প্রীতেশ বসু, কলকাতা: ‘জয় বাংলা’ প্রকল্পে বৃদ্ধ-বৃদ্ধা, বিধবা ও বিশেষভাবে সক্ষম এক কোটির বেশি মানুষকে মাসে এক হাজার টাকা করে ভাতা দেয় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার। এবার বার্ধক্য ভাতা প্রাপকের তালিকায় যুক্ত হচ্ছে আরও ১ লক্ষ ২৮ হাজার প্রবীণ নাগরিকের নাম।
জাতীয় সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্পের (এনএসএপি) অধীনে বার্ধক্য ভাতা প্রাপকদের ডিজিটাল লাইফ সার্টিফিকেট (ডিএলসি) এবং অ্যানুয়াল ফিজিক্যাল ভেরিফিকেশনের কাজ চলেছে ২০২৫ সালের শেষ আট মাস। সেই সমীক্ষার ভিত্তিতে আরও ১ লক্ষ ২৮ হাজার উপভোক্তাকে যুক্ত করার সিদ্ধান্ত হয়। ‘পার্মানেন্ট ওয়েটিং লিস্ট’-এ থাকা ওই নামগুলি দ্রুততার সঙ্গে উপভোক্তা তালিকায় এনেও ফেলেছে রাজ্য। ফলে চলতি ফেব্রুয়ারি থেকে নয়া উপভোক্তাদের বার্ধক্য ভাতা দেওয়া শুরু হয়ে গিয়েছে। তবে এর মধ্যে কিছু সংখ্যক বিধবা ভাতা ও বিশেষভাবে সক্ষম ভাতা প্রাপকও রয়েছেন।
এনএসএপি’র অধীনে বাংলায় বার্ধক্য ভাতা প্রাপকের সংখ্যা ২০ লক্ষ ৪৬ হাজার। কেন্দ্র-রাজ্য যৌথ প্রকল্প হলেও এক্ষেত্রে কেন্দ্রের তুলনায় রাজ্যকে অনেক বেশি খরচ বহন করতে হয়। ৬০ থেকে ৮০ বছর বয়সি প্রবীণরা এক হাজার টাকা করে মাসিক ভাতা পান। এই হাজার টাকার মধ্যে কেন্দ্র দেয় মাত্র ৩০০ টাকা। বাকি ৭০০ টাকা দেয় রাজ্য। ৮০ বছরের বেশি বয়সিদের ক্ষেত্রে রাজ্য দেয় ৫০০ টাকা। এক আধিকারিক বলেন, ‘প্রকল্পের কৃতিত্ব নিতে কেন্দ্র কোনো চেষ্টা বাদ রাখে না। কিন্তু এটা স্পষ্ট, রাজ্য সরকারের পদক্ষেপের ফলেই বৃদ্ধ-বৃদ্ধারা মাসে এক হাজার টাকা করে পাচ্ছেন।’
প্রসঙ্গত, দু’বছর আগে বিশেষ সমীক্ষায় জানা যায়, আরও সাড়ে সাত লক্ষ প্রবীণ নাগরিককে এই প্রকল্পের আওতায় আনা যেতে পারে। তাঁদের নাম ‘পার্মানেন্ট ওয়েটিং লিস্ট’-এ যুক্ত করে রাজ্য। সেই অনুযায়ী রাজ্যের উপভোক্তা কোটা ২০ লক্ষ ৪৬ হাজার থেকে বাড়িয়ে ২৮ লক্ষ করার আবেদন জানানো হয় কেন্দ্রকে। কিন্তু দু’বছর কেটে গেলেও মোদি সরকার এনিয়ে উদাসীন।