• কৃষকদের স্বার্থ রক্ষায় রাজ্য সরকারের বিশেষ পদক্ষেপ, নির্ধারিত আলুর ন্যূনতম সহায়ক মূল্য
    বর্তমান | ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উদ্যোগে কৃষকদের স্বার্থ রক্ষায় আলু চাষিদের লাভজনক দাম সুনিশ্চিত করার লক্ষ্যে রাজ্য সরকারের বিশেষ পদক্ষেপ। আলুর এবছর ন্যূনতম সহায়ক মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৯৫০/- টাকা প্রতি কুইন্টাল। আজ, বৃহস্পতিবার রাজ্যের মন্ত্রিসভার বৈঠকের পর নবান্নে এই বিষয়ে সাংবাদিক সম্মেলন করেন কৃষি বিশেষজ্ঞ তথা রাজ্যের পঞ্চায়েত মন্ত্রী প্রদীপ মজুমদার। তিনি জানান, ২০১১-সাল থেকেই আলু চাষিদের পাশে দাঁড়াতে পাঁচবার সহায়ক মূল্যে আলু কিনেছে রাজ্য। এর আগে নুন্যতম দর ছিল ৯টাকা প্রতি কিলো। এবার ষষ্ঠতম বার নুন্যতম সহায়ক মূল্যে আলু কেনা হবে।

    আলু সংগ্রহ প্রকল্প (পটাটো প্রোকিওর মেন্ট স্কিম) ২০২৬-এ ১ মার্চ ২০২৬ থেকে ৩১ মার্চ ২০২৬ পর্যন্ত ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক আলু চাষিদের থেকে নূন্যতম সহায়ক মূল্যে আলু সংগ্রহ করার নির্দিষ্ট লক্ষ্যমাত্রা ধার্য্য করা হয়েছে। এই প্রকল্পটি কোল্ড স্টোরেজ মালিকদের মাধ্যমে বাস্তবায়িত হবে। ব্যাপক অংশের আলু চাষির স্বার্থে রাজ্যের সমবায় দপ্তরের আওতাধীন হিমঘরগুলিও এই প্রকল্পে অংশগ্রহণ করবে। তবে কেবলমাত্র সঠিক গুণমানযুক্ত জ্যোতি আলু সংগ্রহ করা হবে। ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক আলু চাষিদের উৎপাদিত আলু সংরক্ষণ সুনিশ্চিত করতে রাজ্যের সকল হিমঘরে ন্যূনতম ৩০ শতাংশ স্থান নির্দিষ্ট করা হয়েছে। এই প্রকল্পে অংশগ্রহণকারী কোল্ডস্টোরেজ ও অন্যান্য সংস্থা আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হলে রাজ্য সরকার যথাযথ ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা করবে বলে জানা যাচ্ছে। আলুর খুচরো দাম স্থিতিশীল রাখতে ও সংগৃহীত আলু প্রয়োজন মত রাজ্যের জনহিতকর সরকারি প্রকল্পে ব্যবহার করবার সুযোগ সৃষ্টি করা হয়েছে। রাজ্যে মুখ্যমন্ত্রীর উদ্যোগে অতীতে ২০১২, ২০১৫, ২০১৬, ২০২১ এবং ২০২৫ সালেও অনুরূপ প্রকল্পের মাধ্যমে আলুর অভাবী বিক্রি রোধ করে কৃষকদের লাভজনক দাম পাওয়া সুনিশ্চিত করা হয়েছিল।

    কৃষকদের জন্য আলু-সহ সকল ফসলের নিখরচায় বাংলা শস্য বীমা, কৃষক বন্ধু, সহায়ক মূল্যে সরাসরি ধান সংগ্রহ ও অন্যান্য সুবিধা দেওয়া হচ্ছে। সুফল বাংলা প্রকল্পের মাধ্যমে রাজ্যের চাষিদের কাছ থেকে আলু-সহ টাটকা এবং তাজা বিভিন্ন সবজি ও অন্যান্য ফসল লাভজনক দামে সংগ্রহ করে বিক্রি করা হয়। রাজ্যের হিমঘরে আলু সংরক্ষণ ৬১ লক্ষ মেট্রিক টন থেকে বেড়ে ৯১ লক্ষ মেট্রিক টন হয়েছে। এছাড়াও পেঁয়াজ উৎপাদন তিনগুণ বাড়িয়ে স্বনির্ভর হওয়ার লক্ষ্যে ১ লক্ষ মেট্রিক টন এর বেশি পেঁয়াজ সংরক্ষণ পরিকাঠামো গড়ে তোলা হয়েছে।
  • Link to this news (বর্তমান)