়াল লিখন শুরু করেছে তৃণমূল। তৃণমূলের দাবি, দেওয়ালে লক্ষ্মীর ভান্ডারের বরাদ্দ বৃদ্ধি, যুব সাথী প্রকল্পের প্রচার তুলে ধরা হচ্ছে। তৃণমূলের বিরুদ্ধে দেওয়ালেও জোর প্রচার শুরু করেছে বিজেপি। দলীয় নেতৃত্বের দাবি, বুথ ভিত্তিক দৈনিক পাঁচটি করে দেওয়াল লিখন করা হচ্ছে। রাজ্যে বদলের স্লোগান, প্রতীক আঁকার কাজ চলছে। নাম ঘোষণা হওয়া মাত্র প্রার্থীর নাম লেখা হবে।
২০২১ সালের বিধনসভা ভোটে জেলার ১২টি আসনের মধ্যে তৃণমূল ৮টি ও বিজেপি জয়ী হয় ৪টি আসনে। মালদহ বাম, কংগ্রেসের গড় হিসেবে রাজনীতিতে পরিচিত থাকলেও গত বিধানসভায় জেলায় ভরাডুবি ঘটেছিল দুই দলেরই। তবে লোকসভা ভোটে তৃণমূলকে পেছনে ফেলে দক্ষিণ মালদহে কংগ্রেস জয়ী হয়। উত্তর মালদহে দ্বিতীয় স্থানে উঠে আসে কংগ্রেস। সে ভোটে কংগ্রেসকে সমর্থন করেছিল বামেরাও। এ বার দু’দল পৃথক ভাবে লড়াইয়ের প্রস্তুতি নিয়েছে। তৃণমূল, বিজেপি জোর কদমে দেওয়াল লিখন শুরু করলেও এখনও দেওয়াল দখল করেনি বাম ও কংগ্রেসের। দক্ষিণ মালদহের সাংসদ জেলা কংগ্রেস সভাপতি ইশা খান চৌধুরী এই দিন এই প্রসঙ্গে বলেন, “মানুষের দাবি দাওয়া নিয়ে আমরা সরকারি দফতরে ডেপুটেশন দিচ্ছি। পাড়ায়-পাড়ায় বৈঠক করছি। সময়ে দেওয়াল লিখনও শুরু হবে।” তাঁর সুরে সুর মিলিয়ে বামফ্রন্টের জেলা আহ্বায়ক অম্বর মিত্র বলেন, “তৃণমূল, বিজেপি এজেন্সি দিয়ে দেওয়াল লিখন করাচ্ছে। আমাদের কর্মীরাই দেওয়াল লিখনের কাজ শুরু করবেন।” বাম, কংগ্রেসকে আমল না দিয়ে তৃণমূলের জেলা সভাপতি আব্দুর রহিম বক্সী বলেন, ”দেওয়াল লিখন করতে সংগঠনের প্রয়োজন হয়। যা বাম, কংগ্রেসের নেই।” বিজেপির দক্ষিণ মালদহের সভাপতি অজয় গঙ্গোপাধ্যায় বলেন, “বিজেপির বুথ স্তরের কর্মীরা দেওয়াল লিখন শুরু করে দিয়েছেন।”