ন’টি বিধানসভা কেন্দ্রে দলের প্রার্থী হতে চেয়ে ইতিমধ্যে ৩৬ জন আবেদন করেছেন, এমনই দাবি পশ্চিম বর্ধমান জেলা কংগ্রেসের। এ বার কংগ্রেস বিধানসভা ভোটে একা লড়বে, এমন সিদ্ধান্তের পর থেকেই লিখিত আবেদন জমা পড়ার হার বেড়েছে বলে নেতাদের অনেকে জানাচ্ছেন।
গত দু’টি বিধানসভা নির্বাচনে বামেদের সঙ্গে আসন সমঝোতা করে লড়াইয়ে নেমেছিল কংগ্রেস। ২০১৬ সালে জেলায় দুর্গাপুর পশ্চিম, আসানসোল উত্তর এবং কুলটিতে বাম সমর্থিত কংগ্রেস প্রার্থীরা লড়াই করেছিলেন। দুর্গাপুর পশ্চিমে ৫৫ শতাংশের বেশি ভোট পেয়ে জয়ী হয় কংগ্রেস। কিন্তু বছর দুয়েকের মধ্যে নির্বাচিত বিধায়ক তৃণমূলে যোগ দেন। সে বার বিধানসভা ভোটে কুলটিতে ২৫.৩৪ শতাংশ এবং আসানসোল উত্তরে ১৭.৩৬ শতাংশ ভোট কংগ্রেস পেয়েছিল।
২০২১ সালে আবার দুর্গাপুর পশ্চিমে কংগ্রেসের ভোট ৯ শতাংশে নেমে আসে। সে বার কুলটি ও বারাবনিতে বামেদের সমর্থনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিল কংগ্রেস। কুলটিতে ৩.৩২ শতাংশ এবং বারাবনিতে ৫.৩০ শতাংশ ভোট মেলে তাদের। ২০১৯ সালে লোকসভা নির্বাচনে আসানসোল এবং বর্ধমান-দুর্গাপুর কেন্দ্রে একা লড়াইয়ে নেমে কংগ্রেস ভোট পেয়েছিল যথাক্রমে ১.৭ শতাংশ ও ২.৬৯ শতাংশ। ২০২২ সালে আসানসোল লোকসভা কেন্দ্রের উপনির্বাচনে একা লড়ে কংগ্রেস ১.৩০ শতাংশ ভোট পায়।
২০২২ সালে পুরসভা নির্বাচনে কংগ্রেস কুলটি থেকে একটি এবং আসানসোল উত্তর থেকে দু’টি ওয়ার্ডে জিতেছিল। এর পরে কুলটির নির্বাচিত কাউন্সিলর তৃণমূলে যোগ দেন। ২০২৩-এর ত্রিস্তর পঞ্চায়েতে কংগ্রেসের কোনও নির্বাচিত সদস্য নেই। ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে আসানসোল ও বর্ধমান-দুর্গাপুর কেন্দ্রে কংগ্রেসের সমর্থনে বামেরা প্রার্থী দেয়। এই লোকসভা নির্বাচনে কুলটিতে ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের তুলনায় কংগ্রেসের প্রাপ্ত ভোট এক হাজারের বেশি কমে গিয়েছে। আবার, বারাবনিতে ভোট ছ’হাজারের বেশি বেড়ে গিয়েছিল। দুর্গাপুর পশ্চিমে প্রাপ্ত ভোট প্রায়ই একই ছিল।
এই পরিস্থিতিতে, এ বার কংগ্রেসের একা লড়াইয়ের প্রস্তুতি চলছে। দলের পশ্চিম বর্ধমান জেলা সভাপতি দেবেশ চক্রবর্তীর দাবি, ২০১১ সাল থেকে কখনও তৃণমূল, কখনো বামেদের সঙ্গে জোট করে আখেরে দলের ক্ষতি হয়েছে। তাঁর কথায়, ‘‘দলের সমর্থকদের একাংশ আসন সমঝোতায় কম আসন পাওয়ার অভিমানে অন্য দলকে ভোট দিয়েছেন। অনেকে অন্য দলে যোগ দিয়েছেন। অথচ, মিছিল-মিটিংয়ে বোঝা যায়, কংগ্রেস মনোভাবাপন্ন অনেক মানুষ আছেন। তাঁরা চান কংগ্রেস একা লড়ুক। দলের কর্মীদের মনোভাব হল, ফল যাই হোক, কংগ্রেসকে একাই লড়তে হবে। তা না হলে দলের অস্তিত্ব হারিয়ে যাবে।’’
জেলা কংগ্রেস সভাপতি জানান, এরই মধ্যে জেলায় ৯টি আসনে প্রার্থী হতে চেয়ে প্রায় ৩৬ জন জীবনপঞ্জি পাঠিয়েছেন। মার্চের দ্বিতীয় সপ্তাহের মধ্যে কলকাতায় দলের কর্মিসভা হবে। এর পরে প্রার্থী নির্বাচন করা হবে। জেলায় আপাতত দু’জন মুখপাত্র নিয়োগ করা হয়েছে। আরও নিয়োগ করা হবে। তিনি বলেন, ‘‘ন’টি বিধানসভা কেন্দ্রেই দলের নেতা-কর্মীরা লড়াইয়ের ময়দানে নামারজন্য প্রস্তুতি নিয়েছেন। খুব শীঘ্রই দেওয়াল লিখনের মাধ্যমে প্রচারের কাজ শুরু হবে।’’