• সরানো হচ্ছে রামচন্দ্রপুর ভাগাড়ের আবর্জনা, ফাঁকা স্থানে প্লাস্টিক প্লান্ট
    বর্তমান | ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, বরানগর: পাহাড়ের মতো উঁচু ভাগাড়। দুর্গন্ধে নাভিশ্বাস উঠত শহরবাসীর। দীর্ঘ আন্দোলনে নেমে শহরের একমাত্র ভাগাড়ে ময়লা ফেলা বন্ধ করতে পুরসভাকে বাধ্য করেছে এলাকাবাসী। কিন্তু কয়েক দশকের জমা আবর্জনার দুর্গন্ধ দূর হয়নি। অবশেষে ওই ভাগাড়ের আবর্জনা সরিয়ে ফেলার কাজ শুরু হয়েছে। এতে পানিহাটি জুড়ে এখন খুশির হাওয়া। এটা কেএমডিএর উদ্যোগ। প্রায় ১ লক্ষ ২৪ মেট্রিক টন আবর্জনা সরানো হবে। এতে খরচ হবে প্রায় সাড়ে ছয় কোটি টাকা। রামচন্দ্রপুর ভাগাড়ের দুঃস্বপ্ন অতীত হতে চলেছে আগামী জুনের মধ্যে। ওই ফাঁকা জমিতে আগামী দিনে প্লাস্টিক জাতীয় সামগ্রী প্রক্রিয়াকরণের প্লান্ট বসানো হবে। তাতে হবে বেশকিছু কর্মসংস্থানও।
    পানিহাটি শহরের রামচন্দ্রপুরের ডাম্পিং গ্রাউন্ড শতবর্ষ প্রাচীন। গত চারদশকে ২৩ নম্বর ওয়ার্ডের ওই ডাম্পিং গ্রাউন্ডের পাশে ফাঁকা জমিতে বহু বসতি গজিয়ে উঠেছে। ভাগাড়ের দুর্গন্ধে এলাকাবাসী অতিষ্ঠ হচ্ছিলেন। ২০২৪-এর জানুয়ারি থেকে টানা আন্দোলনে নামেন তাঁরা। পুরসভার আবর্জনা ফেলা সম্পূর্ণরূপে বন্ধ করে দেওয়া হয়। ফলে সারা শহর ডাম্পিং গ্রাউন্ডের রূপ নিয়েছে। ইতিমধ্যে বিলকান্দা-১ গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় পুরসভার নতুন ডাম্পিং গ্রাউন্ডের কাজ শুরু হয়েছে। সেটি শেষ হলে শহরের জঞ্জাল সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে। কিন্তু রামচন্দ্রপুর ভাগাড় থেকে পাহাড়ের আকার নেওয়া স্তূপীকৃত আবর্জনা সরানোর দাবি জানিয়েছিল নাগরিকরা।

    প্রতিশ্রুতি মতোই এমাসের মাঝামাঝি থেকে সেই কাজ শুরু হয়েছে। কেএমডিএর ৬ কোটি ৪২ লক্ষ টাকার এই কাজের জন্য ঠিকাদার সংস্থা বিশালার ট্রমেল মেশিন বসিয়েছে। আবর্জনা ওজন করে ওই মেশিনে দেওয়া হচ্ছে। তার আগে কাদা, মাটি ও প্লাস্টিক জাতীয় সামগ্রী আলাদা করা হচ্ছে। মাটি পাঠানো হচ্ছে ভরাটের কাজে। আর প্লাস্টিক চলে যাচ্ছে ওড়িশার সিমেন্ট ফ্যাক্টরিতে। পানিহাটি পুরসভার চেয়ারম্যান সোমনাথ দে বলেন, কেএমডিএর আর্থিক সহায়তায় রামচন্দ্রপুর ভাগাড়ের যাবতীয় জঞ্জাল সরিয়ে ফেলার কাজ শুরু হয়েছে। আগামী চারমাসের ভিতরে এই কাজ সম্পন্ন হলে শহরের মধ্যে ভাগাড় সমস্যা পুরোপুরি দূর হবে। ভাগাড়ের জমির পরিমাণ প্রায় ১৩ বিঘা। আগামী দিনে ওই জমি ব্যবহৃত হবে বর্জ্য প্লাস্টিক প্রক্রিয়াকরণ ইউনিট তৈরিসহ নানা উন্নয়নমূলক প্রকল্পে। কর্মসংস্থানও হবে। কথা রাখার ব্যাপারে আমরা আন্তরিক।
  • Link to this news (বর্তমান)