• কীর্তনের আসর থেকে ভোগ বিলি, ভোট-বসন্তে শামিল নেতারাও
    আনন্দবাজার | ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
  • ফাল্গুন মাসের রীতি মেনে কীর্তনের আসর বসছে শহরে-গ্রামে। সেই আসরে দেখা মিলছে নেতাদেরও। কেউ খিচুড়ি বিলি করছেন, কেউ বা কপালে রসকলি আঁকিয়েছেন, কেউ আবার সঙ্গে বস্তা কয়েক চাল এনে পৌঁছে দিয়েছেন ত্রিপল টাঙানো পাকশালায়। বসন্ত বাতাস তপ্ত হচ্ছে প্রাক ভোট প্রচারে। দেওয়ালে পোস্টার, ফ্লেক্স লেগেছে। নেতারাও বেরিয়েছেন জনসংযোগে।

    জলপাইগুড়ি শহর লাগোয়া ধাপগঞ্জে কীর্তনের আসরে দেখা গেল বিজেপি নেতাদের। বিজেপির জেলা কমিটির নেতা, কর্মী-সমর্থকদের সঙ্গে হাজির ছিলেন দলের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক বাপি গোস্বামীও। কীর্তনের আসরে মাটিতে বসে বেশ কিছুক্ষণ সময় কাটালেন বিজেপি নেতারা। বাসিন্দাদের সঙ্গেও কথাবার্তা বললেন। নেতাদের দাবি, আমন্ত্রণ ছিলতাই গিয়েছিলেন।

    শিবরাত্রিতে খিচুড়ি প্রসাদ বিলির আয়োজন হয়েছিল জলপাইগুড়ির বাবুপাড়ায়। সেখানে গিয়ে খিচুড়ি বিলিতে হাত লাগালেন জলপাইগুড়ির পুরপ্রধান সৈকত চট্টোপাধ্যায়। প্রসাদের লাইনে তখন ভিড় উপচে পড়েছে। পুরপ্রধান প্রসাদ বিলি করতে-করতেই, জড়ো হওয়া বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বললেন।

    তৃণমূল এবং বিজেপি দুই শিবিরেরই নেতাদের দেখা মিলছে নানা কীর্তনের আসরে, পুজোর আয়োজনে। মুখে কেউ না বললেও ভোটের লক্ষ্যেই জনসংযোগ তা জানা যাচ্ছে দল সূত্রে। তৃণমূলের উন্নয়নের পাঁচালি কর্মসূচি চলছে। সেই কর্মসূচিতে পুরসভার ওয়ার্ডে বা বুথে ছোট ছোট সভা করতে বলা হয়েছে। এলাকার বিশিষ্টদের সঙ্গে দেখা করে তাঁদের নিয়ে সভা করতেও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তৃণমূল সূত্রের খবর, এলাকার কোথাও সামাজিক অনুষ্ঠানে গিয়ে জনসংযোগ করাও কর্মসূচির অঙ্গ। তৃণমূলের পুরপ্রধান সৈকত অবশ্য বলেন, ‘‘জনজীবনের সবরকম সামাজিক অনুষ্ঠানে আমরা শামিল হই। সারা বছর মানুষের পাশেই থাকি। এটি নতুন কিছু নয়।’’

    সূত্রের খবর, এলাকার সব কীর্তন-সহ পুজোর অনুষ্ঠানে যোগ দিতে নির্দেশ এসেছে বিজেপি নেতাদের কাছেও। সঙ্ঘের তরফেও একই কায়দায় জনসংযোগ চলছে বলে দাবি। বিজেপির রাজ্য সাধারণ সম্পাদক বাপি গোস্বামীর মন্তব্য, ‘‘পুজো-কীর্তন সবই আমাদের সংস্কৃতির অঙ্গ। সেখানে ব্যক্তি হিসেবেই আমরা শামিল হচ্ছি। এর সঙ্গে রাজনীতির কোনও সম্পর্ক নেই।’’
  • Link to this news (আনন্দবাজার)