গাইঘাটা ব্লকে সংস্কারের অভাবে বেহাল অবস্থা শতবর্ষ প্রাচীন ছেকাটি শ্মশানের
বর্তমান | ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
সংবাদদাতা, বনগাঁ: শ্মশানে মৃতদেহ দাহ করার লোহার পাটাতন মরচে পড়ে ভেঙে গিয়েছে অনেক আগেই। শ্মশানজুড়ে নোংরা-আবর্জনার স্তূপ। পাঁচিল না থাকায় বহিরাগতদের আনাগোনা দিন কে দিন বেড়ে চলেছে। প্রায় ১০০ বছরের পুরনো গাইঘাটার ছেকাটি শ্মশানের বেহাল দশা দেখে ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী।
ছেকাটি শ্মশানটি রয়েছে গাইঘাটা ব্লকের ডুমা গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায়। এই শ্মশানের অবস্থা এতটাই বেহাল হয়ে পড়েছে যে, এটি দাহকাজ করার পক্ষে অনুপযুক্ত হয়ে পড়েছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রায় ১০০ বছরের পুরনো এই শ্মশানে আশপাশের অন্তত পাঁচ-ছ’টি গ্রাম থেকে মৃতদেহ দাহ করতে নিয়ে আসেন মৃতের পরিজনরা।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, পরিচর্যার অভাব স্পষ্ট। রক্ষণাবেক্ষণের কাজ বহু বছর হয়নি। ফলে মৃতদেহ দাহ করতে মাথার ঘাম পায়ে পড়ে শ্মশান যাত্রীদের। অনেক সময় দাহকাজ সম্পূর্ণ না করেই ফিরে যেতে হয় তাঁদের। তখন আধপোড়া দেহাবশেষ টেনে নিয়ে আসে পথ কুকুরের দল। সেসব আশপাশের এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। যা চরম অস্বাস্থ্যকর পরিবেশের সৃষ্টি করছে। শ্মশানের চারপাশে পাঁচিল না থাকায় দুষ্কৃতীদের আনাগোনা লেগেই রয়েছে। দাহকার্যের পর সেইসব আবর্জনা পাশের খালে গিয়ে ফেলছে মানুষজন। ফলে জলেও ছড়াচ্ছে দূষণ। শ্মশানের একদিকে আবর্জনার স্তূপ তৈরি হয়েছে। শ্মশানের এই হাল দেখে ক্ষুব্ধ বাসিন্দারা।
স্থানীয় বাসিন্দা রীনা হীরা বলেন, শ্মশানে অনেক সময় দেহ আধপোড়া রেখেই চলে যান অনেকে। চারপাশে পাঁচিল না থাকায় সেই দেহাংশ কুকুর মুখে করে পাড়ায় নিয়ে আসছে। স্থানীয় পঞ্চায়েতের দাবি, বিষয়টি আগে কেউ জানায়নি। জানতে পারলে অনেক আগেই হস্তক্ষেপ করা হত। দ্রুত পরিকাঠামোর উন্নয়ন করা হবে। এখানেই প্রশ্ন তুলেছেন গ্রামবাসীরা। তাঁদের বক্তব্য, অভিযোগ না জানানো পর্যন্ত কি পঞ্চায়েতের কর্তারা নিজেরা দেখতে পান না?
এ বিষয়ে গাইঘাটা পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি ইলা বাগচী বলেন, পঞ্চায়েতের সঙ্গে শ্মশানের রক্ষণাবেক্ষণের কাজ নিয়ে আলোচনা হয়েছে। দ্রুত এই কাজ শুরু হবে। বিডিও নীলাদ্রি সরকার বলেন, যে লোহার পাটাতন ভেঙে গিয়েছে, সেটি পঞ্চায়েত সমিতির সঙ্গে আলোচনা করে দ্রুত ঠিক করা দেওয়া হবে। যাতে দাহ কাজ নির্বিঘ্নে করতে পারেন শ্মশান যাত্রীরা। পাঁচিলের বিষয়টিও আলোচনা করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।