• হাওড়ায় প্রোমোটার খুনে এখনও অধরা হারুন-রাফাকাত, আশ্রয় দেওয়ার অভিযোগে আটক তিন
    বর্তমান | ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
  • কলকাতা, ২৬ ফেব্রুয়ারি: হাওড়ায় হাড়হিম করা খুনের ঘটনায় মোট তিন জনকে আটক করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার কলকাতার জোড়াসাঁকো এলাকা থেকে তাদের পাকড়াও করা হয়েছে বলে সূত্রের খবর। যদিও এই অপরাধের মূল অভিযুক্ত হারুন খান ও তার সঙ্গী রাফাকাত হোসেন ওরফে রোহিত এখনও তদন্তকারীদের নাগালের বাইরে। তাদের সন্ধানে তল্লাশি চলছে।

    বুধবার কাকভোরে হাওড়ার পিলখানায় একদা সঙ্গীর হাতেই খুন হয় প্রোমোটার মহম্মদ শফিক। গুলিতে ঝাঁঝরা হয়ে যায় তার শরীর। এই ঘটনায় অভিযুক্ত হারুন ও রাফাকাত ফেরার। তাদের ধরতে ইতিমধ্যে একাধিক স্থানে হানা দিয়েছে পুলিশ। সেই সূত্র ধরে কলকাতার জোড়াসাঁকো এলাকা থেকে তিনজনকে আটক করা হয়েছে। তাদের নাম মহম্মদ বিল্লাল, রিঙ্কু ও মুন্না। এই তিনজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করে ইতিমধ্যে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য তদন্তকারীদের হাতে এসেছে। পুলিশের দাবি, প্রোমোটার শফিককে খুনের পরে হারুন ও রাফাকাত কলকাতায় পালিয়ে এসে এই তিনজনের কাছে আশ্রয় নিয়েছিল। পরে সেখান থেকে অন্য কোথাও গা ঢাকা দেয়। আটক তিনজনের থেকে ফেরার দুই অপরাধী সম্পর্কে আরও নানা গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জানা যেতে পারে বলে তদন্তকারীদের আশা।

    হারুন সম্পর্কে ইতিমধ্যে বেশ কিছু চাঞ্চল্যকর তথ্য তদন্তকারীদের হাতে এসেছে। তার ভারতীয় নাগরিকত্ব নিয়েই উঠেছে প্রশ্ন। তেমনই খুন হওয়া প্রোমোটার মহম্মদ শফিকের ভাবমূর্তিও মোটে স্বচ্ছ ছিল না। প্রাথমিকভাবে তদন্তকারীরা জেনেছেন, তোলাবাজি থেকে অপহরণ— সবেতেই সে ছিল সিদ্ধহস্ত। শাসকদলের ছত্রছায়ায় থেকে অপরাধ করে বেড়াত শফিক। সঙ্গে আগ্নেয়াস্ত্রও রাখত। কোথাও গেলে পিছনে অন্তত ৫০ জনের বাইক বাহিনী যেত। শফিকের বিরুদ্ধে গোটা দশেক মামলা রয়েছে গোলবাড়ি সহ হাওড়ার বিভিন্ন থানায়। গোলাবাড়ি থানার হাতে বার চারেক ধরাও পড়ে। তবে মাথায় শাসকদলের হাত থাকায় অনায়াসে জামিন পেয়ে যায় সে।
  • Link to this news (বর্তমান)