• আদালতে হুমকি মেইল: উৎসের সন্ধানে তামিলনাড়ুতে পুলিশ, প্রক্সি সার্ভারে রহস্য
    বর্তমান | ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা, বহরমপুর ও আসানসোল: কলকাতাসহ রাজ্যজুড়ে সাত আদালতে বোমাতঙ্কের হুমকি মেইল। বিচারকদের মেইল আইডিতে কারা পাঠাল সেই ভুয়ো মেইল? নেহাতই আতঙ্ক ছড়ানো উদ্দেশ্য, না নেপথ্যে রয়েছে কোনো বড়ো ষড়যন্ত্র? জানতে তদন্তে নেমেছে রাজ্য পুলিশ। সেই তদন্তেই বুধবার তামিলনাড়ু যান গোয়েন্দারা। কিন্তু, শূন্য হাতেই ফিরতে হল তাঁদের। তামিলনাড়ু থেকে হুমকি মেইলের উৎস খুঁজে পাওয়া যায়নি বলেই পুলিশ সূত্রের খবর। গোয়েন্দারা রাজ্যে ফিরে আসছেন।

    তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, মঙ্গলবার যে হুমকি মেইল গুলি এসেছিল সেগুলির প্রেরকের সার্ভার তামিলনাড়ুতে অবস্থিত বলে জানতে পারেন তদন্তকারীরা। কিন্তু, সেখানে গিয়ে জানা গিয়েছে, সেই লোকেশনে কেউ থাকেই না। সব মেল পাঠানো হয়েছে প্রক্সি সার্ভার থেকে। প্রেরকের আসল লোকেশন এখনো পর্যন্ত তদন্তকারীদের হাতে আসেনি। সাইবার বিভাগের আধিকারিকরা প্রেরকের লোকেশন খুঁজছেন। অন্যদিকে, মঙ্গলবারের পর ফের বোমাতঙ্কের মেইল এসেছে মুর্শিদাবাদ জেলা আদালত ও আসানসোল আদালতে। তার জেরে দুই আদালত চত্বরে ফের আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। নিরাপত্তার স্বার্থে ফের তল্লাশি অভিযান চালানো হয় দুই জেলা আদালতেই।

    মঙ্গলবার সকালে বহরমপুরে মুর্শিদাবাদ জেলা আদালতের জেলা জজের ই-মেলে বিচারকদের ‘হুমকি’ দিয়ে বোমা রাখা রয়েছে দাবি করে একটি মেইল আসে। এই ঘটনার পর ব্যাপক শোরগোল পড়ে যায় মুর্শিদাবাদে জেলা আদালতে। দিনভর তল্লাশি চালিয়েও কোনো বোমা মেলেনি। ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ তড়িঘড়ি সক্রিয় হয়ে আদালত চত্বর খুঁজে দেখে। বম্ব ডিসপোজাল ইউনিটের সদস্যরা আদালতে বিভিন্ন জায়গায় ডিপ সার্চ মেটাল ডিটেক্টর দিয়ে তল্লাশি চালায়। তবে কোনো বোমার হদিশ মেলেনি। আদালত চত্বর নিরাপত্তার চাদরে মুড়ে ফেলা হয়েছে। জেলা পুলিশের এক শীর্ষ আধিকারিক বলেন, গতকালের পর এদিনও বোমাতঙ্কের একটি মেইল এসছে। এই বোমাতঙ্কের মেইল কারা ছড়াচ্ছে তা আমরা খোঁজ করছি। শুধু এরাজ্যে নয়। বিভিন্ন রাজ্যে এরকম মেল পাঠানো হচ্ছে। এর উদ্দেশ্য কী, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। একইসঙ্গে এদিন হুমকি মেইল পেলেন আসানসোল আদালতের চিফ অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ অফিসার ভরত দাস। এদিন ফের আদালত চত্বরে খানা তল্লাশি করা হয়। আনা হয় একাধিক স্নিফার ডগ, বম্ব স্কোয়াড। তামিলনাড়ুতে শিশুকন্যাদের যৌননির্যাতনের অভিযোগ তুলে তার বদলা নিতে হুমকি মে‌ইল পাঠানো হয় আসানসোল কোর্টে। তদন্তকারী অফিসারদের দাবি, আটঘাট বেঁধেই দুষ্কৃতীরা ইমেইল করছে। তার ফলে সহজে তাকে চিহ্নিত করা যাচ্ছে না।
    প্রথমদিন মেইল করা হয়েছিল হটমেইল থেকে। এদিন মেইলটি এসেছে আউটলুকের আইডি থেকে। পুলিশ দুটি সংস্থার কাছেই আইডি যাচাই করতে চিঠি দিয়েছে। কোর্টে বারবার এই ধরনের হুঁশিয়ারিতে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ছে আইনজীবী থেকে বিচারপ্রার্থীদের মধ্যে। ডিসি ধ্রুব দাস বলেন, আমরা পুরো বিষয়টি তদন্ত করে দেখছি। আসানসোল কোর্টের চিফ অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ অফিসার ভরত দাস বলেন, হুমকি মেইলটি নজরে পড়তে আমার ঊধ্বর্তন কর্তৃপক্ষও পুলিশকে জানায়। আদালত চত্বরে এবং এজলাসগুলিতে পুলিশ দ্রুত তল্লাশি করে। তবে কিছুই পাওয়া যায়নি।
  • Link to this news (বর্তমান)