• শুধু পুজোর সময় নয়, এখন সারা বছর ব্যস্ততা পুজালির কালীপুর পালপাড়ায়
    বর্তমান | ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
  • সংবাদদাতা, বজবজ: এক সময়ে তুবড়ির খোল তৈরির ক্ষেত্র বলে পরিচিত ছিল পুজালি পুরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের কালীপুর পালপাড়া। এখানে কয়েক হাজার মৃৎশিল্পীর বসত। ঘরে ঘরে তুবড়ির খোল তৈরি করেই দিনগুজরান চলত। কালীপুজোর আগে চরম ব্যস্ততা থাকত। কিন্তু সেই পুজোর শেষে সেইভাবে কোনও কাজ হতো না। ফলে আর্থিক সংকটের মধ্যে দিন কাটাতে হতো মৃৎশিল্পীদের। এখন অবশ্য তা অতীত। এখন পালপাড়ার ঘরে ঘরে সারা বছর কাজের চাপ থাকে। তুবড়ির খোলের চাহিদা শেষ হলে তৈরি হয় মাটির কুঁজো, সরা, মালসা, গামলা, চায়ের ভার, মাটির গ্লাস, প্রদীপ, পিঠেপুলি তৈরির সাজ, দইয়ের বড় ও ছোট আকারের হাড়ি ছাড়াও নকশা করা পাত্রসহ আরও হরেক জিনিস। পরিবেশবান্ধব এই সমস্ত জিনিসের কদর দিন দিন এতটাই বেড়েছে যে, জোগান দিতে হিমশিম খেতে হয় এখানকার মৃৎশিল্পীদের।

    এক সময় যখন তুবড়ির খোল ছাড়া অন্য কিছু তৈরি হতো না, তখন পয়সা রোজগারের জন্য অনেকে ভিন রাজ্য যেতেন। কিন্তু এখন সারা বছর কাজ থাকায় সেই ছবিটা পাল্টেছে। তাই বাপ ঠাকুরদার পরম্পরা এই পেশা ছেড়ে এই পালপাড়া থেকে কেউ ভিন রাজ্য যেতে চান না। এমনটাই দাবি পালপাড়ার অধিকাংশ বাসিন্দাদের।

    একেবারে পুজালির পশ্চিমপ্রান্ত ভাগীরথীর তীরে ২ নম্বর ওয়ার্ডের কালীপুর পালপাড়া। এই পাড়ার ভিতর দিয়ে হাঁটার সময় নজরে পড়বে রাস্তার ধারে মাটির তৈরি নানা জিনিস শুকোতে দেওয়া হয়েছে। নদী বাঁধের ধারেও দেখা যাবে কোথাও পোড়া, কোথাও কাঁচা মাটির জিনিস। আর যাঁদের বাড়িতে অনেকটা খোলা জায়গা রয়েছে, তাঁরা ভিতরে উঠোনে শুকিয়ে নিচ্ছেন।

    পালপাড়ার বাসিন্দা গণেশ পাল, মন্টু পাল বলেন, আমাদের এখানে মাটির তুবড়ির খোল তৈরির পেশা বাপ ঠাকুদার সময় থেকে চলে আসছে। প্রতি বছর পুজোর কয়েকমাস আগে থেকে এই খোল তৈরির জন্য দক্ষিণ ২৪ পরগনা ছাড়াও হাওড়া, হুগলি ও উত্তর ২৪ পরগনা থেকে অর্ডার আসত। পুজো শেষ হলেই এর চাহিদা কমে যেত। ফলে এরপর দীর্ঘ সময় গঙ্গায় মাছ ধরে, না হলে অন্য লোকের জমিতে দিনমজুরি করে কাজ চালাতে হতো। বেশ কয়েক বছর আগে এই ছবির বদল হয়েছে। এখন তুবড়ির খোল তৈরির কাজ সারা বছর ধরে চলে। পাইকারি আরতদাররা এখন পুজোর জন্য অপেক্ষা করেন না। এখান থেকে আগাম খোল কিনে নিয়ে গিয়ে মজুত করেন। এখানেও মজুত করা হয়। কারণ পুজোর আগে মাটির দাম বেড়ে যায়। এর পাশাপাশি এখন পরিবেশবান্ধব গৃহস্থালীতে প্রয়োজনীয় মাটির নানা ধরনের পাত্র তৈরি হচ্ছে। এছাড়াও দোকানে ও অনুষ্ঠানবাড়িতে কাজে লাগে, এমন সব মাটির পাত্র তৈরি হয়।
  • Link to this news (বর্তমান)